ধর্মীয় স্থাপনা পুনরুদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা কাতার প্রবাসীর

  মো. শরিফুল ইসলাম আবুল, কাতার থেকে ১৬ মে ২০১৯, ১৬:০৭ | অনলাইন সংস্করণ

পুনরুদ্ধার

চট্টগ্রামে ওয়াকফ করা জমি ও ধর্মীয় স্থাপনা সন্ত্রাসী দখলদারের হাত থেকে পুনরুদ্ধারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চেয়েছেন কাতার প্রবাসী শিল্পপতি আলহাজ ওমর ফারুক। দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে তিনি কাতারে ও বাংলাদেশে একাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। নিজের আয়ের বড় অংশ খরচ করে তিনি মসজিদ-মাদরাসা ও এতিমখানা পরিচালনা করে থাকেন।

১০ মে রাতে কাতারের আলআতিয়ায় নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওমর ফারুক বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অধীন বায়েজিদ থানায় ৩নং ওয়ার্ড ওয়াজেদিয়া শহীদুল্লাহ পাড়ায় আমি ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নিজস্ব জমিতে চারতলা মসজিদ ও দুটি মাদরাসা গড়ে তুলি। এ প্রতিষ্ঠানে ২০০ এতিমসহ ৭৫০ জন ছেলে মেয়ে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করে আসছে। ১০ এপ্রিল ওই প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কাউন্সিলর কফিলউদ্দীন আমার কাছে বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। এর পরপরই তিনি তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে মাদরাসা মসজিদ দখল করে নেন। তাকে এ কাজে স্থানীয় কিছু কুচক্রী মহল সহযোগিতা করে আসছে।

ওমর ফারুক বলেন, ইসলামী প্রতিষ্ঠান সন্ত্রাসীদের হাত থেকে উদ্ধারের জন্য আমি চাঁদা দিতে রাজি হইনি। সেজন্য আমাকে নানাভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমি এই প্রতিষ্ঠান পুনরুদ্ধারে একজন প্রবাসী উদ্যোক্তা হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

যে শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটছে, সে ব্যাপারে ওমর ফারুক বলেন, আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য হলো, ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হত্যাকান্ড নাকি আত্মহত্যা, তা তদন্ত করে খুঁজে বের করা হোক এবং দোষীদের শাস্তি দেয়া হোক। কিন্তু এই ইস্যু ব্যবহার করে কফিলউদ্দীন যে সন্ত্রাসী কায়দায় মাদরাসা ও মসজিদ দখল করেছেন এবং পিটিয়ে রক্তাক্ত করে ছাত্র-শিক্ষকদেরকে আহত করেছেন, তা মেনে নেয়া যায় না। তারা হামলা চালিয়ে এতিম শিশুদের জন্য মজুদ করা চাল, ডালসহ মাদরাসার স্থাপনার রড এবং আরও চার লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

মাদরাসা ও মসজিদের পুনরুদ্ধারে সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করা হলে স্থানীয় প্রশাসন তা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেন ওমর ফারুক। তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের ভয়ে স্থানীয় লোকজনও প্রতিবাদের সাহস পাচ্ছে না। অবিলম্বে কফিলউদ্দীন ও তার সহযোগিদের হাতে দখল থেকে এ প্রতিষ্ঠান রক্ষার জন্য তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন। এ বিষয়ে বায়োজিদ থানার ওসি বলেন, ওই মাদ্রাসায় একটি ছাত্রের হত্যার ঘটনা ঘটেছে এবং আমরা আসামী গ্রেফতার করেছি। এখন মাদ্রাসার কার্যক্রম বন্ধ আছে। প্রতিষ্ঠানের পাঠদান বন্ধ নিয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ অভিযোগ জানিয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সিটি কর্পোরেশন মেয়র এবং পুলিশ কমিশনারসহ আমাদের কাছে। আমরা সুস্থ তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেব।

এছাড়াও এই বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বলেন, আমি এই মুহূর্তে সম্পূর্ন বিস্তারিত বলতে পারছি না। মাদ্রাসার কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমার জানামতে চট্টগ্রামে কোথাও কোন মাদ্রাসার কার্যক্রম বন্ধ নেই এছাড়া বাংলাদেশ মুসলিম ধর্মালম্বী দেশ। এখানে একটি মাদ্রাসা বন্ধ থাকতে পারেনা।

কাউন্সিলর কফিল উদ্দিন বলেন, ফারুক সাহেবের অভিযোগ মিথ্যা, আমি মাদ্রাসা ও মসজিদ দখল নেইনি। মসজিদের ঈমাম না থাকায় আমি স্থানীয় একজন ঈমাম দ্বারা মসজিদ পরিচালনা করছি।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×