ফ্রান্সের তুলুজ প্রবাসী বাঙালিদের আনন্দভ্রমণ

প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০১৯, ১৫:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

  মিশুক হোসেন, ফ্রান্স থেকে

শীতকালীন আনন্দভ্রমণের অংশ হিসেবে আমরা হাজির হয়েছিলাম অ্যান্ডোরাতে। অ্যান্ডোরা দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপ মহাদেশের একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্র।

তবে ক্ষুদ্র হলেও অ্যান্ডোরাতে পিরিনীয় পর্বতমালার সেরা স্কি ও স্নোবোর্ডিংয়ের ব্যবস্থা আছে। হাইকিং, বাইকিং ও আল্পস পর্বতমালার অসাধারণ দৃশ্যাবলী পর্যটকদের ডেকে আনে।


অদৃশ্য সে ডাকে সাড়া দিয়ে আমরাও গিয়েছিলাম অ্যান্ডোরার অন্যতম এক বৈচিত্র্যময় অঞ্চল দি লা ক্যাসায়। আমরা বলতে বাংলাদেশি কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশন তুলুজ ফ্রান্সের আয়োজনে প্রায় দুই শতাধিক সদস্যবৃন্দ।

সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯ টা। অপেক্ষার প্রহর শেষ। বাসে চেপে তুলুজ থেকে আমরা রওনা হলাম অ্যান্ডোরার পথে।

হুহু করে গাড়ি চলছে। তুলুজ-অ্যান্ডোরা সংযুক্ত রাস্তা অতিক্রম করছি। দুপাশে অসংখ্য গাছগাছালী। জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখছি প্রকৃতির নানা বৈচিত্র। কংক্রিটের ঘরগুলো যেন দৌঁড়ে যাচ্ছে। রাস্তার দু-ধারে বরফে ঢাকা নৈসর্গিক প্রকৃতির মনোরম পরিবেশ বেশ সুন্দর। সবকিছু যেন পরিপাটি করে সাজানো। দীঘল সবুজ বাগান। সারিসারি ফুল গাছ। থরে থরে রং-বেরংয়ের ফুল। বরফের চাদরে আবৃত যত্র-তত্র লজ্জাবতী গাছের সঙ্গে বুনো ঘাসের মিতালি।

শীতকালে প্রচুর বরফ পড়ে এর পাহাড়ি রাস্তাগুলি প্রায়ই বন্ধ হয়ে যায়, বিশেষত তুলুজের সাথে সংযোগ স্থাপনকারী রাস্তাটি। গান-কবিতা আর ছন্দের তালে গাড়ি চলছে। আমরা বেশ উপভোগ করছি। আগের রাতের এক পশলা বৃষ্টির কল্যাণে দিনটি  চমৎকার উপভোগ্য। ধুলোহীন প্রকৃতি। স্বচ্ছ আকাশের বুকে ধবধবে তুলো মেঘ দিনটিকে দিয়েছিলো অন্য মাত্রা।

ঋতুরাজ বসন্ত আগমণের শুরুতে এমন একটি সোনালি সকাল যাত্রাকে করে তুলেছিলো আরামদায়ক।

অবশেষে পৌঁছে গেলাম প্রতিক্ষিত গন্তব্যে। চারদিকে অসম্ভব সৌন্দর্যরূপে ঘিরে আছে। চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য নিশ্চয় মহান আল্লাহর কাকতালীয় কুদরতের বহিঃপ্রকাশ। নির্বিকার চিত্তে অবলোকন করছি। বরফের আবরণে নির্মল প্রকৃতি যেন হেলে-দুলে যাচ্ছে। সে কি দাপুটে হণ্টন! পথচলায় কোনো আড়ষ্ট ভাব নেই। যেন হিমস্রোত নেমে এসেছে। মুক্ত আকাশের রোমাঞ্চকর সময় কাটছে।

 

সময় গড়িয়ে দুপুর  ছুঁইছুঁই। সাবার ক্ষুধার অাবির্ভাব ঘটছে।  বিরিয়ানির মাতাল করা ঘ্রাণ যেন ক্ষুধাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।খাবার পর্ব শেষ। প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেত ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। সবাই মিলে ছবি তুললাম। স্মৃতির ক্যানভাসে ছবিগুলোর নৈসর্গিক দৃশ্য অমর হয়ে থাকবে।

 

এবার যাবার পালা। তবে এর আগে  স্বরণ করছি যারা এ ভ্রমণের সঙ্গী হয়ে ছিলেন, বাংলাদেশি কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশন তুলুজ ফ্রান্সের সভাপতি- ফখরুল আকম সেলিম, জোসেফ ডি কস্তা,  জাহাঙ্গীর হোসেন, তাজিম উদ্দিন খোকন, ফারুক হোসেন, মোতালেব হোসেন, এনজাম খান, ফিরোজ আল মামুন, কাওসার আহমেদ সাকের চৌধুরি, আমিনুর রহমান, ইফতেখার মাহমুদ, শাকিল চৌধুরি, জামান, মিঠু ও দৈনিক প্রভাতের ডাকের সম্পাদক-প্রকাশকসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট জনেরা।