বিষ নয় জ্ঞানের আলোই আলোকিত হই

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ২৮ মার্চ ২০১৯, ১০:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ

জ্ঞানের আলো

শুরু থেকে যদি কেউ গুরু না হয়ে মাঝপথে পাণ্ডিত্য জাহির করতে চায়, তার পরিনতি ভালো হয় না। বলা যেতে পারে - অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্কর (আ লিটল নলেজ ইজ আ ডেঞ্জারাস থিং)। গোটা বিশ্বে একটা জিনিস লক্ষনীয় তা হলো সবাই উদগ্রীব আমাদের পুষ্টি নিয়ে। কি খাচ্ছি? কেন খাচ্ছি এবং সঠিক খাবার খাচ্ছি কিনা। আলোচনা ছাড়া যদি সরাসরি উত্তর দিই, বলব - না আমরা সঠিক খাবার খাচ্ছিনা। সঠিক খাবার বলতে কি বুঝায়? কিভাবে পাওয়া যেতে পারে সঠিক খাবার এবং কি করনীয় তা পেতে হলে, তা নিয়ে আজকের এ লেখা।

ভূমির উর্বরতা বাড়াতে সারাবিশ্বে কম বেশি নানা ধরণের জৈব সার, অজৈব সার, রাসায়নিক বা কেমিক্যাল সার ব্যবহার হচ্ছে দ্রুত এবং অতিরিক্ত ফলন পাবার জন্য। যে সমস্ত সার ব্যবহার করা হচ্ছে বর্তমানে তার অধিকাংশই বিষ (কেমিক্যাল) যা ধংস করছে মাটির সমস্ত পোকা-মাকড়, কীট-পতজ্ঞ এবং কেঁচো।

এসব কীট-পতঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে থাকে মাটির উর্বরতা শক্তি বাড়াতে। বেশি ফলন পাওয়ার আশায় বেশি বেশি রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করছে কৃষকেরা৷ এতে জমির জৈব পদার্থ কমছে৷ হারিয়ে যাচ্ছে উর্বরা শক্তি৷ বাংলাদেশে যখন রাসায়নিক সার ও জিনগতভাবে পরিবর্তন করা বীজ ছড়িয়ে পড়ছে, তখন স্রোতের উলটো দিকে যাচ্ছে পাশ্চাত্য বিশ্ব। অনেকে নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছে জৈব সারের খামার৷

তারা কেঁচোকে ব্যবহার করছে জৈবসার উৎপাদনে৷ ইংরেজীতে এ পদ্ধতিতে উৎপন্ন সারকে বলা হয় ‘ভার্মি কম্পোস্ট’৷ এ পদ্ধতিতে গাছের পাতা, খড়, গোবর, লতাপাতা, পচনশীল আবর্জনা খেয়ে কেঁচো মল ত্যাগ করে৷ সেই মল থেকেই তৈরি হয় কেঁচো সার৷ এদেকে বাংলাদেশের জমিতে কেমিক্যাল ব্যবহারে এসব কোঁচের অকাল মৃত্যুর কারণে দিনের পর দিন জমির উর্বরতা লোপ পাচ্ছে এবং যা কিছু আমরা আজ উৎপাদন করছি তাতে রয়েছে রাসায়নিক মিশ্রণ যা আমরা প্রতিনিয়ত খাচ্ছি আমাদের খাবারে।

যে পানি খাবারে ব্যবহার করা হচ্ছে সেখানে রয়েছে হাজারও অজানা জীবানু যা শরীরে ঢুকছে। এর সব কিছুর জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী। কারণ আমরা যে সমস্ত কেমিক্যাল ব্যবহার করছি তার সব কিছুই পানি এবং মাটিতে যাচ্ছে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে।

যদি ভূমিতে আর্সেনিক থাকে তা যেমন সরাসরি খাদ্যের সঙ্গে আমাদের দেহে ঢুকছে। একইভাবে পানিতে যদি আর্সেনিক থাকে তাও শরীরে ঢুকছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও নানা ধরনের জটিল রোগের আবির্ভাব দেখা দেয়ার মূল কারণ আমরা যা খাচ্ছি এবং পান করছি।

এ বিষাক্ত খাবারের কারণে জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে ধনীরা মরবে কোটি কোটি টাকা খরচ করার পর আর গরীবরা মরবে ভুগে বিনা চিকিৎসায়। অতএব শুধু টাটকা শাকসব্জী মাছ মাংস খেলেই হবে না।

জানতে হবে সে গুলো কোথায় কিভাবে বা কি পরিবেশে উৎপন্ন হয়েছে। আমরা মানব জাতি সব বিষয়ে পণ্ডিত বিশেষ করে নকলে। যখন কেউ কিছু উদ্ভাবন করে যেমন উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে আলফ্রেড নোবেলের ডিনামাইট আবিষ্কারের কথা।

