কীট পতঙ্গের অবসান ঘটাতে নতুন প্রজন্মকে দায়িত্ব নিতে হবে

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ৩০ এপ্রিল ২০১৯, ১৩:১৯ | অনলাইন সংস্করণ

দায়িত্ব

Bangladesh University of Engineering and Technology (BUET), the top engineering university in the country, has recently opened the department of Biomedical Engineering. The first batch of students started attending their classes in February 2016. Let’s talk about the true story how it has been established. আজ গর্বের সঙ্গে জানাতে চাই সোনার বাংলার একজন সোনার মানুষের কথা। সেই সঙ্গে আমার মধ্যে এক মনোরম আনন্দ ও অনুপ্রেরণা হয়েছিল অনেকদিন পর তাঁদের সঙ্গে দেখা হবার পর।

সুইডেনে এসেছিলেন কয়েকজন Professor Bangladesh University of Engineering & Technology (BUET) থেকে। উনারা এসেছিলেন KTH এ Royal Institute of Technology, Stockholm এর Mechanical Engineering department এ। তাঁরা জানতেন Professor Dr. মান্নান মৃধা, M.Sc PhD M.Ed, Royal Institute of Technology, Stockholm এ department of Biomedical Engineering এর একজন শিক্ষক।

আমাদের পরিচয় এবং আলোচনার শুরুতেই Professor Dr. মান্নান মৃধার স্বপ্নের কথার সঙ্গে তাঁদের আন্তরিকতা আমাকেও মুগ্ধ করেছিল। কারণ ছিলো একটিই তা হলো কিভাবে BUET এর সঙ্গে KTH এর একটি আন্তরিক সম্পর্ক তৈরি করা যায়। সবার সক্রিয় প্রচেষ্ঠায় তৈরি হয়েছিল সেদিন এক ভালবাসার সেতু KTH এবং BUET এর মধ্যে। আমি জানতাম এই তারকারা এক হয়ে বাংলাদেশে Department of Biomedical Engineering institute চালু করতে সক্ষম হবেন। দু'বার তাঁরা এসেছেন সুইডেনে এবং Professor Dr. মান্নান মৃধা কয়েকবার গিয়েছেন বাংলাদেশে, বসেছেন সেখানকার উচ্চ পদস্হ কর্মকর্তাদের সঙ্গে।

এর পরিপেক্ষিতে সত্যিকারেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আজকের Department of Biomedical Engineering, BUETএ। আজ এই আনন্দঘন মুহুর্তে স্মরন করছি Professor Dr. মান্নান মৃধা এবং BUET এর সেই শিক্ষকদের অবদানের কথা। Department of Biomedical Engineering BUETএ যা ছিল একদিন স্বপ্ন, এখন তা বাস্তবে রূপ নিয়েছে। আজ 2019 সাল BUET এর Department of Biomedical Engineering department থেকে তৈরি হচ্ছে কোয়ালিটি বেজড ছাত্র/ছাত্রী যারা তাদের শিক্ষাজীবন শেষ করে দায়িত্ব নেবে সারাদেশের হাসপাতালের সমস্ত ক্রিটিকাল মেডিকেল ইকুইপমেন্টসের। তেমনি বাংলাদেশে শিক্ষক প্রশিক্ষনের জন্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন একদিন বাস্তবে রূপ নিবে। কেউ তার সঙ্গে থাকবে কেউ থাকবে না, তবে এটাও প্রতিষ্ঠিত হবে। Everything was impossible until someone made it possible. আজ আমার এক বন্ধু ফিনল্যান্ড থেকে একটি লিংক পাঠিয়েছে। লিখেছে দোস্ত দেখ কি অবস্থা দেশের। লেখাটি পড়ে জানলাম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে সাড়ে ৩৭ কোটি টাকা আত্মসাতের।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে যন্ত্রপাতি কেনার নামে ওই অর্থ আত্মসাত করেছে। এ জঘন্য কাজে অনেকেই জড়িত—স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন বিভাগের সাবেক পরিচালক ও লাইন ডিরেক্টর, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ, সাবেক অধ্যক্ষ, কলেজের হিসাবরক্ষক, কক্সবাজার জেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা, একই দপ্তরের সাবেক এসএএস সুপার এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক উচ্চমান সহকারী।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে যন্ত্রপাতির প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই সাবেক অধ্যক্ষ যন্ত্রপাতি কেনার উদ্যোগ নেয়। এ জন্য সে ক্রয়সংক্রান্ত কাজ করার জন্য কমিটি গঠনের অনুমতি চেয়ে চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন বিভাগের সাবেক পরিচালক ও লাইন ডিরেক্টরকে চিঠি দেয়।

