বিশ্বাসে মিলায় বস্তু কর্মে সমাধান

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ০৬ মে ২০১৯, ১১:৫৫ | অনলাইন সংস্করণ

সমাধান

অনেকের ধারনা বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টর বিশাল কৃতিত্বপূর্ণ এক ম্যানেজমেন্ট এবং তারা বড় ধরনের প্রভাব বিস্তার করছে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে।

কথা সত্য বটে। রাতের অন্ধকারে যেমন আলোর কৃতিত্ব ফুটে ওঠে ঠিক তেমন করে দিনে তার কৃতিত্ব থাকতেও চোখে পড়ে না। যদিও আলোর গুরুত্ব রাত বা দিন বলে কথা নয় সব সময় সমান তবে অন্ধকারে অনুভবটা হয় বেশি।

বাংলাদেশে গরীবের অন্ধকারময় জীবনে গার্মেন্টস এসেছে আলো হয়ে। এমনও তো হতে পারে যেদিন গরীবদের আর পাওয়া যাবে না বাংলাদেশে। তখন কে করবে গার্মেন্টসের কাজগুলো? দরিদ্র মেহনতি মানুষেরা আজ হয়তবা অর্থে কিছুটা স্বচ্ছল। দেশের দরিদ্র এবং অল্প শিক্ষিত মহিলাদের ম্যানেজ করার মতো মনোবল গার্মেন্টসের মালিকদের হয়েছে যা প্রকাশ পায় তাদের কিছু ইন্টারভিউ দেখলে।

গার্মেন্টসের মালিকদের ভাবতে হবে শ্রমিকদের ভবিষ্যত নিয়ে, এখন ভালো যাচ্ছে আগামীতেও ভালো যাবে এমন মনোবল থাকলে চলবে না। ভাবতে হবে what is next? আমি বড় ধরনের স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করি। তাই আমার বিশ্বাস একদিন বাংলাদেশের দারিদ্রতার অন্ধকার কেটে যাবে এবং পুরো দেশ আলোয় পরিনত হবে। বাংলাদেশ গার্মেন্টসের মত ওষুধ, প্রযুক্তি বা অন্যান্য জিনিষ তৈরি করবে। বিদেশীদের disadvantage গুলোকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের শিল্পকারখানার মান উন্নয়ন করবে।

দেশের শ্রমিকরা কাজের মাধ্যমে বিদেশ ভ্রমন করে নতুনত্বের সঙ্গে পরিচিত হয়ে দেশের শিল্পকে আরও উন্নত করতে শিখবে। শুধু অন্ধকারে আলো জ্বালানো নয় শিখতে হবে এবং জানতে হবে আলোর মধ্যে কিভাবে ভালো খুঁজে পাওয়া যায়।

গার্মেন্টস সেক্টরে কাজ করে বাংলাদেশের অনেক মানুষের ভালো প্রশিক্ষণ বা বেস্ট প্রাক্টিস হয়েছে। এখন গার্মেন্টস সেক্টরের ডিমান্ড আছে তাই সাপ্লাই বেশ ভালো। সারাজীবন গার্মেন্টসে কাজ করতে হবে বলে কোন কথা নেই। নতুন নতুন স্বপ্ন দেখতে হবে এবং সামনের দিকে এগোতে হবে।

যেহেতু প্রাকটিস মেকস এ ম্যান পারফেক্ট তাই বাংলাদেশ গার্মেন্টসের মতো ফার্মাসিউটিক্যালস সেক্টরের উপরও জোর দিতে পারে। সাব কন্ট্রাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিং ( subcontract manufacturing) বা থার্ড পার্টি ম্যানুফ্যাকচারিং (third party manufacturing) এ দক্ষতা দেখিয়ে বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা তুলে ধরা যেতে পারে।

