নারীকে কেন শ্রদ্ধা করতে জানেন না?

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ১৫ মে ২০১৯, ১৫:১২ | অনলাইন সংস্করণ

ছবিতে বামে লেখকের স্ত্রী, এরপর মা এবং ডানে লেখক
ছবিতে বামে লেখকের স্ত্রী, এরপর মা এবং ডানে লেখক

দু’জন রমণী। একজন মা, অন্যজন স্ত্রী। দু’জনই মা, একজন আমার, অন্যজন আমার সন্তানদের। দু’জনই স্ত্রী। একজন বাবার, অন্যজন আমার। আমি দু’জনকেই ভালোবাসি, একজনকে মা হিসেবে, অন্যজনকে স্ত্রী হিসেবে। আমি ঘুমিয়েছি দু'জনার বুকে। এ দু’জন রমণী আমাকে উজাড় করে ভালোবেসেছে।

দুই রমণীর একজন গ্রামবাংলার অত্যন্ত সাধারণ ঘরের মেয়ে, সামান্য লেখাপড়ার ছোঁয়া, পরে মাত্র ১৬-১৭ বছর বয়সে তাঁকে বিয়ে দিয়ে অন্য এক অচেনা অজানা পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ছোটবেলায় অনেকবার সে ফুলে ফুলে আপন মনে সেজেছে, আলতা পায়ে নুপুর পরে সারাটি দিন ঘুরেছে। পরে সেই স্বপ্নের দিনটি সত্যি হয়েছিল এবং স্বপ্নসুখের দিনগুলোর কথা কল্পনায় তাঁর চোখে ফুটে উঠেছিল। ফুটে উঠেছিল ভালোবাসার ছোঁয়া তাঁর স্বামীকে ঘিরে।

অন্যজন ইউরোপের বিলাসবহুল এক নতুন প্রযুক্তির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা শিক্ষিত এক মেয়ে। ধরেছিল এক অজানা অচেনা দূরপরবাসীর হাত শক্ত করে। যে হাত ছাড়েনি সে আজও। সেও ছোটবেলায় ফুলে ফুলে সেজেছে, সেও স্বামীর ঘরে যাবার স্বপ্ন দেখেছে। তার চোখেও ফুটে উঠেছিল ভালোবাসার ছোঁয়া তার স্বামীকে ঘিরে।

দু’জন ভিন দেশের রমণীকে মায়ের চরিত্রে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। দু’জনের মাতৃত্বে রয়েছে অসাধারণ মিল। একজন আমার মা, অন্যজন আমার সন্তানদের মা। পৃথিবীর সব মা নারী জাতির এক পরিচয়। পৃথিবীর সব স্ত্রী নারী জাতির এক পরিচয়। পৃথিবীর সব বোন নারী জাতির এক পরিচয়। পৃথিবীর সব প্রেমিকা নারী জাতির এক পরিচয়। নারীর সকল পরিচয়ের পেছনে রয়েছে পুরুষ জাতির অবদান। তাই পৃথিবীর ধর্ষিতা রমণীর পরিচয়ে রয়েছে জঘন্য পুরুষ জাতির এক পরিচয়।

কে বা কারা সেই পুরুষ জাতি এবং কেন বা কিভাবে হয়েছে তারা জঘন্য পুরুষ জাতি? এরাও তো জন্মেছে নারী জাতির গর্ভে! এদেরও তো মা, বোন, স্ত্রী রয়েছে। তা সত্বেও কেন তারা ধর্ষক? কেন তারা নারীকে ভালবাসতে জানে না? কেন তারা নারীকে শ্রদ্ধা করতে জানে না? তারা কি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নামক অনুভূতির সঙ্গে পরিচিত নয়? নাকি তারা অবহেলিত ভাবে লালনপালনের (bad upbringing) শিকার?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লক্ষণীয় যে বাবা-মার সম্পর্ক, পরিবেশ, লালনপালন, টিটকারি করা (bullying) এবং আত্মবিশ্বাসের অভাবে এদের স্বভাবের অবক্ষয়। এরা মানসিকভাবে অসুস্থ বা উন্মাদ মানব নামের এক দানব। এদের মনের আলোর ওপর জাহান্নামের কালো ছাপ পড়েছে তাই তারা পথভ্রষ্ট।

পাশ্চাত্যে এদেরকে মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়। একই সঙ্গে প্ররোচক (proactive) হয়ে পরিবার, সমাজ এবং দেশে সুশিক্ষার গুণগত মান প্রসারণ করে জাহান্নামের অন্ধকারকে দূর করে জ্ঞানের আলোয় পরিণত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের পরিকল্পনার পরিকাঠামোতে এ ধরণের দায়ভারকে সংযুক্ত করতে হবে। যেদেশে মেহনতি মানুষের অর্থে মহাশূন্যে স্যাটেলাইট ঘোরাঘুরি করতে পারে সেদেশে যদি মানবতার পরিকাঠামো না থাকে তবে জাতির অবাক হবার কথা নয় কি? দেশে যেমন ভুরি ভুরি শিক্ষিত লোক বেকার হয়ে ভবঘুরে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে ঠিক তেমনই সে দেশের স্যাটেলাইটও মহাশূন্যে ঘোরাঘুরি করছে, আশ্চর্য! প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে।

প্রত্যেক নাগরিককে প্রযুক্তির সাহায্যে মনিটরিং করতে হবে। প্রতিবেশি কার্যকলাপ (Neighborhood activity) চালু করতে হবে। বিশেষায়িত শিক্ষা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান চালু করে শিক্ষার মান উন্নয়ন করতে হবে। সর্বোপরি ভালোবাসার সেতু তৈরি করতে হবে স্ত্রীর সঙ্গে শাশুড়ির, বাবার সঙ্গে মায়ের, বোনের সঙ্গে ভাইয়ের, বন্ধুর সঙ্গে বান্ধবীর, পরস্পরের সঙ্গে পরস্পরের। তবেই হবে পরিবর্তন।

আমি ভালোবাসি বান্ধবীকে, আমি ভালোবাসি মাকে, আমি ভালোবাসি বোনকে, আমি ভালোবাসি স্ত্রীকে, আমি ভালোবাসি নারী জাতিকে। আমি নারী জাতির এক সুনিশ্চিত ভালোবাসা।

লেখক: রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে, [email protected]

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×