সেখান থেকে অনুমোদন পাওয়ার আগেই অধ্যক্ষ বিভিন্ন কমিটি গঠন করে। পরে বিভাগীয় প্রধানদের কাছ থেকে চাহিদাপত্র না পেয়েও সে পছন্দের ঠিকাদার রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনালকে কার্যাদেশ দেয়। ঘটনাটি পড়ার পরে অবাক হয়েছি এইভেবে যেখানে আমরা দেশ এবং বিদেশ থেকে নানাভাবে চেষ্টা করছি দেশের কিভাবে সর্বাঙ্গীন উন্নতি করা যায় বিভিন্ন বিষয়ে। অথচ দেশে কর্মরত দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা দেশের সম্পদ লুটপাট করে তাদের পকেট ভরছে। এদের কি লজ্জা শরম বলে কিছুই নেই? নাকি এদের নৈতিকতা একেবারে গবরে মিশেছে? একটি দেশ গড়ার কাজে যখন বেশিরভাগ মেহনতি মানুষ সক্রিয় অংশগ্রহন করছে এবং তারা তাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলছে, ঠিক তেমন সময় এধরনের কীট পতেঙ্গরা দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এরা তো শুধু রাজাকার নয় এরা সমাজের চোখে বিশ্বাসঘাতক এবং বেঈমান। এদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় হাজির করা আশু প্রয়োজন। একই সঙ্গে সময় এসেছে নতুন প্রজন্মদের দেশের দায়িত্ব নেয়ার। সব ধরনের সেক্টরে যে বা যারা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তাদেরকে তৎক্ষনাৎ বহিষ্কার করে নতুন প্রজন্মদেরকে দায়িত্ব দেয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।

দেশ থেকে এ ধরনের রাজাকারদের দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত না করলে এরা দেশকে ধ্বংস করে ছাড়বে। বহিঃশত্রু থেকে দেশ মুক্ত হয়েছে, এবার অভ্যন্তরীণ শত্রুদেরকেও সরাতে হবে। সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্ন নয়।

এ স্বপ্ন জেগে থেকে দেখা যা আমরা দূরপরবাস থেকে দেখছি সোনার বাংলা গড়ার জন্য। প্রসঙ্গত প্রতি বছর দুইজন শিক্ষার্থী যারা মেধা তালিকায় BUET এর Biomedical engineering department এর শীর্ষে রয়েছে তারা সুইডিশ স্কলারশিপ নিয়ে KTH এ প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছে। গত সপ্তাহে জানতে পারলাম Professor Dr. মান্নান মৃধার থেকে এবারে দুজন মেয়ে KTH এর স্কলারশিপ পেয়ে BUET থেকে সুইডেনে এসেছে। আমি আশা করি BUET এর শিক্ষাপ্রাপ্ত গ্রাজুয়েটগণ সত্বর হাসপাতালগুলোর যন্ত্রপাতির বৈধতা থেকে শুরু করে (ভ্যালিডেশন, রিভ্যালিডেশন এবং মনিটরিং) সব ধরনের তত্ত্বাবধান করবে। যাতে করে ভবিষ্যতে এধরনের দূর্নীতিবাজ দেশের দরিদ্র মেহেনতি মানুষের রক্ত চোষন করতে না পারে।

সেই সঙ্গে BUETএর Biomedical engineering department দেশের সকল হাসপাতালের যন্ত্রপাতি সেফটি ইন প্লেস এবং আশাব্যাঞ্জক সিকিউরিটি দেবে যাতে করে ডাক্তাররা তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চয়তা দিতে সক্ষম হয় এ প্রত্যাশায়। Future of Bangladesh is currently under construction.

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×