ডাগনি মানব জাতির এক অনুপ্রেরণা

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ০৯ মে ২০১৯, ০৯:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ

অনুপ্রেরণা

এ শুধু ঘটনা নয়। এ এক অস্বাভাবিক ঘটে যাওয়া ঘটনা। যা ঘটছে তার বাস্তব জীবনে ১০৭ বছর ধরে। টাইটানিক জাহাজ দক্ষিন আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যায় ১৯১২ সালে বরফের পাহাড়ের ধাক্কায়। ঠিক একই বছরে জন্মগ্রহন করে সুইডিশ ডাগনি ভলবরি কার্লসন (Dagny Valborg Carlsson)।

ডাগনির জন্মের এক বছর পরে (১৯১৩ সাল) ইউরোপের বাইরে প্রথম যে ব্যক্তি নবেল পুরষ্কার পান তার নাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কিছু ঘটনার সাক্ষী হয়ে বেঁচে আছে ডাগনি, সেসময় তার বয়স সাত বছর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি ধরে রেখেছে তখন তার বয়স ২৯ বছর। তখন বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিলো রেডিও যা সে বর্ণনা করেছে।

ডাগনির বয়স যখন ৯৩ বছর তখন তার বোনের ছেলে আমেরিকা থেকে প্রথম কম্পিউটার কিনে সুইডেনে আনে। ডাগনির নজর পড়েছিল সেদিন সেই কম্পিউটারের ওপর। সেই থেকে এই বুড়ি নিজের চেষ্টায় কম্পিউটার শেখা শুরু এবং কম্পিউটারের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে থাকে।

১০০ বছর বয়সে সে প্রথম ব্লগ লেখা শুরু করে। একটি স্থানীয় খবরের কাগজে ডাগনির প্রথম ইন্টারভিউ নেয় যেখানে বলা হয় তার এই বুড়ো বয়সে কম্পিউটারের ওপর দক্ষতার কথা। ১০৩ বছর বয়সে তার ব্লগ পড়তে শুরু করে অনেকে। খবর প্রচারিত হতে থাকে দেশে বিদেশে।

১০৪ বছর বয়সে ডাগনির ১.৫ মিলিয়ন ভক্ত যারা তার সব ব্লগ ফলো করতে শুরু করে।

তার বয়স এখন ১০৭ বছর, গোটা বিশ্বজুড়ে রয়েছে তার ৩ মিলিয়ন ভক্ত। ডাগনি তার জীবনের ঘটে যাওয়া ঘটনা শেয়ার করে তার ব্লগে। তার এই অসাধারণ কর্মের জন্য বর্তমানে মিডিয়াতে তাকে দেখা যাচ্ছে। ডাগনি আমার বেশ কাছের একজন প্রতিবেশি। তার নিজের কোন ছেলে মেয়ে নেই। বিবাহিত জীবনের প্রথম স্বামী ঝরে পড়ে, কারণ সে ছিল মাদকাসক্ত। পরে সে বিয়ে করে এবং বাকি জীবন সুন্দর ও সচ্ছলতার মধ্যে কাটে তার।

ডাগনিকে প্রশ্ন করা হয় দীর্ঘদিন সুন্দর ও সুস্থভাবে বেঁচে থাকার পেছনে কি জাদু রয়েছে। তার উত্তর - কাজ, ভালোবাসা, আত্মবিশ্বাস এবং নিজের ওপর আস্থা তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছে। হতাশা নাকি জীবনের আয়ু কমিয়ে দেয়। জীবন চলার পথে ঝড় ঝাপটা বহুবার এসেছে তার জীবনে কিন্তু তা সে গ্রহন করেনি, শুধু মোকাবেলা করেছে। হেরেছে ক্ষণিকের তরে তবে পরাজয় বরণ করেনি কখনও।

সে পৃথিবীর উন্নতির ধাপগুলোকে সুন্দর করে সাজিয়েছে তার হৃদয়ে। তার মতে পৃথিবীর মানবজাতি ধাপে ধাপে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

অতীতের যে সময়গুলো সে পার করেছে এবং নারী জাতিকে যেভাবে অবহেলিত করা হয়েছে তা এখন বিলুপ্তির পথে। তবে পৃথিবীর অনেক দেশ রয়েছে এখনও যেখানে নারীদের প্রতি অবিচার চলছে।

তার জীবনের শুরুতে সে যে সব বাধা-বিঘ্নের সম্মুখীন হয়েছে তার কিছু প্রতিচ্ছবি সে এখনও দেখতে পাচ্ছে বিশ্বের অনেক দেশে। তার সেই অসুন্দর অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি আজ অবধি অনেক দেশে ঘটনা প্রবাহ হয়ে বয়ে চলেছে।

বাংলাদেশের মহিলাদের বর্তমান পরিস্থিতিকে তার জীবনের কোন এক সময়ের সঙ্গে তুলনা করতে পেরেছে। ডাগনির কথায় সে যুগে না হয় সভ্যতা, সচেতনতা, প্রযুক্তি এবং শিক্ষার অভাব ছিল। কিন্তু বর্তমান যুগে কিভাবে সমাজ এসব মেনে নিতে পারছে? যে দেশের শাসনকর্তা নারী তার দেশে নারী ধর্ষণ বা নারী নির্যাতন যা ভাবতেও কষ্ট হয়!

সুইডিশরা তাঁদের জন্মদিনে যে গানটি গেয়ে আশীর্বাদ (wish) করে তাহলো “Ja, må hon leva! ja, må hon leva! ja, må hon leva uti hundrade år!” “হ্যাঁ, সে অবশ্যই বাঁচবে! হ্যাঁ, সে অবশ্যই বাঁচবে! হ্যাঁ, সে একশ বছরেরও বেশি বাঁচবে”।

ডাগনির জীবনে তা সত্যি হয়েছে। আজ তার বয়স ১০৭ বছর। দিব্বি সে লেখালেখির সঙ্গে মানবজাতির এক অবিস্ময়কর সাক্ষী, জলন্ত উদাহরণ হয়ে বেঁচে আছে মানুষের মাঝে। ডাগনি ভালোবাসার এক অপূর্ব আইডল যা মানব জাতির এক অনুপ্রেরণা এবং তাকে সুইডেনের সমাজ খুব যত্ন করে ধরে রেখেছে।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×