কানাডায় আসতে হলে ড্রাইভিং জানা জরুরী

  মোহাম্মদ সাকিবুর রহমান খান, কানাডা থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৩:৪৭ | অনলাইন সংস্করণ

ড্রাইভিং

পৃথিবীর প্রায় সব দেশ থেকে কানাডায় প্রতিবছর তিন লাখ ইমিগ্রেন্ট স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। আগামী ৩ বছরে কানাডা আরও অতিরিক্ত ১ লক্ষ লোক তাদের দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আমন্ত্রন জানাবে।

এর মাঝে প্রতি বছর গড়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বাংলাদেশি এ দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। তাছাড়া পড়াশুনা করতে কানাডা আসে আরও কয়েকগুন। কানাডায় গাড়ী বা প্রাইভেট কার কোন বিলাসিতা নয়। প্রয়োজনের কারনে মানুষকে গাড়ী ব্যবহার করতে হয়। কানাডায় প্রায় সবাই নিজের গাড়ী নিজে চালায়। অর্থাৎ বাংলাদেশের মতন ড্রাইভার কারো নেই। কানাডার নতুন ইমেগ্রেন্টদের ক্ষেত্রে ড্রাইভিং ভীতি কাজ করে।

বাংলাদেশ থেকে যারা আসেন তাদের ক্ষেত্রে এ ভীতি একটু বেশি। এর বিভিন্ন কারন রয়েছে, প্রথমত: বাংলাদেশ থেকে যারা আসেন তারা দেশে গাড়ী ব্যবহার করলেও নিজেরা বাংলাদেশে গাড়ি চালাতেন না, ড্রাইভার রেখে গাড়িতে চড়তেন। দ্বিতীয়ত: যারাও চালাতেন তারা বাংলাদেশের ধীরগতির রাস্তায় চালিয়ে অভ্যস্ত।

কানাডার গতিময় চালনা অনেকের কাছে ভীতিকর। তৃতীয়ত: কানাডার গাড়ি চালনার নিয়ম আর বাংলাদেশের নিয়ম সম্পূর্ণ ভিন্ন। এ দেশে গাড়ি চলে রাস্তার ডান দিক দিয়ে আর বাংলাদেশে বাম দিক দিয়ে। বাংলাদেশের ড্রাইভিং সিট ডান দিকে আর কানাডাতে বাম দিকে। চতুর্থত: কানাডায় ড্রাইভিং আইন খুব কঠিন। একটু উনিশ - বিশ হলেই শতশত ডলার জরিমানা গুনতে হয়।

কানাডায় বসবাসরত নতুন বাংলাদেশিদের মাঝে একটি কথা প্রচলিত আছে তা হচ্ছে , ‘এ দেশে নাগরিকত্ব পাওয়ার চেয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া আরও কঠিন।’ যেহেতু লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো স্বজনপ্রীতি নাই তাই অনেকে ১০/১২ ফিল্ড টেস্ট দিয়েও পাশ করতে পারে না। কানাডায় ফিল্ড টেস্টস্টের আগে একটি নলেজ টেস্ট ও দিতে হয়। এ নলেজ টেস্ট এম সি কিউ টাইপের। নলেজ টেস্টের পাশ করতে হলে ৮০ ভাগ নম্বার পেয়ে পাশ করতে হয়। বাংলাদেশি নারীরা ড্রাইভিংয়ের ক্ষেত্রে বেশ পিছিয়ে আছে।

দীর্ঘ দিন বসবাস করার পরেও অনেক মহিলা ড্রাইভিং পরীক্ষা দিতে ভয় পান। ড্রাইভিং এর দুর্বলতার আরও একটি কারন এ দেশে ইন্সট্রাকটরদের কাছে ড্রাইভিং শিখা একটু ব্যয়বহুল। এক ঘন্টার একটি লেসন নিতে প্রায় ৫০ ডলার খরচ হয়ে যায়।নতুন ইমিগ্রেন্টদের ক্ষেত্রে নতুন পরিবেশে এসে শুধু গাড়ী চালানো শেখার জন্য হাজার ডলার খরচ করা কষ্টকর হয়।

