বিবেক এখনও মরেনি

  রহমান মৃধা, ফ্রান্স থেকে ০৩ জুন ২০১৯, ২০:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

বিবেক

ভোর ছয়টার আগেই ঘুম ভেঙেছে। সোহেল ঘুমাচ্ছে। আজ বন্ধের দিন, তেমন কোনো তাড়া নেই ঘুম থেকে ওঠার। সোহেল বাংলাদেশ থেকে সম্প্রতি এসেছে স্টকহোমে।

সে স্টকহোম আরল্যান্ডায় ল্যান্ড করতেই তাকে নিয়ে সকালে সরাসরি চলে এসেছি প্যারিসে। আমার ঘুম ভেঙে গেল কেন? সারাক্ষণ যদি বিবেক তাড়া করে নিয়ে বেড়ায় এবং হাজারও প্রশ্নের যদি আবির্ভাব ঘঠে কিভাবে ঘুমিয়ে থাকতে পারি? ঘুম যখন ভেঙেই গেল তো ভাবনাকেও ঘুম থেকে উঠিয়ে বললাম ‘বিবেক তাহলে এখনও মরেনি’? ভাবনা বললো, না, না, সে মরেনি, তবে অভাবের কারণে মাঝেমধ্যে খারাপের সঙ্গে একটু মেলামেশা করে আর কি।

যাক ভালো যে সে বেঁচে আছে। সুখ কোথায় তাকে তো দেখছিনা? শান্তিই বা কোথায় গেল এই অবেলায়! কেউ এখানে নেই। হঠাৎ শুনতে পারলাম দুঃখের গলা, জিজ্ঞেস করতেই কাঁন্নাকাটি এসে হাজির। বললাম কিরে তোদের আবার কি হলো? খারাপ এসে বলতে শুরু করলো তার সব কাহিনী। বললাম, তুই তো আর সেই আগের মত নেইরে, তুই তো আরো খারাপ হয়েছিস, ব্যাপার কি?

বললো ‘ভালো আমাকে ছেড়ে যাবার পর একা একা ছিলাম কিছুদিন, পরে মন্দ এসে হাজির হলো। সেই থেকে আমি আছি কোনো রকম’। বললাম তা না হয় বুঝলাম, তো হাসি কোথায় রে? তাকে তো দেখছিনা! মন্দ বললো, ‘সে খুশির সঙ্গে কোথায় যেনো বহুদিন হলো চলে গেছে’। আমার মনটা একটু কেমন করতেই খারাপ এসে আবার হাজির হলো। তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তুই কেন আবার এ সময় এলি।

সে বললো সুখ, শান্তি, ভালো, খুশি ও হাসি চলে যাবার পর আমি একা থাকতে থাকতে এখন বেশ কঠিন হয়েছি। পরে হঠাৎ মায়া মমতার কথা জানতে চাইলাম, খারাপ বললো, কিছুদিন ছিল আমার সঙ্গে কিন্তু দুঃখের তাড়ায় শেষে কী করবে, তারাও প্যারিসে চলে এসেছে। কথা বলতে বলতে হঠাৎ ভাবনার সঙ্গে দেখা। জিজ্ঞেস করলাম ‘কি রে ভাবনা কেমন চলছে তোর দিন কাল’? ও বলতে শুরু করল যে ‘দোহায় যখন ছিলাম বেশ ছিলাম। পরে ভেবেছিলাম ইতালিতে যখন এসেছি সুখকে খুঁজে পাবো কিন্তু খারাপের সঙ্গে দেখা হবার পর সুখকে আর খুঁজে পেলাম না।

এত টাকা পয়সা খরচ করে এলাম সেখানে কিন্তু সুখের সন্ধান মেলেনি আজও’। বহুদিন পর প্যারিসে এসেছি, নানা দেশের লোকজন দেখছি, সবাই ছোটাছুটি করছে এখানে সেখানে। বেশ আনন্দ-ফুর্তির সঙ্গেই আছে। আমিও ঘুরছি চিন্তার সঙ্গে। চিন্তাকে জিজ্ঞেস করলাম বাঙালিদের তো দেখছিনা? ও বললো আছে কোথাও, খুঁজতে হবে। খুঁজতে গিয়ে হারানোর সঙ্গে দেখা। বহুদিন পর আমাকে সে পেয়ে ভুলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে উঠে পড়ে লেগেছে।

তাকে বললাম আজ থাক না এ পর্যন্ত, রাত হয়েছে হোটেলে যেতে হবে। সে বলে যে ‘না তুমি এখন গেলে ভুল খুব মাইন্ড করবে’। যাক পরে ভুলকে বিদায় দিয়ে হাতের ম্যাপটি দেখতেই আশার সঙ্গে দেখা। সে বললো ‘ভরসা ওখানে আছে, চলো যাই তার কাছে। ভরসা বেশ ভালো আছে, সে দিব্বি শান্তনাকে নিয়ে মজার সঙ্গে ঘুরছে।

দেখা হতেই আমাকে তারা হোটেলে রেখে চলে গেলো। যাবার বেলা বলে গেলো, ‘কাল ছুটির দিন প্যারিস যখন এসেছো, তখন মোনালিসাকে দেখে যেও, মোনালিসা কাল ফ্রি থাকবে’। আমি কিছু না বলতেই বিবেক কথা দিয়ে ফেললো। ভাবনা বললো, ঠিক আছে কথা যখন দিয়েই ফেলেছো তা আরেক দিন থেকে সবার সঙ্গে দেখা করে পরে সুইডেনে যেও। ওহ, ভরসা যাবার বেলা বলেছিল যে শান্তি থাকে সুইডেনে। শুনে খুশির কথা মনে পড়ে গেলো। বিবেক বেশ বার বার বলতে লাগলো ‘বেশ মজাই হবে ওদের সঙ্গে সুইডেনে দেখা হলে’।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×