শুরুতে তার মাথায় ঢুকেছিল কীভাবে সুইডেনের পাহাড় পর্বত ভেঙ্গে চাষাবাদ এবং বসতবাড়ি সুন্দর করে করা যায়! তার চিন্তার প্রতিফলন ঘটেছিল ডিনামাইট আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে। সে ডিনামাইট দিয়ে বড় বড় পাহাড় যখন খণ্ড খণ্ড করে সমতল ভূমিতে পরিণত করা শুরু হলো, শুরু হলো সুইডেনের উন্নতি।

একই সঙ্গে মানবজাতির মধ্যে যে পণ্ডিতগুলো ছিলো তারা চিন্তা করল বেশ ভালোই তো! তাহলে এ শক্তি যুদ্ধে কাজে লাগানোও তো সম্ভব। ব্যস শুরু হলো ডিনামাইটের ব্যবহার বিশ্বযুদ্ধে। এমনি করে মানব জাতির মধ্যে অনেক গুরু মানব কল্যাণে নানা ধরনের কেমিক্যাল আবিষ্কার করেছে রোগ ব্যাধি বা শিল্প কলকারখানা চালানোর জন্য। কিন্তু পণ্ডিতরা সে সব কেমিক্যাল (ফরমালিন) ব্যবহার করছে খাদ্যে। আবার রং তৈরি করা হয়েছে কাপড়ের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য কিন্তু পণ্ডিতরা তা দিব্যি ব্যবহার করছে খাবারে। প্রযুক্তির যুগে পণ্ডিতদের বুঝতে হবে আগে কি কারণে নতুনত্বের সৃষ্টি, তা না জেনে বা বুঝে তারা তাদের মত করে ব্যবহার পদ্ধতি চালু করছে বিধায় আজ বিষপান থেকে শুরু করে বিষ খাওয়া চলছে দেদারছে জানা অজানা অবস্থায়। গুরুর আবির্ভাবে পণ্ডিতের আগমন হয়, সমাজ, দেশ এবং বিশ্বে। তাদেরকে জানতে হবে প্রথমে যে তাদের পাণ্ডিত্যের কারণে সমাজে ভালো বা খারাপ কিছু ঘটতে পারে, ঘটতে পারে নেগেটিভ প্রতিফলন।

যেমন অনেক ডাক্তার দেখা যায় রোগীকে ৫-১০ রকমের ওষুধ লিখে দিলো অথচ রোগের জন্য একটি ওষুধই যথেষ্ঠ। না জানার কারণে এমনটি করে থাকে। জিজ্ঞেস করলে বলবে ক্ষতি কি? এধরনের ডাক্তারদেরকে আমরা পণ্ডিত বলতে পারি। সমাজে এ সব পণ্ডিতের কারণে আজ কাপড়ের রং খাবারে। অনেকে গরু, ছাগল বা মুরগীর গোস্ত খাওয়া ছেড়ে মাছ এবং শাক সব্জি খেতে শুরু করেছে। তাদের ধারণা যে তারা সুস্থ জীবনযাপন করছে, আসলে কি তা হচ্ছে? না।

কারণ দুধের ভেতর বা মাছ এবং সব্জির ভেতর নানা ধরনের কেমিক্যাল ঢুকছে যা আমরা বর্জন করতে পারছি না। পুরো সমাজকে সচেতন হতে হবে তা না হলে রোগব্যধি আমাদের চারপাশ ঘোরাঘুরি করবে এবং সময়মত ধরবে। এর থেকে রেহাই পেতে হলে প্রথম কাজটি হবে তাদের সম্বন্ধে জানা এবং প্রয়োজনে প্রশিক্ষণ নেয়া যাতে করে এ অজ্ঞ পণ্ডিতরা জৈবের সঙ্গে অজৈবের মিশ্রণ না করে। জ্ঞানের গুনে গুনান্বিত হয়ে পাণ্ডিত্য করা আর পাণ্ডিত্যের ভাব দেখিয়ে সমাজকে কলুষিত করা এক নয়।

অতএব ভালোভাবে বেঁচে থাকতে হলে আমাদের শুরু থেকে সতর্ক হতে হবে। প্রত্যেক নাগরিকের বেসিক দায়িত্ব হলো সচেতনতা অর্জন করা। সচেতনতা অর্জন বর্জন করতে হবে পণ্ডিত ব্যক্তিদেরও। দেশ ও জাতিকে সুস্থ রাখতে হলে এর বিকল্প আর কিছু নেই। তাই আবারও জোর দিয়ে বলতে চাই শুধু পাণ্ডিত্যের শিক্ষা নয় সুশিক্ষায় ঝাপিয়ে পড়তে হবে যদি সুন্দর জীবন পেতে চাই।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×