কি কথা হয়েছিল সেদিন

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ০৫ এপ্রিল ২০১৯, ১৫:০০ | অনলাইন সংস্করণ

মস্তিষ্ক

জীবনে আর কিছু হোক না হোক সময় ঠিকই পার হয়ে যাচ্ছে। আমরা নানা কাজে ব্যস্ত আবার কাজ ছাড়াও কিন্তু ব্যস্ত। কিছু করা আর না করার মধ্যে পার্থক্য নেই মস্তিষ্কের (ব্রেন) কাছে কারণ মস্তিষ্ক সবসময় কর্মরত।

বাইরের জগতে আমরা আমাদের দৈনন্দিন কর্মের ফলাফল আমাদের আচরণের মধ্যে দিয়ে দেখি আর পরিমাপ করি। কিন্তু আমাদের ভেতরের জগত জুড়েও যে চব্বিশটি ঘন্টা আমাদের শরীরের কিছুকিছু অঙ্গ বিনা বিশ্রামে কর্মরত তা কি কখনও অনুভব করি?

জীবনে কত কাজই তো করেছি কিন্তু মনে পড়ে কি এমন একদিনের কাজের কথা যা সত্যিকারে দিয়েছে বাস্তব সন্তুষ্টি? তেমন একটি সময়ের কথা হঠাৎ মনে পড়ে গেল আজ। ভাবিনি কখনও এর আগে যে একদিন মনে হতে পারে সেই দিনের কথা। কি কথা হয়েছিল সেদিন? সুইডেনের ফার্মাসিয়া ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিতে কর্মরত তখন। গিয়েছি টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায়, যার বিষয় ছিল সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টে ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনের গুরুত্ব। টয়োটা এবং টোসিবা কোম্পানির সমন্বয়ে ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনের উপর চলছে সেদিনের আলোচনা কম্যুনিকেশনের ওপর দুটি নতুন প্রযুক্তি নিয়ে।

মোবাইল কমিউনিকেশন এরিকসন এবং নোকিয়ার স্লোগানের ধরণ এবং বিপনন পদ্ধতি ছিল সেদিনের আলোচনার মূল বিষয়। সপ্তাহ ধরে চলছে আলোচনা পর্যালোচন নানা বিষয়ের উপর। যেহেতু ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন এবং সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট এ কনফারেন্সের মূল উদ্দেশ্য স্বাভাবিকভাবেই ম্যানেজমেন্টের নানা স্টাইল নিয়েও চলছে আলোচনা।

যেমন যে জাতির মধ্যে ন্যায় নিষ্ঠা এবং ডিসিপ্লিন বেশি সেখানে লিডারশিপ-অর্কেস্ট্রা(Leadership-Orchestra) পদ্ধতি গ্রহনযোগ্য। জাপান তাদের ম্যানেজমেন্টে নানা ধরনের থিওরি ব্যবহার করে। তাদের কর্মে ভালো থেকে আরো ভালো করার জন্য (গুঁড টু বেটার) প্রসেস ওরিয়েন্টেরিং বা ক্রস ফাংশনাল ম্যানেজমেন্ট ব্যবহার তারা করে থাকে। এরা অন্যকে দেখে এবং সব সময় যা দেখেছে তার চেয়ে ভালো কিছু করার চেষ্টা করে।

এদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সেদিনের আলোচনা ছিল নোকিয়া তাদের মার্কেটিংয়ে কেন ভালো করছে এরিকসনের তুলনায়।

নোকিয়া পুরো সাউথ এশিয়ার বাজার দখল করেছে এরিকসনের তুলনায়। কি জাদু রয়েছে নোকিয়া মোবাইলে যা নেই এরিকসনের? এরিকসন তার সিস্টেম, মোবাইল নেটওয়ার্ক, ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক এবং প্রযুক্তির উপদেষ্টা হিসেবে পৃথিবী বিখ্যাত। তারপরও নোকিয়ার মার্কেটিং শেয়ার প্রায় দ্বিগুন এরিকসনের তুলনায়।

আমার ফার্মাসিউটিক্যালস ম্যানেজমেন্টের উপর দক্ষ, স্বাভাবিকভাবেই মোবাইলের ব্যপারে বা তার ডিটেলসের ওপর খুব কম জ্ঞান রয়েছে। তবে যেহেতু আমি সুইডেনে থাকি তাই এরিকসন মোবাইল ব্যবহার করি।

আজ বসেছি ফিনল্যান্ডের এক কলিগের পাশে তার হাতে আবার নোকিয়া মোবাইল। মোবাইলের ওপর আলোচনায় আমরা একে অপরের ফোন নিয়ে একটু নাড়াচাড়া করতেই মাথায় আলোর মত জ্বলে উঠল কেন নোকিয়ার গ্রাহক সংখ্যা বেশি।

গ্রুপের সঙ্গে আলোচনার পর আমাদের মতামত দিতে হবে। আমি এরিকসন এবং নোকিয়ার ব্রান্ডের স্লোগান তুলে ধরলাম। Ericsson তার প্রচারণায় তুলে ধরেছে Ericsson: make yourself hard অন্যদিকে নোকিয়া তার প্রচারণায় তুলে ধরেছে Nokia: connecting people. এরিকসন উচ্চ প্রযুক্তি সিস্টেমে পৃথিবী বিখ্যাত, এদের চিন্তা চেতনায় এরা High tech low touch পদ্ধতিতে বিশ্বাসী।

অন্যদিকে নোকিয়া Low tech high touch পদ্ধতিতে বিশ্বাসী। কারন নোকিয়া গাড়ির টায়ার, রাবার বুট ইত্যাদি থেকে শুরু করে নোকিয়া মোবাইল তৈরি করছে। এদের চিন্তাভাবনায় as simple as possible পদ্ধতির কারণে গ্রাহকদের জন্য খুবই সহজ এর ব্যবহার এবং মনিটরিং করা। এটাই তারা তাদের প্রচারণায় ব্যক্ত করেছে Nokia connecting people. সেদিনের সেই আলোচনার শিক্ষনীয় বিষয় ছিল যত সহজ তত ভালো (simplicity is the best)। এ ছাড়া আরেকটি বিষয় আলোচনায় পরিষ্কার হয়েছিল তা হলো স্থানীয় উদ্বেগ গ্লোবাল সমাধান (Local concern global solution)। জীবনে অনেক ছোটখাটো সমস্যা যা আমরা তুচ্ছ মনে করি অথচ দেখা যায় সেই তুচ্ছ সমস্যার মাঝে লুকিয়ে রয়েছে বড় সমাধান। জীবনে অনেক কিছু শেখার আছে যা শুধু বইয়ের ভান্ডারে সীমাবদ্ধ নয়।

যা হয়ত লুকিয়ে রয়েছে কারো মনের ভান্ডারে। তাই শিখেছিলাম সেদিন অন্যকেও বলার সুযোগ দেয়ার গুরুত্ব। কারণ আমি যা নিজে বলতে প্রস্তুত তাতো আমি জানি কিন্তু অন্যের থেকে যা শুনব তার মধ্যে থাকতে পারে অনেক অজানা তথ্য যা এর আগে শুনিনি কখনও। মাথায় এসেছে সেদিনের সেই শিক্ষণীয় বিষয় যা মনে পড়ে গেল আজ তাই এই লেখা। রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×