দুষ্টুমি কর তবে দুষ্টু হইও না

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ০১ মার্চ ২০১৯, ১০:৩২ | অনলাইন সংস্করণ

দুষ্টুমি

প্রেমপ্রীতি বা ভালোবাসা যাই বলি না কেন যদি দুষ্টুমি না থাকে জীবনে, যদি হাসি তামাশা না থাকে মনে, সে জীবনের মূল্য শূন্য। কী হতো যদি ভালোবাসা, দুষ্টুমি না থাকতো মানবজাতির জীবনে? তাহলে আমরা এ পৃথিবীর সুখ-দু:খ, ভালো-মন্দ দেখতে পারতাম না।

স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশগুলোর লোকসংখ্যা দিনের পর দিন কমতে চলছে। তার মানে এই নয় যে এরা দুষ্টুমি বা ভালোবাসা ছেড়ে দিয়েছে। কারণ নতুন প্রজন্ম দায়িত্ব এবং কর্তব্য থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছে। ‘মজা করবে কিন্তু দায়িত্ব নেবে না তা হবে না’। মজা কি আগের মত আছে নাকি অনেকখানি বদলে গেছে? কী মনে হয়? আজ মজা নিয়ে আলোচনা করবো যতটুকু সম্ভব।

পৃথিবীর যা জীবন্ত তার অর্ধেক পুরুষলিঙ্গ আর অর্ধেক স্ত্রীলিঙ্গ। এটাই মনে হয় সবার ধারণা। কিন্তু তা নয়, রয়েছে উভয়লিঙ্গ এবং নিরপেক্ষ লিঙ্গ। সব লিঙ্গই ছিল কিন্তু পরিসংখ্যান সংক্রান্ত সুযোগ সুবিধা না থাকায় অনেক তথ্য জানা হয়নি এর আগে, যেমনটি জানা সম্ভব হচ্ছে বর্তমানে।

সুইডেনের মতো দেশেও আজ থেকে ৪০-৫০ বছর আগে প্রতি পরিবারে ৬-৮ জন ছেলেমেয়ে থাকা অসম্ভব ছিল না। যা বাংলাদেশের অনেক পরিবার এখনও বহন করে চলছে। কারণ কী? দরিদ্রতাই হচ্ছে এর কারণ। যে যতো দরিদ্র তার পরিবারের লোকসংখা ততো বেশি। এরা কি সচেতন নয় এদের পরিবার পরিকল্পনা সন্বন্ধে? নাকি এরা নিয়তির উপর ছেড়ে দিয়েছে এদের ভালোবাসার দায়ভার?

অন্য কথায় বলতে হয় রিজিকের মালিক আল্লাহ। পাশ্চাত্যে যেমন স্বামী-স্ত্রী দুজনই কাজ করে বিধায় তারা ব্যস্ত। কাজের পর বাড়িতে না এসে বাইরে রাতের খাবার সেরে নেয়। কেউ বা বন্ধু-বান্ধবীর সঙ্গে আড্ডা মেরে যখন বাড়িতে ফেরে তখন গভীর রাত। কী করে সে সময়? ঘুম। কারণ সকালে কাজে যেতে হবে। যারা সরাসরি বাড়িতে আসে কাজের পর, তারা ডিনার শেষে টেলিভিশন, টেলিফোন, ফেসবুক বা অন্য স্যোশাল মিডিয়ার সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়ে।

তাই দৈহিক ভালোবাসাই জীবনের একমাত্র বিনোদন নয় তাদের কাছে। কিন্তু একটি দরিদ্র দেশে বা দরিদ্র পরিবারে যখন অন্ধকার ঘনিয়ে আসে, কী করার থাকে তাদের জন্য? বলতে পারি ‘বর্ন টু বি আ পুওর ইজ মোস্ট এক্সপেন্সিভ থিং’। দারিদ্রতাই দারিদ্রতার চাবিকাঠি। সারাদিন খাটাখাটুনির পরে দরিদ্রের বিনোদন হয় রাতের অন্ধকারে। এখন এই মজা বা ভালোবাসা নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। ভালোবাসায় মানা নেই তবে তার ফলাফল কী হচ্ছে বা হতে পারে সে বিষয় ভাবতে হবে।

