ফাঁকা করেছিল আমার ব্যাংক একাউন্ট সেদিন

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০১৯, ১১:২৭ | অনলাইন সংস্করণ

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে

ছবি: লাঙ্কাউই স্কাই ব্রিজ

গিয়েছিলাম বেড়াতে মালয়েশিয়া ২০০৪ সালে। সন্ধ্যায় কুয়ালালামপুরে ল্যান্ড করে সোজা হোটেলে গিয়ে শহরের মূল আকর্ষণ টুইন টাওয়ার দর্শন করলাম।

বিখ্যাত ঔপন্যাসিক ইয়ান ফ্লেমিং কর্তৃক সৃষ্ট উপন্যাসের কাল্পনিক চরিত্র জেমস বন্ডকে দেখেছি সিনেমার পর্দায় দৌড়াদৌড়ি করতে এই টুইন টাওয়ারে। ব্রিটিশ গোয়েন্দা বাহিনীর (সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস) জেমস বন্ডের মতো আমিও ঘুরে আসলাম এই রং বেরংয়ের আলোর ফোয়ারা বেষ্টিত জগদ্বিখ্যাত গগনছোঁয়া টাওয়ারটি যা আসলেই চিত্তাকর্ষক।

পরের দিন সরাসরি প্লেনে করে স্বপরিবারে পাহাড় ঘেরা ছোট্ট ছিমছাম নয়নাভিরাম দ্বীপ লাঙ্কাউইতে হাজির হলাম। তারপর চলে গেলাম Sheraton Langkawi Beach Resortএ। সাগরের ধারে গড়ে উঠেছে এ বিশাল হোটেল। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় মনে হয়েছিল এখানকার মানুষগুলো অসাধারণ এবং অতিথিপরায়ন (ট্যুরিস্ট ফ্রেন্ডলি)। এখান থেকে ছোট স্পিড বোটে করে চলে গেলাম একদিন বেড়াতে তাদের আরেকটি আইল্যান্ডে, নাম ঈগল আইল্যান্ড। বোট থেকে কিছু খাবার ছুড়তেই মুহুর্তের মধ্যে শতশত ঈগল এসে হাজির। ঝাঁকেঝাঁকে ঈগলের এমন মিলনমেলা এর আগে কখনো দেখিনি। আরেকটি আকর্ষণীয় বিষয় ছিল লাঙ্কাউই স্কাই ব্রিজ। এ সেতুটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৩০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত।

সেতুটিতে ১২৫ মিটার লম্বা বাঁকানো ফুটপাত রয়েছে যা এক অপরূপ সৌন্দর্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলো। সেতুটি নিশ্চিতভাবে এ দেশের একটি অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ। যাইহোক ঘোরাঘুরি থেকে শুরু করে সাঁতার কাটা সবই হলো, এবার বাড়ি ফেরার পালা। শেষের দিন সাগরের ঢেউগুলো বেশ বিষন্ন মনে হচ্ছিল তাই ভাবলাম, না আজ আর সাগরে নয় বরং হোটেলের পুলে দিনটি কাটিয়ে সন্ধায় প্লেনে রওনা দেবো কুয়ালালামপুর এবং শেষে স্টকহোম।

পরের দিন সারাবিশ্ব কেঁপে উঠলো সুনামি খবর শুনে। যে হোটেলে আমরা ছিলাম সে হোটেল বিশাল আকারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। জানিনা কি হতো আমাদের সেদিন যদি থাকতাম সেখানে। সুনামির কারনে অনেক দেশের লোক মারা গেছে এবং সুইডেন ছিল তার মধ্যে অন্যতম। পুরো সুইডিশ জাতি শোকাহত হয়েছিল সেদিনের দুর্যোগে। পরের দিন গাড়ি নিয়ে শহরে যেতে যেতে দেখলাম তেল ভরতে হবে, চলে গেলাম স্টেশনে। তেল ভরেছি, কার্ড দিয়ে সাধারণত পে করি তাই কার্ড দিয়েছি, জানতে পারলাম কোন টাকা নেই কার্ডে। কি ব্যাপার যতটুকু হিসাব মাথায় রয়েছে তাতে কম করে হলেও ত্রিশহাজার সুইডিশ ক্রোনার থাকার কথা, অথচ এক ক্রোনারও নেই। ফোন করলাম আমার ব্যাংকে এবং ঘটনা বললাম। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সঙ্গে সঙ্গে চেক করে দেখলো আমার ভিসা মাস্টার কার্ড (VISA MasterCard) দিয়ে চল্লিশহাজার ক্রোনারের শপিং করা হয়েছে কুয়ালালামপুরে।

যে সমস্থ জিনিস কেনা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে টিভি, ফ্রিজ এবং স্টেরিও সেট। ব্যাংক VISA কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং আমার VISA MastarCard আপগ্রেড করে। পরে জেনেছিলাম কুয়ালালামপুরে ডিনারে খাবারের বিল দিতে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের ওয়েটার আমার VISA MatarCard এর ফটোসর্ট নেয় আমার চোখের আড়ালে এবং পরে অনলাইনে জিনিসপত্র অর্ডার দেয়। পরে জানতে পেরেছিলাম VISA কর্তৃপক্ষ কুয়ালালামপুরের গোয়েন্দা বাহিনীর সমন্বয়ে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে এবং বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। এই ভ্রমণের শিক্ষণীয় বিষয় ছিল কেনাকাটায় VISACard ব্যবহার এবং তার ট্রানজেকশন যেন চোখের সামনে হয়।