গ্লোবাল ভিলেজে বিশ্ব ভ্রমণের স্বাদ

  আব্দুল্লাহ আল শাহীন, আরব আমিরাত থেকে ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ১৫:১৪ | অনলাইন সংস্করণ

স্বাদ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বানিজ্য নগরী দুবাইয়ে ২৩ বছর ধরে বিভিন্ন দেশের উল্লেখযোগ্য স্থাপনা দ্বারা নির্মাণ করা হয় 'গ্লোবাল ভিলেজ'। গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রাম বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সমৃদ্ধির জন্য হলেও মূলত তা ব্যবসার একটি মাধ্যম। এখানে পণ্যের পরিচিতি এবং বিক্রয় দুটিই ভালো চলে। নামের সঙ্গে মিল রেখে গ্লোবাল ভিলেজে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার চমকপ্রদ।

প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয় গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রাম। প্রতিদিন বিকাল ৪ টা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা নির্ধারিত প্রবেশ মূল্য দিয়ে মেলায় প্রবেশ করেন।

গ্লোবাল ভিলেজের ব্যবসায়িক এ মেলায় রয়েছে বিশ্বের নানা দেশের আলাদা প্যাভিলিয়ন। প্রতিটি প্যাভিলিয়নে উপস্থাপন করা হয়েছে নিজ নিজ দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। বিশ্বগ্রাম আমাদের দেশের বাণিজ্য মেলার ন্যায় হলেও রয়েছে বিস্তর পার্থক্য। শীতের মৌসুমে ছয় মাসের জন্য বসে এই আন্তর্জাতিক মানের মেলা।

বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের জন্য বিশ্বগ্রাম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বড় অংকের টাকার বিনিময়ে প্যাভিলিয়ন ক্রয় করে নিজ দেশের উল্লেখযোগ্য স্থাপনা বসানোর পাশাপাশি দেশীয় পণ্য দিয়ে ছয় মাসের দোকান সাজানো হয়। প্রতিটি প্যাভিলিয়নে বসানো হয় হরেকরকমের দোকান। প্যাভিলিয়ন ভিত্তিক আলাদামঞ্চে নির্দিষ্ট সময়ে বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়।

মেলার মাঝমাঠে দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্যে রয়েছে বিশাল মঞ্চ। এ মঞ্চ বিশ্বের নামকরা সব শিল্পীদের পরিবেশনায় মুখরিত থাকে। গান, নৃত্য, থিয়েটারের পাশাপাশি শিশুদের জন্য পরিবেশিত হয় আকর্ষনীয় সার্কাস।

আরো পরিবেশিত হয় মেলায় প্যাভিলিয়ন নিয়ে অংশ নেয়া দেশসমূহের রাজধানীর নামের গান, সঙ্গেই থাকে সে শহরের আলোকচিত্র।

দর্শনার্থীরা এক টিকেটে বিশ্বভ্রমণের সুযোগ পান। গ্লোবাল ভিলেজে প্রবেশের মাধ্যমে বিশ্ব ভ্রমণের স্বাদ পাওয়া যায়। গ্লোবাল ভিলেজে রয়েছে সৌদি আরবের ঐতিহাসিক মিডেন সালেহ, মিশরের পিরামিড, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ফিলিস্তিন, ইয়েমেন, সিরিয়া, ইরাকসহ বিশ্বের বহু ঐতিহাসিক স্থাপনা। চীন, জাপান, ভারত পাকিস্তানসহ এশিয়ার ইতিহাস ঐতিহ্যের নিদর্শন। আরো রয়েছে যুক্তরাজ্যের বিগ বেন বা ক্লক টাওয়ার, আমেরিকার স্ট্যাচু অব লিবার্টি, ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ারের কৃত্রিম স্থাপনা।

গ্লোবাল ভিলেজ দুবাইয়ে ২০১২ সাল পর্যন্ত ছিল বিনামূল্যে প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ প্রথা। তখন নিয়মিত ছিল বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন। বিনামূল্যে প্যাভিলিয়ন পদ্ধতি বাতিল হওয়ার পাঁচ বছর পর ২০১৭-২০১৮ সেশনে আবারো ছিল প্যাভিলিয়ন। বাংলাদেশের নাম ছিল নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে একই প্যাভিলিয়নে। প্যাভিলিয়ন থাকলেও ছিল না তেমন স্টল।

২০১৮-২০১৯ এর ২৩ তম সেশনে একদমই নেই বাংলাদেশ। বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন না থাকলেও বিভিন্ন দেশের প্যাভিলিয়নে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কিছু স্টল রয়েছে। আরব আমিরাত প্রবাসী প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে গ্লোবাল ভিলেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ এ মেলায় আগামীতে নিজস্ব প্যাভিলিয়নে দেশীয় পণ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হবে এ প্রত্যাশায় রইলাম।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×