সুইডেনে বন্ধুকে বলে ভ্যান

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ

ভ্যান

বাংলাদেশে থাকতে এ বন্ধু শব্দটি সম্পর্কে মোটামুটি একটি ধারণা ছিল। সুইডেনে আসার অনেকদিন পরে বন্ধুর ডেফিনেশন এবং প্রকৃতপক্ষে বন্ধু কি সে বিষয়ে একটি ভাল ধারণা হয়েছে। এখানে বন্ধু ছাড়াও আরো অনেক শব্দ ব্যবহার করা হয়ে থাকে, যেমন পুলারে (সাথী), কমপিস (দোস্ত), কামরত (সহচর), আর্বেটস কামরত (সহকর্মী) বা বেশতা ভ্যান (সেরা বন্ধু)।

বেশতা ভ্যান মানে রিয়েল ফ্রেন্ড বা সেরা বন্ধু। আমি এমন একজন বন্ধু হতে বা পেতে চাই যে আমার বন্ধু সব সময়ের জন্য। সুইডিশ ভাষাতে বলে ‘vän finner när solen skiner eller när det regnar’! যার মানে A friend in need’s a friend indeed. বা বাংলায় বলে বিপদের বন্ধুই প্রকৃত বন্ধু।

আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ওপর আজ বর্ণনা করব বন্ধু কি, কত প্রকার বন্ধু জীবনে দেখেছি কিন্তু পেয়েছি কি একজন সেরা বন্ধু জীবনে? ইংরেজী এবং বাংলাতে বেশ পরিষ্কার যে বিপদের সময় যে কাছে থাকে সেই প্রকৃত বন্ধু। সুইডিশরা বিষয়টি একটু ভিন্নভাবে দেখে। এদের কাছে শুধু বিপদে নয় ভালো সময়েও এরা বন্ধুকে কাছে পেতে চায়।

আমি আমার জীবনে দেখেছি পরিবার থেকে শুরু করে স্কুল পরে বিদেশ এবং কর্মে যেখানেই হোক না কেন সম্পর্ক নয় অবস্থানে ওপর নির্ভর করছে বন্ধুত্বের গভীরতা। বাংলাদেশে যখন থেকেছি নানা ধরণের বন্ধু ছিল। বলতে গেলে বেশির ভাগই দোস্ত বা সাথী যদি তুলনা করি বর্তমানের সঙ্গে। সুইডেনের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন বেশীর ভাগই দোস্ত বা সহচর ছিল। কর্মজীবনে সবাই সহকর্মী। ছোটবেলার সেই বাল্যবন্ধু থেকে শুরু করে আজ অব্দি ধরণের সম্পর্ক আমার জীবনে হয়েছে।

কাউকে ছোট বা বড় করে দেখিনি। কারো বিপদে সাহয্যের হাত বাড়িয়ে দিতে চেষ্টার ত্রুটি করিনি বা কারো সুখের সময় শুধু তার সঙ্গে থাকিনি। তারপরও সেরা বন্ধু কতজন পেয়েছি তা নিয়ে পড়েছি ভাবনায়! আমি মনে করি একজন ভালবন্ধু মানে যাকে বিশ্বাস করা যায়।

যার সঙ্গে মনের কথা প্রাণ খুলে বলা যায়। যার সঙ্গে কথা বলতে কোন জটিলতা দেখা দেয় না।যার সঙ্গে কথা বলতে বা মিশতে সারাক্ষণ ভাবনায় পড়তে হয় না। যে কষ্ট দেয় না বা ছোট করে দেখে না। যে অর্থ বা সাফল্যের কারণে ঘোরাঘুরি করে না।

যে ভালবাসতে কৃপনতা করে না। যে বকা দিতে দ্বিধাবোধ করেনা যদি সে মনে করে বকা দেবার মত কাজ করেছি। যে পরশ্রিকাতর হয়না বা হিংসা করেনা। এসব গুনে গুনান্নিত কতজন বন্ধু আমাদের জীবনে আছে তা আমি জানিনে।

