এ জনমের সাধ মিটবে না কভু দুর্নীতিগ্রস্ত জীবনে

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ২৪ মে ২০১৯, ১৭:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ

এ জনমের সাধ মিটবে না কভু দুর্নীতিগ্রস্ত জীবনে
এ জনমের সাধ মিটবে না কভু দুর্নীতিগ্রস্ত জীবনে

টাচ অফ টেস্ট বেশ পরিচিত একটি অভিব্যক্তি (এক্সপ্রেশন)। নানাভাবে এর ব্যবহার হয়ে থাকে। আমি আমার লেখালেখির শুরুতে একটি বিষয়ের উপর ছোঁয়া দিয়েছিলাম তা হলো দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে প্রযুক্তির যুগে ক্যাশ টাকার পরিবর্তে কার্ডের মাধ্যমে কেনাবেচা।

এটা ছিলো কিছু চিন্তাধারা এবং ভালোমন্দের ওপর চোখের পলকে একটু ঝলক। আমার সেদিনের সে ঝলক ছিলো অনেকের কাছে স্বপ্নের দৃশ্য, যা নতুন প্রজন্মের জন্য মিশন, ভিশন এবং পলিসি।

আজ সেই ঝলক আর ঝলক বা টাচ নেই, আজ তা বাস্তবে রূপ নিতে চলছে। আজ সেই কার্ডের মাধ্যমে বেচাকেনার ওপর পরিষ্কার একটি ছবি তুলে ধরবো, যা শুধু স্বপ্ন নয়, বাস্তব জীবনের এক জ্বলন্ত উদাহরণ।

সুইডেনের ৯০% কেনাকাটাতে প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে এবং সুইডেন প্রযুক্তির দিকে বিশ্বের ফ্রন্ট পেজে রয়েছে। ভিসা, মাস্টার কার্ড, আমেরিকান এক্সপ্রেস এবং সুইচ অ্যাপসের ব্যবহারে এক অগ্রগামী জাতি হিসাবে বিশ্বে পরিচিত হতে চলেছে।

টেলিফোন, টেলিভিশনের ব্যবহারে কোনো এক সময় ক্যাবল ছাড়া কথা বলা বা ছবি দেখা সম্ভব ছিল না। আজ ক্যাবেল (ওয়ারলেস) ছাড়াই আমরা টেলিফোন এবং টেলিভিশন ব্যবহার করছি।

প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির কারণে সব কিছুর পরিবর্তন শুরু হয়েছে। শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় শুধু অংশগ্রহণ নয়, টিকে থাকার জন্য অনেকে উঠে পড়ে লেগেছে।

দেশে অরাজকতার মূল কারণ কী, তা যদি সনাক্ত করা না হয়, তবে কোনোদিনও সম্ভব হবে না দুর্নীতিমুক্ত পরিবার, সমাজ বা একটি দেশ গড়ে তোলা। যুগ যুগ ধরে ধর্ম, পুলিশ প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন এসব সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান পৃথিবীর কোথাও কখনও অন্যায়কে অ্যালিমিনেট করতে পারেনি।

বরং পরিবার, সমাজ এবং দেশে দুর্নীতি, অবিচার এবং অত্যাচারের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করেছে। বর্তমান পৃথিবীর সকল সমস্যার যেমন চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণ, দুর্নীতি, ঘুষ, বাজেটে ফাঁকি, চিকিৎসায় ফাঁকি, কেনাকাটায় ফাঁকি, খাদ্যে ভেজাল সবকিছুর মূলে কাগজের টাকা বিনিময় জড়িত।

সততার অবনতি বা অবক্ষয় রোধে সৃষ্টি হয় সিস্টেমের। মানব জাতিকে শাসন, শোষণ বা ভাষণে নয় সিস্টেমের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। সিস্টেম বা পদ্ধতির পরিবর্তন করলে হাজার ইচ্ছে থাকলেও উপায় থাকবে না দুর্নীতি বা অন্যায় করার।

কেনাবেচা, আদানপ্রদান বা বিনিময় যখন নথিভুক্ত উপায়ে (ডকুমেন্টেড ওয়ে) হবে তখন হিসাবে গড়মিল হলে বা দুর্নীতির মধ্যে অর্থ পাচারের চেষ্টা করলে সহজ উপায়ে তা সনাক্ত করা সম্ভব হবে।