পৃথিবীতে গরিব হয়ে জন্মগ্রহণ করা মানেই সব কিছু ব্যয়বহুল। তার কারণ কেউ তাদের আদর করে বলবে না এসো আমার বাড়িতে তোমার নিমন্ত্রণ। কারো কাছে অর্থের জন্য হাত পাতলে বলবে ফেরত পাব তার প্রমাণ কী? ব্যাংকে গেলে চাইবে বিনিময়। তার মানে সব কিছু জটিল এবং কঠিন।

কিন্তু যার আছে বা যার জন্ম হয়েছে বড় লোকের ঘরে সে তো জন্মসূত্রে সব কিছুর মালিক। ‘বর্ন টু বি আ রিচ ইজ এক্সক্লুসিভ’। তাই জন্মের শুরুতে যদি ধনী এবং গরিবের মধ্যে একই শর্ত না থাকে তাহলে তো বোঝা যাবে না হার জিতের ব্যবধান! ধরা যাক অলিম্পিকে ১০০ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতা হবে। যে দশজন এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে তারা পৃথিবীর মধ্যে সেরা দৌড়বিদ।

নিয়ম সেখানে রয়েছে এক এবং অভিন্ন। এই এক এবং অভিন্ন শর্তে যে জিতবে সেই হবে হিরো। বাস্তবজীবনে ধনী এবং দরিদ্রের মধ্যে সেটা কখনও হয় না। দরিদ্রের নুন আনতে চাল শেষ, তাই তারা সারাক্ষণ ব্যস্ত তাদের ‘হেয়ার এ্যান্ড নাউ’ মহুর্তকে নিয়ে। তেমনিভাবে একটি দরিদ্র দেশ বা জাতি যখন বিপদে হাবুডুবুর মধ্যে জীবনযাপন করে, তখন তারা জীবনের ধাপগুলোকে সহজ করে গড়তে বা দেখতে পারে না। সেক্ষেত্রে একটি জিনিস খুব গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে, তা হলো পুল এপার্ট এবং পুস থ্রু থিওরি। পুল এপার্ট এবং পুস থ্রু থিওরি কি? পুল এপার্ট মানে টেনে সরিয়ে আনা যেমন কেউ দুর্নীতি বা অন্যায় করছে যা সমাজ বা দেশের জন্য খারাপ তখন তাকে বাঁধা দেওয়া। পুস থ্রু মানে কাউকে কোনো সংকট পার হতে সাহায্য করা। যেমন একজন গাছে উঠতে চেষ্টা করছে তাকে সাহায্য করা যেন সে উঠতে পারে।

আরেকটি জিনিস তুলে ধরি তা হলো আমরা সবাই ফুটবল খেলতে এবং দেখতে পছন্দ করি। এখানে রয়েছে একটি নির্দিষ্ট সময়, খেলার মাঠ, সমসংখ্যক খেলোয়াড়, রেফারি এবং দর্শক।

খেলায় কোনো অনিয়ম হলেই সঙ্গে সঙ্গে আমরা রেফারির প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করি। সুষ্ঠু পরিবেশে যখন কিছু হয় তার মধ্যে আনন্দ থাকে বেশি। খেলাধুলাতে যেমন একাগ্রতা রয়েছে, তেমন রয়েছে বিনোদন। তেমনি করে মজা বা বিনোদন যেন আমাদের মাঝে বিরাজ করে যখন আমরা আমাদের দৈনন্দিন কাজগুলো করি। বর্তমান বিশ্বের অনেক দেশে নতুন প্রজন্মের কমতি দেখা যাচ্ছে একই সঙ্গে বৃদ্ধের সংখ্যা বাড়তে চলছে। এসব দেশে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হবে বিভিন্ন ধরণের দক্ষ কর্মীর।

তাই দরিদ্রতার সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে হলেও যেন চাহিদা এবং প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণ অর্জন করা হয়। একই সঙ্গে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির উপর গুরুত্ব দেয়া দরকার একটি সুন্দর ও স্বচ্ছল পরিবার গড়ে তোলার স্বার্থে। বর্তমান দুর্বল শিক্ষাপ্রশিক্ষণ পদ্ধতি এবং দরিদ্রতাই হচ্ছে বড় চ্যালেঞ্জ।

এ চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করা এবং এর দায়ভার নেয়া কিন্তু আমাদের সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×