ভিয়েনায় একুশে ফেব্রুয়ারি

  হাসান তামিম, অস্ট্রিয়া থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২৩:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

অস্ট্রিয়া

২১ শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং শহীদ দিবস। আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালন করা হয়।

তবে বাংলাদেশিদের জন্য এ দিবসটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারন ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবিতে আন্দোলনরত বাংলার সাধারণ ছাত্র জনতার উপর পুলিশের গুলিবর্ষনে কয়েকজন তরুন শহীদ হন।

উল্লেখ্য, ২০০০ সাল থেকে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে আসছে এবং ২০১০ সালের ২১ অক্টোবর জাতিসংঘের ৬৫তম সাধারণ অধিবেশনে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয় জাতিসংঘ।

মূলত আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবসে সবাই বাংগালী জাতির এ আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে থাকে। কারন পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র বাংলাদেশিরা মাতৃভাষার জন্য নিজেদের জীবন উথসর্গ করেছেন। বিদেশের মাটিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং শহীদ দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন আয়োজন করে থাকে।

কিন্তু বিদেশের মাটিতে নতুন প্রজন্মরা বাংলাভাষা কতটুকু শিখতে পারে? অনেক তরুন প্রজন্ম বিদেশে বড় হলেও বাংলাভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি ব্যাপক আগ্রহ এবং ভালোবাসা লক্ষ করা যায়। মধ্য ইউরোপের পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত ভিয়েনা তথাপি অস্ট্রিয়াতে সব মিলিয়ে ৮ থেকে ৯ হাজার বাংলাদেশির বসবাস।

তবে তরুন প্রজন্ম অর্থাৎ যারা এখানেই জন্মগ্রহন করেছে এবং বেড়ে উঠেছে তাদের সংখ্যা বেশি বলা চলে। তরুন প্রজন্ম বাংলাভাষা যতটুকু শিখেছে তাদের বাবা মার কাছ থেকেই শিখেছে। বলে রাখা ভালো এখানে কোন বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

সুতরাং তরুন প্রজন্ম যারা বড় হচ্ছে এবং যারা বাংলা সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারনা পাচ্ছে সবই তাদের বাবা মার অবদান।

তবে লক্ষনীয়, এদেশে বেড়ে উঠা তরুন প্রজন্মের বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা লক্ষ করা যায়। প্রতি বছর ২১ শে ফেব্রুয়ারি ভিয়েনাস্থ তরুন প্রজন্ম ছাড়াও সকল প্রবাসী বাংলাদেশিরা অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পন করার মাধ্যমে ভাষা শহীদদের স্মরণ করে থাকে।

২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে বেশ কয়েকটি প্রবাসী বাংলাদেশি সংগঠন ছাড়াও ভিয়েনাস্থ বাংলাদেশ দুতাবাস আলোচনাসভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদযাপন করে থাকে।

তবে এখন পর্যন্ত ভিয়েনাতে কোন স্থায়ী শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এমনকি বাংলাভাষা চর্চা তথাপি তরুন প্রজন্মকে বাংলাভাষা শিক্ষা দেয়ার জন্য স্থায়ীভাবে বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ভিয়েনা শহরে ৫ টি বাংলাদেশি মসজিদ রয়েছে, যেখানে বাচ্চাদের আরবি শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা শিক্ষা দেয়া হয়।

কিন্তু অভিভাবকরা বলেছেন বাংলা শিক্ষার জন্য এটি পর্যাপ্ত নয়। তবে বাংলা স্কুল করার জন্য ভিয়েনাস্থ বাংলাদেশি বিভিন্ন সংগঠনসহ বাংলাদেশ দূতাবাস চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিশেষ করে ভিয়েনাস্থ প্রবাসী বাংলাদেশিদের বড় সংগঠন বাংলাদেশ অস্টিয়া সমিতি ভিয়েনাস্থ বাংলাদেশ দুতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। অতি দ্রুত বাংলাদেশি তরুন প্রজন্ম বাংলাভাষা শিক্ষার জন্য একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

ভিয়েনাস্থ প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্থায়ী শহীদ মিনারের ব্যাপারে ভিয়েনাস্থ মিউনিসিপাল অফিস এবং বাংলাদেশ দুতাবাস বরাবর আবেদন করেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ দুতাবাসের দূতালয় প্রধান রাহাত বিন জামান বলেন স্থায়ী শহীদ মিনারের ব্যাপারে ইতিমধ্যে ভিয়েনা মিউসিপাল অফিসের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং খুব শিঘ্রই ভিয়েনাস্থ বাংলাদেশিরা একটি স্থায়ী শহীদ মিনার পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

ভিয়েনাতে খুব বেশি বাংলাদেশির বসবাস না হলেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা জাতীয় দিবসগুলো ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে পালন করে থাকে, যাতে করে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বাংলাদেশের ইতিহাস, ভাষা এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারে।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×