সুইডেনে আমি প্রতিদিন কোথায়, কখন, কাকে, কীভাবে কত টাকা দিয়েছি বা কী কিনেছি সবকিছুর মনিটরিং হচ্ছে। নিচের স্ক্রিন শট ছবিটি আমার দৈনিন্দন অর্থনৈতিক ট্রানজেকশনের একটি উদাহরণ, যা আমি আমার ক্রেডিট কার্ডে কেনাবেচা করেছি। যদিও সুইডিশ ভাষা তবুও সবার অবগতির জন্য স্ক্রিনশট ছবিটি লেখার সাথে যুক্ত করলাম।

কাগজের টাকার মাধ্যমে কোনোরকম কেনাবেচা নেই এখানে। যা ঘটছে তার সবকিছুই ডকুমেন্টেড হয়ে রয়েছে। বর্তমান যুগে সহজ উপায়ে নানা ধরণের যন্ত্রপাতির সাহায্যে কেনাকাটা বা মনিটরিং করার ব্যবস্থা রয়েছে। আমার প্রশ্ন জাতির কাছে, আসলে কি আমরা পরিবর্তন চাই?

আমরা কি সবাই মিলেমিশে সুন্দরভাবে বসবাস করতে চাই? নাকি যেমন আছি তেমন থাকতে চাই? যারা সৎ পথে চলতে রাজি তারা বলবে ইয়েস, আমরা পরিবর্তন চাই।

বাংলাদেশ যেহেতু স্যাটেলাইট আকাশে পাঠিয়েছে তাই প্রত্যাশা থাকতেই পারে সেই প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো। শুধু বাংলাদেশ নয় আশেপাশের দেশও কাগজের টাকা ধরে রাখতে চায় কারণ একটাই তা হলো দুর্নীতির সঙ্গে সংযুক্ত থাকা।

একই সঙ্গে লোক দেখানোর জন্য গঠন করা হয়েছে দুর্নীতি বিভাগ যা কাইন্ড অব গুড ফর নাথিং। উদ্দেশ্য যদি সত্যিই দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া হয়, তাহলে কাগজের টাকাযুক্ত পদ্ধতির ব্যবহার ছেড়ে ক্রেডিট কার্ডে কেনাবেচা করতে কষ্ট কোথায়?

দেশের বাজেট প্রক্রিয়ায় বিশাল আকারে দুর্নীতি যা দিন দিন বেড়ে চলছে। এসব সমস্যা থেকে রেহাই পেতে সিস্টেমের আবির্ভাব ঘটানো ছাড়া আছে কি অন্য কোনো সমাধান? আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে পুরো পৃথিবী কাগজের টাকার লেনদেন বন্ধ করে দিবে।

তখন কালো টাকা কিভাবে সাদা হবে তা আমি জানি না । তবে ধরা খেতে হবে এ বিষয় আমি নিশ্চিত। সরকারের উচিত হবে দেশে কাগজের টাকা ধাপে ধাপে বন্ধ করা এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো। বাংলাদেশে এ ধরণের ব্যবস্থা হলে দরগায় মন দিতে হবে না, মিথ্যে ফকির সাজা লাগবে না, অন্তর থাকবে সুন্দর এবং সাধনা বিফলে যাবে না।

যেহেতু বর্তমানে দেশে অঢেল পরিমাণ দুর্নীতি চলছে তাই পুরো জাতির মনুষ্যত্বের অবক্ষয় ঘটে চলেছে। এর থেকে রেহাই পেতে হলে ডিজিটাল বাংলাদেশ নামে নয়, তা কামে দেখাতে হবে। জানি প্রিয় দেশবাসীর অনেকেই আমার এই ধারণাকে অপছন্দ করবে।

তবে এই অপছন্দই হবে নতুন প্রজন্মের জন্য বেঁচে থাকার এক স্বপ্ন। আমি বিশ্বাস করি, জন্মের সাধ মেটাতে এবং মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে সততার বিকল্প নেই।

মরতে সবার হবেই, শুধু কবে তা আজও অজানা। ঘৃণা নয় প্রীতি, দুর্নীতি নয় নীতি, অন্ধকার নয় আলো, তাই তো পৃথিবী তোমারে বাসি ভালো। ভুবন কাঁদিবে আমি চলে গেলে, মধুর স্মৃতি হয়ে থাকবে আমার কর্মের ফল, যে কর্মের ফলে থাকবে না ঘৃণা।

থাকবে শুধু সবার প্রাণঢালা ভালোবাসা; এটাই হোক (মরতে সবার হবেই শুধু কবে তা আজও অজানা) সেই অজানা দিনগুলোকে সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে রেখে যাবার নতুন স্বপ্ন এবং সাধনা।

রহমান মৃধা, দূরপরবাস সুইডেন

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×