দেশটা কি মগের মুল্লুক

  জমির হোসেন, ইতালি থেকে ১১ জুন ২০১৯, ১৪:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ

ভেজাল খাবার

জনগণের ভালমন্দ দেখার দায়িত্ব দেশের অবিভাবক অর্থাৎ যে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। তাই যত প্রকার ভেজাল খাবার থেকে শুরু করে ঔষধ পর্যন্ত মনিটরিং করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব

ও কর্তব্য। সেজন্য দরকার সত্য, ন্যায়পরায়ন কর্মকর্তা।

জনগনের জন্য আনন্দের সংবাদ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর গত কয়েক মাস ধরে ভেজাল বিরোধী অভিযান অব্যহত রেখেছে। সরকারের এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

খোদ জনগন অর্থ দিয়ে যে খাদ্য কিনে খাচ্ছে আর সেটা খাদ্য নয় বিষ খরিদ করে জীবনকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে অনিচ্ছায়। খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া কোন মানুষের কাজ হতে পারেনা। ভোক্তার আইন সন্মান করে নিয়মনীতি মেনেই খাবার পরিবেশন করা প্রতিটি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। আর এই কাজটা সোনার বাংলাদেশের নাগরিকরা করেনা। বিশেষ করে ব্যবসায়ী মহল। কারন দ্রুত নিজে স্বাবলম্বী হতে গিয়ে মানুষকে মৃত্যুর দিকে প্রতিনিয়ত ঠেলে দেয়া স্বাভাবিক বলেই এতটুকু বুক কাঁপেনা তাদের। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধ কাজটি তারা নিয়মিত চালিয়ে যাচ্ছে।

ভেজাল বিরোধী যে অভিযান জাতীয় ভোক্তা অধিকার নিয়মিত চালিয়ে যাচ্ছে এর ফলে ভুক্তভোগী জনসাধারণের মনে অনেকটা স্বস্তির নিঃশ্বাস যুগিয়েছে সরকার। দেশ যখন ডিজিটাল বাংলাদেশে রুপ নিয়েছে সেখানে এ ধরনের ভেজাল কর্মকাণ্ড উন্নয়নের জন্য চরম বাধাগ্রস্ত। ফলে সরকারের এরকম দূর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো উপযুক্ত কাজ বলেই জনগণ এর পক্ষে সমর্থন জানিয়ে সরকারকে স্বাগতম জানিয়েছেন। সাধারণ জনগণের মনের উচ্ছ্বাস তাই প্রকাশ করে।

খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে ব্যবসা করে পৃথিবীর কোন রাষ্ট্রে জানা নেই। তবে দীর্ঘ কয়েক বছর ইউরোপে

বসবাসের সুবাদে বলতে পারি, এখানে ভেজাল মানে জরিমানাসহ ব্যবসা গুটিয়ে দেয়া। সাধারণ জনগণের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি করা। সরকার বা আইন কোন প্রকার বরদাস্ত করেনা। সে যতই ক্ষমতাবান বা সম্পদশালী হোক না কেন। দেশি-বিদেশি প্রত্যেককে ভোক্তা আইন মেনে কাজ করতে নির্দেশ দেয়া আছে। নির্দেশ মেনেই ব্যবসা করতে হবে সবাইকে।

যে সকল দোকানদার খাবারে ভেজাল দেয় তাদেরকে শুধু জরিমানা নয় একই সঙ্গে জেল দেয়া উচিত।

তবে হয়তো ভেজাল কর্মকাণ্ড থেকে কিছুটা পিঁছু হটবে। পাশাপাশি শুভবুদ্ধির উদয় হবে। জনগণ এহেন ঘৃন্য, নিকৃষ্ট কাজ থেকে মুক্তি পাবে। এই কাজের সফল ফলাফল পেতে প্রয়োজন আইনের সুশাসন, ন্যায়পরায়ন সরকারি কর্মকর্তা। অন্যদিকে উন্নত দেশের মত জনসচেতনতা। কারন যে কোন ভাল কাজের জন্য সহযোগিতা অপরিহার্য। তাই জনগণ ও সরকারের মধ্যে হওয়া উচিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। প্রবাসে এসে বাংলাদেশি নাগরিকরা বিদেশের সব নিয়মনীতি মেনে চলতে পারে। অথচ দেশে কেউ কোন নিয়মনীতির কোন তোয়াক্কা করেনা। ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের খাবারের দোকান রয়েছে তারা তো কোন খাদ্যে ভেজাল দেয়না। কারন আইন জনগনকে সঠিক পথে চালাতে বাধ্য করে। সেই আইনের প্রয়োগ চাই যেন খাদ্যে ভেজাল দিতে বারংবার চিন্তা করে ভেজাল ব্যবসায়ীরা। অন্যায় করে কেউ যেন আইনের কোন ফাঁক দিয়ে বের হতে না পারে সরকারকে আগে এই পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। তবেই ভেজাল বিরোধী অভিযান জনগণের উপকারে আসবে।

শুধু ইতালি নয় সারা ইউরোপ জুড়ে প্রতিটি খাবারের মোড়কে রয়েছে খাবার প্রস্তুতের সময় এবং মেয়াদের শেষ সময়। মাঝে মাঝে ভোক্তা আইন প্রয়োগ সংস্থা ছাড়াও প্রশাসনিক সিভিল কর্মকর্তা এসে অভিযান চালিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ কোন সামগ্রী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পেলে জরিমানা ও দোকান বন্ধ করে দেয়। পরে আইনের মাধ্যমে সমস্যা সুরাহা হলে পুনরায় অনুমতি পেলে দোকান খুলতে পারে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল এ ধরনের নোংরা, মানবাধিকার লঙ্ঘন হয় এরকম কাজ ইউরোপে হয়না বিশেষ করে খাবারে কেউ ভেজাল দেয়না। কারো জীবন নিয়ে কেউ কখনো কোন ব্যবসায়ী ছিনিমিনি খেলেনা। ফলে সুস্থ জীবনের অন্যতম শর্ত নির্ভেজাল খাদ্য। আসুন সরকারকে সহযোগিতা করি নিজেও সচেতন হই। ভেজাল মুক্ত খাদ্য বাংলাদেশে দেখতে চাই।

ছোট বেলায় পড়েছিলাম ঔষধ খেলে অসুখ সাড়ে। কিন্তু দুঃখ আর পরিতাপ নিয়ে বলতে

হচ্ছে। মানবতার এতো পরাজয় হয়েছে মানুষ কতটা নির্বোধ, অর্থ লোভী হলে ঔষধের মত অতি প্রয়োজনীয় জীবন সহায়তাকারী সেখানেও ভেজাল। ঔষধ পর্যন্ত নিস্তার পায়নি অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ মানুষের কাছে সাধারণ দামে বিক্রি করে জীবন সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে অসাধু ব্যবসয়ীরা।

এই ধরনের নোংরা মানুষগুলোকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা দরকার। মানুষের জীবনের চেয়ে নরপশুদের কাছে অর্থই অনেক মূল্যবান। সমাজে এই জঘন্য ব্যক্তিদের বর্জন সময়ের দাবী সরকারের কাছে।

লেখক, সংবাদকর্মী ইতালি।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×