আমি যদি আমাকে নিয়ে ভাবি, পড়ি কি আমি এসব গুনের মধ্যে! আমার গুনাগুনের দায়ভার ছেড়ে দিলাম তাদের কাছে যাদের সঙ্গে আমার উঠাবসা। একটি জিনিস না বল্লেই নয় তা হলো অনেক বন্ধু আছে তারা সত্যিকার অর্থে বলতে হয় ‘গুঁড ফর নাথিং’, তবে সমাজে চলতে হলে এদের বাদ দিয়ে চলা যাবে না। আমার একটি বদনাম আছে তা হলো আমি নাকি খুব সহজেই বন্ধুদের বড় করে তুলে ধরি।

কথাটি সত্য কারণ আমি মনে করি তারা আমার বন্ধু তাই। ধারণার সঙ্গে কর্মের অমিলের কারণে স্বাভাবিকভাবেই বন্ধু আর বন্ধু থাকে না। স্বার্থের টানে প্রিয়জন যখন দূরে সরে চলে যায় তখনই কিন্তু সেই প্রিয়জন হয় অপ্রিয়। আমার কর্মজীবনের বেশ একটি সময়ে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তা ছিল বন্ধুত্ব গড়া থেকে কীভাবে একজন শত্রু এলিমিনেট করতে হবে। একজন শত্রুকে যদি ভালোবাসা এবং বিশ্বস্ততা দিয়ে জয় করতে পারি তাহলে সে ভাল বন্ধু না হলেও শত্রু থাকবে না এবং সম্ভব হয়েছিল এলিমিনেট করা।

একজন বেইমান বন্ধুর চেয়ে একজন সত্যিকারে শত্রু অনেক শ্রেয়। তবে আমি আজ কিছু বাংলাদেশের বন্ধুদের কথা তুলে ধরবো যাদেরকে আমি মনে করি তারা আমার উপরের যে দিকগুলো তুলে ধরেছি তার মধ্যে পড়ে। আমি দূরপরবাসে থেকে নানা ধরণের কাজের সঙ্গে জড়িত। যদিও বেশির ভাগ কাজগুলো সমাজের অবহেলিত মানুষদের নিয়ে।

তারা হয়তবা ধরে নিতে পারে আমি তাদের বন্ধু, কারণ বিপদে আমি আমার হাত বাড়িয়ে দেই তাই। কিন্তু আমি তো শুধু বিপদের বন্ধু হতে চাই না? বিপদের বন্ধুত্বে রয়েছে এক্সপেক্টেশন। আমি বন্ধু হতে চাই শুধু দু:খে নয়, বন্ধু হতে চাই সুখের বন্ধনে ভালোবাসার সমন্বয়েও।

নাম না বলি, তবে সত্যি আমি অনেক সুন্দর মনের বন্ধুদের পেয়েছি তারা শুধু নিতে নয় দিতে শিখেছে। তারা প্রমাণ করে চলেছে তাদের মহানুভবতার। তারা তাদের মরাল ভ্যালু এবং মানবতাকে ধরে রেখেছে শক্ত করে।

কারণ আমার বিশ্বাস এরা বন্ধুত্বের বন্ধনকে ভালোবাসা দিয়ে বেঁধেছে। যে বন্ধুত্বে ভালোবাসার ছোয়া জড়িত সে বন্ধুত্ব নষ্ট হয় না। সেরা বন্ধুর দরকার নাই, ভালোবন্ধু হতে এবং পেতে চাই। আমি নিজেকে আপ্লুত মনে করছি এই ভেবে যে দূরে থাকি তবুও পেয়েছি অনেক ভালবন্ধু। আসছে বন্ধু দিন, ভালবাসার দিন। এসো বন্ধু কাছে এসো, ধরো শক্ত করে ধরো যেন অন্ধকারে হারিয়ে না যায়। বন্ধুরা, আমি ভালোবাসি তোমাদের।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×