বাংলাদেশ থেকে যারা কানাডা আসার প্ল্যান করছেন তারা দেশ থেকে গাড়ী চালানো শিখে আসতে চেস্টা করবেন। প্রকৃতভাবে পরীক্ষা দিয়ে পাশ করে একটি ভ্যালিড ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে আসবেন এবং যে প্রদেশে আসবেন ওয়েব সাইটে গিয়ে সেই প্রদেশের ড্রাইভিং টেস্টের নলেজ টেস্টের বইটা সম্পূর্ণভাবে পড়ে আসবেন। এদেশে এসে প্রথম কাজটি হওয়া উচিত নলেজ টেস্ট এ পাশ করা। বাংলাদেশি লাইসেন্স থাকলে আসার পরে ৩ মাস পর্যন্ত বাংলাদেশি লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি চালানো যায়। তবে রাস্তায় নামার আগে অবশ্যই নলেজ টেস্টে পাশ করতে হবে। আসার ৩ মাসের মাঝে ফিল্ড টেস্টে পাশ না করলে বাংলাদেশি লাইসেন্স দিয়ে আর গাড়ী চালানো যাবে না।

কিছু ব্যস্ততম এলাকা ছাড়া কানাডার রাস্তা সব সময় ফাঁকা থাকে। কিন্তু এর মাঝে অনেক নিয়ম মেনে চলতে হয়। আপনি যদি কোন পাড়া - মহল্লায় গাড়ি চালাতে যান তাহলে যখনই ৩ রাস্তা বা ৪ রাস্তার মোড় পড়বে তখন স্টপ সাইন পড়বে। কোন গাড়ি থাক বা না থাক আপনাকে প্রতিটা স্টপ সাইনে ৪ সেকেন্ড থামতে হবে। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় সি সি ক্যামেরা লাগানো থাকে। পুলিশ নরমাল গাড়ি নিয়ে ক্যামেরাসহ বিভিন্ন জায়গায় বসে থাকে। একটু এ দিক সেদিক হলে শতশত ডলার জরিমানার চিঠি চলে আসে বাসায়। এ দেশে স্কুল এলাকায় গাড়ি চালানো এক কথায় বিপদজনক। স্কুলের আশেপাশে ৩০ কিলোমিটার বেশি গতিতে গাড়ি চালানো যায় না। স্কুল এলাকায় কেউ স্পিড লিমিট ভাঙলে কয়েকগুন জরিমানা গুনতে হয়। তাছাড়া কোনো স্কুলবাস যদি ছাত্রছাত্রীদের উঠানো নামানোর জন্য কোথাও থামে তখন দুই দিকের গাড়ি থামিয়ে দিতে হয়। এ নিয়ম ভাঙলে অনেক জরিমানা দিতে হয়।

অন্যদিকে হাইওয়েতে গাড়ির গতিসীমা ঘন্টায় ১০০ কিলোমিটার। ৫কিলোমিটার গতির এ দিক সেদিক হলে আর কোনোভাবে ধরা পরলে জরিমানা গুনতে হয়। আবার শহরের মধ্যে এমন অনেক রাস্তা আছে যেখানে ১ কিলোমিটারের মাঝে ৩ ধরণের স্পিড লিমিটে গাড়ী চালাতে হয়। যদিও স্পীড লিমিটের সাইন রাস্তায় দেয়া থাকে।

বাজার করা, অফিসে যাওয়া, সন্তানদের স্কুলে নেয়া, কোথাও যেতে গাড়ীর প্রয়োজন। এ দেশে বাংলাদেশের ন্যায় বিভিন্ন ধরনের যানবাহন নেই। ট্যাক্সি ভাড়া কানাডাতে অনেক বেশি। তাছাড়া বিভিন্ন চাকরি পেতে ড্রাইভিং লাইসেন্স সাহায্য করে। অনেক প্রতিষ্ঠান ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া চাকরি দেয়না। কানাডাতে গাড়ী মানুষের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।

গাড়ির দাম খুব একটা বেশি না। বিভিন্ন ধরণের গাড়ি কিনতে পাওয়া যায়। কপাল ভালো থাকলে মাত্র এক হাজার ডলার দিয়েও পুরাতন গাড়ী কিনতে পাওয়া যায়। তেলের দামও বেশ সস্তা।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×