লিকুইড এবং ট্যাবলেট ফর্ম ম্যানুফ্যাকচারিং সহজেই তৈরি করা সম্ভব যদি সততা এবং দক্ষতায় কৃপনতা না করা হয়। এর জন্য অনেক কিছু দরকার যেমন ISO 9000, ISO 14000, ক্লিন রুম (Clean room) এবং ডিস্টিলড ওয়াটার(Distilled water)। একই সঙ্গে GMP বা cGMP (cGMP current good manufacturing practice) পাশাপাশি দক্ষ নিয়োগকর্তা, কর্মচারী, ম্যানেজমেন্ট এবং পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে। সর্রোপরি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা যদি ভালো হয় তবে সম্ভব গড়ে তোলা বর্হিবিশ্বের সঙ্গে বিল্ডিং ট্রাস্ট বিল্ডিং গ্রোথ সম্পর্ক। পাশ্চাত্যে অধিক ট্যাক্স এবং দক্ষ কর্মচারীর অভাবের কারনে নতুন প্রডাকশন ফ্যাসিলিটিস হ্রাস পেতে শুরু করেছে। তা ছাড়া যে সমস্ত ওষুধের পেটেন্ট শেষ বা শেষ হতে চলেছে, বড় বড় কোম্পানী সেগুলো তৈরি করতে অনিচ্ছুক। তবুও আউট সোর্সিং বা থার্ড পার্টি ম্যানুফ্যাকচারিং এর সাহায্যে তারা তা তৈরি করছে শেয়ার বাজার ধরে রাখার জন্য। যে সমস্থ ওষুধের ডিমান্ড রয়েছে মার্কেটে খুব বেশি সেগুলো ইন হাউজ ম্যানুফ্যাকচারিং এ রেখে বাকি সবগুলো ছেড়ে দিতে শুরু করেছে। বর্তমান প্রযুক্তির যুগে সব কিছুর ট্রান্সপারেন্সি হচ্ছে দ্রুততার সঙ্গে শুধু হিউম্যান রিসোর্স ছাড়া। বিশ্বে হিউম্যান রিসোর্সের মাইগ্রেশন পলেসি পলিটিক্যালি প্রভাব বিস্তার করছে, যার কারণে অনেক দেশ তা মেনে নিতে পারছে না। তাই দরিদ্র এবং ঘনবসতিপূর্ণ দেশের উচিত হবে সত্বর অ্যাডজাস্ট্যাবেল ম্যানেজমেন্টের সমন্বয় ঘটানো যাতে করে সম্ভব এসব সমস্যার মোকাবেলা করা। সে ক্ষেত্রে - Don’t need to move yourself but let others come to you এমন মাইন্ডসেট তৈরি করতে হবে। বর্তমান কম্পিউটারের যুগে বেশির ভাগ ইন্ডিয়ান ঘরে বসে বিদেশি টাকা আয় করছে। তেমনি করে বাংলাদেশের শিক্ষার মান উন্নত হলে তারাও দেশে বসে বিদেশি কম্পানিতে কাজ করে প্রচুর টাকা আয় করতে পারবে। অন্যদিকে লক্ষ্যনীয় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বিদেশি শ্রমিক দিয়ে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান বিশ্বে প্রচুর দারিদ্রতা বা বেকারত্বরের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বিদেশি শ্রমিকদের সহজে পাচ্ছে বিধায় ম্যানেজ করতে সমস্যা হচ্ছে না। কিন্তু যেদিন শ্রমিক সরবরাহকারী দেশগুলো যেমন বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া বা পাকিস্থান অর্থে, শিক্ষায় এবং সচেতনতায় সচেতন হবে জানিনা তখন কেমন করে ম্যানেজ করবে তারা!

আমি সুইডেনেও লেখালিখি করি বাংলাদেশের মতো শিক্ষার পরিবর্তন এবং পরিবর্ধনের উপর। গত সপ্তাহে একটি আর্টিকেলে উল্লেখ করেছিলাম বর্তমান বেকার সুইডিশদের ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশেগুলোতে গিয়ে কাজ করতে। বিষয়টি বেশ সিরিয়াসলি নিয়েছে সুইডেনের বেকাররা। কারণ তারা পরের দেশে গিয়ে কাজ করার বিষয়টি নেগেটিভ ভাবে দেখছে। কিন্তু বাংলাদেশে এধরনের সুযোগকে সবাই পজেটিভ ভাবে দেখবে। কারণ বাংলাদেশিরা দেশের বাইরে গিয়ে কাজ করা আকর্ষনীয় বলে মনে করে যা সুইডিশদের ভাবনায় নেই।

ধনী দেশের নাগরিকরা সাধারণত অন্যদেশে বসবাস করা বা সেদেশের শর্তে কাজ করতে চায় না, তবে ব্যতিক্রমও থাকতে পারে। আমার এ লেখার সারমর্ম হলো বাংলাদেশ যতদিন তার উন্নতির শীর্ষে না উঠতে পারছে ততদিন নানা উপায় খুঁজতে হবে বেঁচে থাকার জন্য। একজন গ্লোবাল নাগরিক হিসেবে নিজেকে তৈরি করা এবং সুযোগ সুবিধার সদ্ব্যবহার করা শিক্ষার একটি অংশ। বাংলাদেশিদের প্রধান কাজ হওয়া উচিত তাদের ধ্যানে জ্ঞানে বড় বড় চিন্তা ভাবনার সমন্বয় ঘটিয়ে সেভাবে কাজ করা। একই সঙ্গে আশাব্যঞ্জক প্লাটফরম তৈরি করে সমাধান খুঁজে গুড টু বেটার (good to better) কনসেপ্ট ব্যবহার করার মন মানষিকতা তৈরি করা। তবেই হবে সম্ভব নিজের এবং দেশের উন্নতি সাধন।আমার জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে মনে করি বিশ্বাসে মিলায় বস্তু কর্মে সমাধান।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×