ইসলামিক স্টেটে যোগ দিতে আসা শামিমার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল

  জুবায়ের আহমেদ, লন্ডন থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৪:১৫ | অনলাইন সংস্করণ

নাগরিকত্ব বাতিল

ব্রিটেন থেকে ইসলামিক স্টেটে যোগ দিতে সিরিয়ায় পালিয়ে যাওয়া বাংলাদেশি বংশোদভূত শামিমার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করলো হোম অফিস। মঙ্গলবার শামিমার মা এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পেয়েছেন।

হোম সেক্রেটারীর পক্ষে পাঠানো চিঠিতে শামিমা বেগমকে এ সিদ্ধান্তের বিপক্ষে আপীল করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। শামিমার পারিবারিক আইনজীবী তাসনিম আকঞ্জি তার টুইটারে লিখেছেন, হোম অফিসের সিদ্ধান্তে তার পরিবার খুবই মর্মাহত। এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করতে আইনী পদক্ষেপ নিয়ে ভাবা হচ্ছে।

এর আগে রবিবার শামীমা বেগম একটি ছেলে শিশুর জন্ম দিয়েছেন বলে তার পরিবারের আইনজীবী জানিয়েছেন। ১৯ বছরের শামীমার এটি তৃতীয় সন্তান। তার আগের দুটি সন্তানই অপুষ্টি এবং বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে। সিরিয়ায় গিয়ে এ তরুণী নেদারল্যান্ডস থেকে আসা একজন আইএস যোদ্ধাকে বিয়ে করেছিলেন।

মাত্র ১৫ বছর বয়সে বাংলাদেশি অধ্যুষিত পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রীন এলাকা থেকে আরো দুজন বান্ধবীসহ শামীমা বেগম আইএসে যোগ দিতে সিরিয়ায় পালিয়ে গিয়েছিলেন।

গত সপ্তাহে লন্ডনের দৈনিক দি টাইমসের একজন সাংবাদিক সিরিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে শামীমা বেগমের খোঁজ পান। তার বয়স এখন ১৯ এবং তিনি অন্ত:সত্বা ছিলেন।

ঐ সাংবাদিকের মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশ সরকারের কাছে আবেদন করেন যে তার আগত শিশু সন্তানের কথা বিবেচনা করে তাকে যেন ব্রিটেনে ফেরত আসতে দেয়া হয়। সেই থেকে, ব্রিটেনে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে যে, নিষিদ্ধ একটি জঙ্গি সংগঠনের যোগ দিতে যাওয়া এ তরুণীকে ফেরত আসতে দেয়া উচিত কিনা।

যদিও বিবিসি এখনও দ্বিতীয় অন্য কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত হতে পারেনি যে শামিমা বেগম সত্যিই অন্ত:সত্ত্বা ছিলেন কিনা বা তিনি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন কিনা। রোববার আইনজীবী মোহাম্মদ তাসনিম আখুঞ্জি জানান, তারা জানতে পেরেছেন শামীমা একটি শিশুর জন্ম দিয়েছেন। শিশুটি সুস্থ আছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ বলেছেন, আইএসে যোগ দিতে যাওয়া তরুণ-তরুণীরা যাতে না ফিরতে পারে তার চেষ্টা করে যাবেন তিনি। তবে শামীমা বেগমের পরিবার আবেদন করেছে, শিশুটি তো নিরাপরাধ, শিশুটির নিরাপত্তার জন্য মানবিক কারণে তাদের মেয়েকে ব্রিটেনে ফিরতে দেয়া হোক। গত সপ্তাহে তুমুল লড়াইয়ের মধ্যে শামিমা বেগম আইএসের নিয়ন্ত্রণাধীন সর্বশেষ এলাকাটি থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন। তার স্বামী আত্মসমর্পণ করেছেন বলে তিনি জানান।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×