বিশ্বকাপ ফুটবল খেলতে লাল সবুজের দায়িত্ব কে নেবে

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ১০ এপ্রিল ২০১৯, ১১:০৫ | অনলাইন সংস্করণ

বিশ্বকাপ ফুটবল

Time and tide wait for none. What's the meaning of the phrase 'Time and tide wait for none?' এর মানে হচ্ছে সময় এবং স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না।

তারা তাদের নিজস্ব গতিতে চলমান। বাংলাদেশ তার পঁঞ্চাশ বছর বয়সে পা রাখতে চলছে। সারা বিশ্বে ফুটবল খেলা চলছে। বাংলাদেশও ফুটবল খেলছে। কতদিন, আর কতদিন দেরী করতে হবে আমাদের বিশ্বকাপের মাঠে লাল সবুজের হয়ে ফুটবল খেলতে? কে নেবে সেই দায়িত্ব? আছে কি কেউ যার হৃদয়ে বইছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মত ক্ষিপ্রতা মন মানসিকতা? সুইডেনের এসভেন এরিকসনের (Seven Eriksson) কথা মনে পড়ে গেল।

ছিপছিপে গড়নের চশমা চোখে সাদা চুলো সেই বুড়ো, যাকে ইংল্যান্ড প্রথম বিদেশি কোচ হিসেবে নিয়োগ করে ২০০১ সালে। যার নেত্রীত্বে ইংল্যান্ড কোয়াটার ফাইনাল জেতে EM 2004 এবং VM 2004 এবং 2006 সালে। মনে পড়ে সেই রেমন্ড ডোমিনিখের কথা? যার নেত্রীত্বে ইতালিকে হারিয়ে ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ জিতেছিল ফ্রান্স? সেই রেমন্ড ডোমিনিখ ভারতের জাতীয় দলের কোচ হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশের কি অবস্থা? কিভাবে বা কার নেত্রীত্বে গড়ে উঠতে পারে বাংলাদেশ ফুটবল টিম! আমি ভুলিনি আমার স্বপ্নের কথা। আমি ভুলিনি আমার ইতালির গায়েতা থেকে ফুটবলের উপর লেখার কথা। আমি ভুলিনি বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের কথা। আমি ভুলিনি লাল সবুজের কথা। তাইতো আমি আমার বন্ধু সামসুদ্দিনের সঙ্গে লেগে আছি কিভাবে সম্ভব বাংলাদেশে ফুটবল হ্যান্ড একাডেমিকে দাড় করানো যায়? আমরা পাইলট উদ্ভিদ স্কেলে কিছু কাজ শুরু করেছি।

কিছু কিছু জায়গাতে ফুটবল বিতরণ এবং কিছু ক্ষুধার্ত খেলোয়াড় খুঁজে পেয়েছি এবং স্পনসার করেছি নানা বিষয়ে। একটি ওয়েব সাইট তৈরির কাজ চলছে মনিটরিংয়ের জন্য এখন দরকার সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ। আমরা সবাই প্রতিদিন বলি ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’। কিন্তু কেমনভাবে সেই মুখের কথাকে কাজে লাগানো যায়? তার জন্য কি করছি? যে জাতি নানা ধরনের খেলাধুলায় যত উন্নত, সে জাতি শারীরিক এবং মানষিক ভাবে তত সুস্থ।

গণতন্ত্রের পরিকাঠামো যেখানে ভালো সেখানে খেলাধুলার গুরুত্ব বেশি। যা সহজেই আমরা লক্ষ্য করতে পারি পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোকে দেখে। আমার এই ধারনার কারণ একটাই, আর তা হলো খেলাধুলায় মানুষের সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পায়। আমাদের একটু সহানুভূতি, একটু চেষ্টা আর একটু সাহায্য আমাদের স্বপ্নকে বাস্তবে পরিনত করতে পারে।

বেসরকারীভাবে এই একাডেমী তৈরী করতে হবে, কারণ ৪৭ বছর হয়ে গেলেও সরকার দেশের পরিকাঠামো গঠনে এখনো তেমন আশানুরূপ ফল দেখাতে পারেনি। তাছাড়া দুর্নীতিগ্রস্থ প্রশাসনিক কাঠামোর স্তর কয়টি এবং প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে কারা তাও পরিস্কার হয়নি এখনও।

তারপরও বাংলাদেশের প্রশাসনিক স্তর এবং খেলাধুলার ক্ষেত্রে সচিবালয়ের কাঠামোকে জড়িত না করলে খেলাধুলায় আশানুরূপ ফল পাওয়া সম্ভব হবে না। এদিকে আমরা আর কতদিন দেরি করব? তাই দেশের জনগণের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সহযোগিতার উপর নির্ভরশীল হয়ে এ প্রত্যাশিত ফুটবল উন্নয়নের কাজ শুরু করতে চাই।

