যেখানে এশিয়ার মধ্যে প্রথম দেশ হতে পারে বাংলাদেশ

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ১১ জুন ২০১৯, ১৪:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ

যেখানে এশিয়ার মধ্যে প্রথম দেশ হতে পারে বাংলাদেশ
যেখানে এশিয়ার মধ্যে প্রথম দেশ হতে পারে বাংলাদেশ

সেই ১৯৮৫ সাল থেকেই সুইডিশ সংসদ ভবনে মাঝে মধ্যে আশা হয় নানা কারণে। কখনও নিজে কিছু জানার জন্য আবার কখনও সুইডেনে নতুন কেউ এলে আমি চেষ্টা করি তাদেরকে ঘুরিয়ে দেখাতে। যেমন সংসদ ভবন, স্টকহোম সিটি হল, রোছেনবাদ (Rosenbad, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়), সাগের্সকা হুছেট (Sagerska huset, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন)। কখনও সরাসরি রাজনীতি করিনি তবে গণতন্ত্রের অধিকার চর্চা করা, খোঁজ খবর রাখা এসব হয়ে থাকে।

দেশ-বিদেশ ঘোড়া বা শিক্ষা অর্জন করার মূল লক্ষ্য হলো কিছু জানা এবং শেখা। সেই সঙ্গে তা প্রয়োগ করা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে। যখন কোথাও কিছু ভালো দেখি ঘোরাঘুরির মাঝে তা হতে হবে বা পেতে হবে এমনটি ভাবনা মনে নাড়া দেয় যা অত্যন্ত স্বাভাবিক।

এই তো সেদিনের কথা। মিজানুর রহমান সোহেল এসেছে বাংলাদেশ থেকে। সে দৈনিক যুগান্তরের সাংবাদিক। তার যেমন ইচ্ছে দেখলাম, সে সংসদ ভবনে যেতে চায়। সঙ্গে আমারও তার ট্যুর প্লানে ছিল তাকে নিয়ে যাবো সংসদ ভবনে। তো ভালই হলো তাই তাকে নিয়ে ঢুকে গেলাম ভেতরে।

ঢুকে দেখি বিতর্ক চলছে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধী দলের। বিতর্কের মূল বিষয় নারী পুরুষের সমান অধিকার হতে হবে কর্ম ক্ষেত্রে তার ওপর। প্রধানমন্ত্রীকে একে একে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুক্তি দেখিয়ে বিরোধী দল যেমন তাদের বক্তব্য পেশ করছে, প্রধানমন্ত্রীও ঠিক তেমনি তার মত করে বিশ্লেষণ করছেন।

সংসদ ভবনে সংসদ সদস্যদের যে দায়িত্ব এবং কর্তব্য রয়েছে তা তারা জানে বিধায় তর্ক-বিতর্কে তারা এগ্রি টু ডিজএগ্রি হতেই পারে; তবে ঘৃণা বা অশ্লীল আচরণ করে না। জনগণের প্রতিনিধি এরা, তাই ভালো করেই জানে তাদের প্রতিনিধিত্ব করাই হচ্ছে সংসদ সদস্যদের মূল উদ্দেশ্য।

সংসদ সদস্যদের নিয়ম অনুযায়ী বেতন ভাতার সঙ্গে বাসস্থান বা অন্যান্য সুযোগ সুবিধা রয়েছে। অস্বাভাবিক কিছু ঘটেনা এখানে। তবে জবাবদিহিতা করতে হয়, যদি কোথাও গড়মিল দেখা দেয়। হোক না সে রাজা, মন্ত্রী বা প্রজা।

কিছু দিন আগে যেমন জানতে পারলাম একজন সংসদ সদস্য বাসা ভাড়া বাবদ দুই জায়গা থেকে ভাতা নিয়েছে। পরে ধরা খেয়ে অপরাধ স্বীকার সঙ্গে অবৈধ ভাতা ফেরত দিয়ে জনগণের কাছে তার অপরাধের জন্য অনুতপ্ত প্রকাশ করেছে।

আবার জানলাম পরিবেশ মন্ত্রী (Environment minister) পরিবেশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন যেমন প্লেন ব্যবহার না করে যেন চেষ্টা করা হয় ট্রেনে চলাচল করতে। পরে বছর শেষে দেখা গেলো তিনিই সবচেয়ে বেশি প্লেন ব্যবহার করেছেন সব মন্ত্রীদের মধ্যে!

যে জাতির সুযোগ সুবিধা যত বেশি তাদের নৈতিকতার উন্নতিও ততবেশি- এ কথা পুরোপুরি ঠিক নয়। কারণ সুইডিশদের বাংলাদেশের তুলনায় সুযোগ সুবিধা হাজার গুণে ভালো স্বত্বেও সুযোগ পেলে এরাও অপকর্ম করে। পার্থক্য একটিই তা হলো ধরা খেলে সাজা রয়েছে সবার জন্য।

সাজা থেকে রেহাই পেতে এরাও নানাভাবে দুর্নীতির সাহায্যে পেতে চেষ্টা করে। তবে ধরা খেলে সাজা রয়েছে। খিদে পেলে খেতে হবে, ঘুম পেলে ঘুমোতে হবে ঠিক তেমনি অন্যায় করলে সাজা পেতে হবে। আছে কি কারো দ্বিমত এ বিষয়ে? যদি না থাকে তবে কেন এই সহজ কাজটি ঠিক মত পালন করা হচ্ছে না?

পৃথিবীর কোথাও নেই যেখানে ন্যায় অন্যায় হচ্ছে না। কিছু করলেই কিছু ঘটে এবং কিছু না করলে কিছু ঘটে না এর মানে খুবই সহজ। বাংলাদেশ পরিবর্তনের পথে, এখানে অনেক কিছু ঘটছে, ঘটবে। একটি বিষয় গুরুত্ব দেওয়া উচিত তা হলো কাগজের টাকা মুক্ত বাংলাদেশ।

বেচাকেনা, লেনদেনের মাধ্যম যদি ডিজিটালাইজেশন করতে পারা যায় তবে সাজা কার্যকরণ করা সম্ভব হবে। এটা হবে জাতির জন্য সবচেয়ে সহজ উপায়ে একটি কঠিন সমস্যার সমাধান।

যথেষ্ট সাপোর্ট রয়েছে প্রযুক্তিতে এবং খুব স্বল্প সময়ে কাগজের টাকা সরিয়ে কার্ডের মাধ্যমে বেচাকেনা থেকে শুরু করে লেনদেনের ব্যবস্থা চালু করতে পারলে বাংলাকে সোনার বাংলা করা সম্ভব হবে। সারা জীবনই কি ফলোয়ার হতে হবে? লিডার হওয়া কি কখনও সম্ভব নয়?

জাতি হিসাবে আমরা কি পারি না এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রথম দেশ হতে যেখানে হবে বেচাকেনা, লেনদেন কাগজের টাকা ছাড়া? প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে কার্ডের মাধ্যমে বেচাকেনা চালু করে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া হোক সবার স্বপ্ন। স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে দরকার উদ্যোগের, সবার উদ্যোগ এবং চেষ্টা থাকলে এশিয়ার মধ্যে প্রথম দেশ হতে পারে তা বাংলাদেশ।

রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে, [email protected]

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×