আমি দূরপরবাস থেকে চিনেছি তাদের

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ০৯ জুন ২০১৯, ১০:০০ | অনলাইন সংস্করণ

ছবিতে (বা থেকে) সোহেল, প্রদ্যুত, মারিয়া ও লেখক রহমান মৃধা
ছবিতে (বা থেকে) সোহেল, প্রদ্যুত, মারিয়া ও লেখক রহমান মৃধা

দেখতে দেখতে সোহেলের সময় চলে গেল। তবে তার জার্নির সময়গুলো ছিল ব্যস্ততায় ভরা। এদিকে আমাদের প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা একটানা ব্যস্ততা। ক্লান্ত? হ্যাঁ কিছুটা তবু অনেক কিছু দেখতে হবে, জানতে হবে, দেখাতে হবে।

ছোট ভাইয়েরা এসেছে জীবনের প্রথম। আমার সঙ্গে তাদের কোন রক্তের সম্পর্ক নেই। আমি তাদের আগে কখনও দেখিনি। কিন্তু তারপরেও হঠাৎ সামান্য চেনা জানার মাঝে মনে হচ্ছে আমি তাদের বড় ভাই।

তাদেরকে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো, সব কিছু উজাড় করে দেখানো, তাদের নতুন পুরানো স্মৃতির সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়া, সব কিছুতে রয়েছে একটি দায়িত্ব, রয়েছে স্নেহ, রয়েছে ভালোবাসা। এ শুধু ভালোবাসা; হৃদয়ের ভালোবাসা।

আজ সোহেল চলে গেল। তার নিজের পরিবার রয়েছে দেশে। তার ছুটি শেষে কর্মে যোগ দিতে হবে। ফিরে যাবে সাধারণ জীবনে; যে জীবনে থাকবে ব্যস্ততা, ব্যর্থতা, স্বার্থপরতা, নীরবতা, স্নেহমমতা, দায়িত্ব ও কর্ত্যববোধ এবং ভালোবাসা।

হয়ত প্রতীক্ষা করতে হবে আবার কোন এক নতুন সময়ের জন্য; নতুন করে কিছু দেখার এবং কিছু জানার জন্য। সারা জীবন আমরা সবাই কম বেশি নিজের পরিবার বা আত্মীয়স্বজন এদের নিয়েই ব্যস্ত থাকি। এটাই সাধারণ নিয়ম।

বেশির ভাগ সময়ই আমরা বিবেকের কাছে হার মানি, কারণ পরিবারের প্রতি দায়িত্ব, কর্তব্য, দায়ভার, স্নেহ মমতা, ভালোবাসা এসব অনুভূতি রয়েছে তাই।

কিন্তু পরিবারের বাইরেও রয়েছে এক নতুন পরিবার; যাদেরকে নিয়ে আমরা তেমনটি ভাবিনি। অথচ এই পরিবারের মধ্যেও যে রয়েছে অনুভূত, স্নেহ, প্রেম-প্রীতি এবং ভালোবাসা, যা সত্যি এক মনোমুগ্ধকর ভালোবাসা।

এই তো সেদিন প্যারিসে ঘুরছি। হঠাৎ চোখে পড়ে গেল বাংলাদেশিদের দিকে। বেশ ব্যস্ততার মধ্যেই চলছে তাদের সময়। কারো কারো সময় হলো কিছু কথা বলার আবার কারো হলো না।

আবার বেশ দূর হতে একজন বেশ অনুরোধ করে তার বাসাতে নিয়ে গেল। তারা জীবন যুদ্ধের সৈনিক। পরিবার পরিজন ফেলে যুদ্ধ করছে নতুন জীবনের সন্ধানে।

তারাও সময় করে একটু সহানুভূতির ছাপ আমাদের হৃদয়ে দিয়ে দিতে এতটুকু কৃপণতা করেনি সেদিন। চমৎকার এক মানবতার নিদর্শন দেখলাম সেদিন।

সোহেল এবং প্রদ্যুৎ এরা বাবা-মার বড় ছেলে এবং তাদের অনেক দায়ভার রয়েছে তাদের পরিবারের প্রতি। এ মুহূর্তে এরা আমার কাছে নতুন প্রজন্মের অগ্রনায়ক।

এদের সঙ্গে সময় দেয়া এবং আমার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়ার কারণ একটাই তা হলো এরাও আমার মত নিজেদের পরিবারের দায়ভার নিতে পারে।

একই সঙ্গে সঙ্গে যদি একটু সহানুভূতি পরিবারের বাইরের জগতে দেখাতে পারে তবে ভালোবাসার ছোঁয়াই সারা দেশে এবং আস্তে আস্তে সারা পৃথিবী সুন্দর হয়ে গড়ে উঠবে।

আমরা মানুষ জাতি সৃষ্টির সেরা জাতি। আমাদের আচরণে সেটা ফুটে উঠাই কিন্তু স্বাভাবিক হওয়া উচিত। ও প্রদ্যুৎকে নিয়ে বেরোতে হবে। চেষ্টা করব খুঁজতে নতুনত্বের। সুইডেনের ওয়েদার সত্যি খুব সুন্দর যাচ্ছে। আজ তাকে নিয়ে স্টকহোম শহর ঘুরতে হবে।

আমার সহধর্মীনি মারিয়ার ছুটি, তাই সেও আমাদের সঙ্গে থাকবে। আগামীকাল স্টকহোমের বাইরে লিনসোপিং সিটিতে যাব। যেখানে আমার ছাত্র জীবন কেটেছে।

লিনসোপিং এ ঘুমিয়ে আছে শান্ত হয়ে আমার মা। তিনি এসেছেন বহুবার সুইডেনে। থেকেছেন অনেক বছর। শেষে একদিন তাঁকে ছাড়তে হয়েছিল পৃথিবী।

মাকে দেখতে যাব আগামীকাল। পথে দেখব সুইডিশ য়োতা কানাল (Göta kanal) যা সত্যি এক অদ্ভুত এবং আশ্চর্যর খাল। যেখান দিয়ে নৌকা, লঞ্চ জাহাজ চলাচল করে।

মজার দৃশ্য, পানির পরিমাণ উঁচুনিচু করে বা সামঞ্জস্যতা সৃষ্টি করে নৌকা, লঞ্চ বয়ে চলে প্রতিদিন, যা না দেখলেই নয়। প্রকৃতি তার সৌন্দর্যকে উজাড় করে দিয়েছে আমাদের জন্য।

তাকে দেখে কিভাবে চুপ চাপ থাকতে পারি তাই ছুটতে হবে জানার মাঝে। হয়ত কিছু নাহি পাবো তবু চেষ্টা করে যেতে হবে। ছুটতে হবে অজানাকে জানতে, অচেনাকে চিনতে।

আমি সুশিক্ষার সন্ধানে, তাই সব সময় নানাভাবে চেষ্টা করছি আমাদের মোড়াল ভ্যালুকে শক্ত করতে। আমাদের সামান্যতম চেষ্টা দিতে পারে বিশাল পরিবর্তন এনে একটি পরিবার একটি সমাজ এমনকি একটি দেশের।

সবাইকে নিমন্ত্রণ আমার এই জার্নিতে। আমরা যারা দেশের বাইরে আছি সবাই যার যার মত করে যদি হাত বাড়িয়ে দেই তাহলে অনেক নতুন প্রজন্ম তাদের জীবনের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সক্ষম হবে।

রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে, [email protected]

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×