পরে কোন এক সময় পৃথিবীর মাঝে স্থান করে নেবে ফুটবলের ওপর উদীয়মান তারকার দেশ বাংলাদেশ। এটাই আমাদের স্বপ্ন এবং পরিকল্পনা। ক্ষতি কি যদি বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার স্বপ্ন দেখি এবং চেষ্টা করি? আমি বেশ গর্বিত হয়েছিলাম গতবার সারাদেশে কয়েকটি জায়গাতে ফুটবল টুর্নামেন্টে সবার প্রচেষ্টা দেখে এবং ভেবেছিলাম এবার ভালো কিছু হবে। কিন্তু সব একদম চুপচাপ; কারণ কি? প্রতিযোগিতায় চুপচাপ হলে তো গন্তব্য স্থানে পৌঁছানো সম্ভব হবে না!

গতবারের খেলার শুরুর কোন ফলোআপ নেই, নেই কোন সংগঠন, নেই কোন ম্যানেজমেন্ট। কী আশা করতে পারি এমন ক্রীড়া প্রশাসনিক সংগঠন থেকে? আমার জানতে ইচ্ছে করে এই প্রশাসন বিভাগের কাজ কি? কি প্রশিক্ষণ রয়েছে তাদের? কি উদ্দেশ্য তাদের? কবে তারা তাদের দায়ভার নেবে এবং দেশকে তাদের কর্মের আশানুরূপ ফলাফল দেখাবে? আমার হাজারও প্রশ্ন অথচ তার উত্তর নেই, আফসোস! মনে হচ্ছে দেশটাকে রসাতলে দিতে সবাই চেষ্টা করছে। যে জাতি তার জাতির পিতাকে খুন করতে পারে তারা দেশকে ধ্বংসও করতে পারে বলে আমার বিশ্বাস।

তাই এর থেকে রেহাই পেতে হলে খেলাধুলার বিকল্প আর কিছু নেই। বাংলাদেশের রাজনীতি প্রতিহিংসার রাজনীতি। খেলাধুলার মধ্য দিয়েই ফিরে পাওয়া সম্ভব একাত্ববোধ। যতদিন দেশের পরিকাঠামোতে প্রতিহিংসা পরায়ণতা কাজ করবে ততদিন শুধু খেলাধুলা নয় দেশের সর্বত্রে দূর্নীতি, ঘুষ অন্যায় অত্যাচার এর হাত থেকে রেহাই পাওয়া যাবে না।

লাল সবুজের পতাকা বিশ্বকাপ ফুটবলের মাঠে উড়বেনা। পরিবর্তনের যুগে সবাই যদি মানসিকতার (মাইন্ড সেটের) পরিবর্তন করতে চেষ্টা করে তবেই সম্ভব হবে দেশকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা। আমি আমার ধ্যানে (ধ্যান হলো পেশি ও স্নায়ুর শিথিলায়নের মাধ্যমে আত্মনিমগ্ন হওয়া এবং অস্থির মনকে স্থির করা ও মনোযোগ একাগ্র করার প্রক্রিয়া) সত্যি লাল সবুজের পতাকা উড়াতে শুরু করেছি বিশ্বকাপ ফুলবল খেলায়।

তাই ফুটবল হ্যান্ট একাডেমীর কথা ভাবছি, ভাবছি অন্যের সন্তানদের নিজের সন্তানের মত করে সাহায্য করতে এবং সঠিক প্রশিক্ষণের সুযোগ দিয়ে বাংলাকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে, বিশ্বকাপ ফুটবলের মাঠে। এ স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে দরকার সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ।

কী ভাবে তা পেতে পারি? প্রযুক্তির যুগে ফুটবল হ্যান্ট একাডেমীর হোম পেজে চোখ রাখলে পাওয়া যাবে তার সমাধান। বাংলাকে সোনার বাংলা করতে হলে খেলাধুলাতেও পারদর্শী হতে হবে। ক্রিকেটে সেটা হয়েছে এবার ফুটবলের জন্য প্রস্তুতি দরকার! সবাইকে আমার নিমন্ত্রণ এবং আমন্ত্রণ মনে এবং ধ্যানে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলায় অংশগ্রহণ করার জন্য। কারণ শুরুটার শুরু মনে এবং ধ্যানে না এলে বাস্তবে তা প্রতিফলিত করা সম্ভব হবে না।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×