খেলাধুলায় চাপ নয় বরং উৎসাহিত করা হোক

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ১২ জুলাই ২০১৯, ১৪:৩১ | অনলাইন সংস্করণ

খেলাধুলা

ভারতের ১৩০ কোটি মানুষের চাপ, বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের চাপ আর নিউজিল্যান্ডের ওপর মাত্র ৩৫ লাখ মানুষের চাপ! পুরো ভারতের চাপ এবং তার আশপাশ দেশের চাপ। খেলোয়াড়দের সংখ্যা সমান কিন্তু চাপের পরিমাণ বিশাল।

এ ধরণের চাপাচাপির মাঝে পড়ে কোনো খেলোয়াড় পাহাড় পর্বতের মতো ভারি জিনিস মাথার ওপর রেখে যখন খেলে কিভাবে জাতি প্রত্যাশা করতে পারে যে তারা তাদের সেরা খেলাটা খেলবে? খেলাধুলার জগতে প্রতিটি খেলোয়াড় সব সময়েই একা (অলওয়েজ এলোন) আবার কখনোই একা নয় (লেভার এলোন)।

বিশ্বের ১১-১২ টা দেশের মধ্যে ক্রিকেট সীমাবদ্ধ। তারপরও যে পরিমাণ চাপ সৃষ্টি করা হয় তাতে খেলোয়াড়দের পারফরমেন্সের ওপর প্রত্যাশিত ফল লাভ করা কঠিন ব্যপার। নিউজিল্যান্ডাররা তাদের দলের ওপর প্রত্যাশার হিমালয় পাহড় চাপিয়ে দেয়নি। জয় কিংবা পরাজয়কে তারা মেনে নিতে শিখেছে স্বাভাবিকভাবে।

জিতলে অবশ্যই ভালো না জিতলে তাদের কাছে বিশাল ব্যাপার যে তারা অনেক ভালো খেলে চলেছে। আজ হেরেছে, কাল জিততে পারবে, না পারলে পরশু। এভাবে যারা সত্যিকার খেলাধুলায় আশক্ত তারা ভাবতে শিখেছে যা বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা ভারত শেখেনি এখনও তাই তাদের মনোভাব নেতিবাচক। পারবে না এ চিন্তাটি মাথায় আনা বা নেতিবাচকভাবে ভাবতে শুরু করা পরাজয়ের লক্ষণ।

এ পর্যন্ত মোট ছয়টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পরাজয়কে মেনে নিয়েছে নিউজিল্যান্ডাররা। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠল তারা। আমরা সবাই তা জানি, এবারো ফাইনালে হারলে তাদের কাছে পৃথিবী শেষ হয়ে যাবে না। তারা আবার আশায় বুক বাঁধবে। ভালো খেলোয়াড় বা যে জাতি যতো বেশি খেলাধুলায় সময় এবং ত্যাগ স্বীকার করে তাদের মাইন্ড সেট বা জীবনটা খুব সরল, সহজ চাওয়া-পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। হঠাৎ কোনো বড় অর্জনে তারা আত্মগর্বী হয়ে পড়েনা, বা ধরাকে সরা জ্ঞান করে না।

আবার অপ্রাপ্তিতে হতাশ হয় না। অন্যদিকে যদি লক্ষ্য করি ঠিক এর উল্টো দিকে আমাদের উপমহাদেশীয় দেশ এবং দলগুলোর অবস্থান। ভারত উপমহাদেশের বৃহত্তম দেশ, আশা–প্রত্যাশাও সেখানে আকাশচুম্বী। বাংলাদেশের অবস্থা ঠিক এক রকম। আশা এবং প্রত্যাশার চাপেই তাদের স্বাভাবিক খেলার পারফরমেন্স গুলিয়ে ফেলে, পরিকল্পনায় দুর্বলতা ধরা পড়ে। দেখা যায় সামর্থ্য থাকা সত্বেও ভালো খেলতে পারেনি।

সবচেয়ে বড় কথা, মঞ্চ সাজিয়েও মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণের যুগন্ধর এক খেলোয়াড়কে তাঁর শেষ বিশ্বকাপে একটি ট্রফি তারা উপহার দিতে পারলো না। যেমন বংলাদেশ টিম পারল না বাংলাদেশের অধিনায়কে সেরকম করে একটি হ্যাপিঅ্যান্ড দিতে।

আমি টেনিস জগতের মানুষ, টেনিসের অভিজ্ঞতা থেকে এতটুকু বলতে চাই, ভারতের হার ভারতেরই, বাংলাদেশের হার বাংলাদেশের। হার জিত থাকবেই, এ নিয়ে সময় নষ্ট বা ভাবনার কিছু এখন আর নেই। দেখতে হবে পরাজিত হলেও ভালো খেলা দেখিয়ে দর্শকদের আপ্লুত করতে পেরেছে কিনা বা দুর্দান্ত একটি ক্রিকেট ম্যাচ উপহার দিয়েছে কি না? যদি উত্তর হ্যাঁ হয় তবে তার জন্য দুই দলকেই ধন্যবাদ জানাতে শিখতে হবে। খেলাধুলায় উইনার টেকস ইট অল, কাজেই এবারের খেলায় ধন্যবাদ নিউজিল্যান্ডাদেরই প্রাপ্য।

লন্ডনে চলছে টেনিস উইম্বেল্ডন খেলা। বিশ্বের বড় দেশ থেকে শুরু করে ছোট দেশের পার্টিসিপেশন রয়েছে। প্রথমেই আউট হয়েছে অনেকে। আবার আশাবাদীরা তাদের পারফরমেনসে দর্শকদের এখনও হতাশ করেনি। তারপরও সব শেষে মাত্র একজনই জয়ী হবে, ‘দেয়ার উইল বি এ ওয়ান উনিয়ার’। ভয়কে জয় করা বা জয়কে জয় করা একটি চ্যালেঞ্জ। পরাজয়ের ভয়কে জয় করা সত্যিকার অর্থে আসল জয় যা আমাদের শিখতে হবে।

এবারের ওয়ার্ল্ডকাপ ক্রিকেট খেলার জয় পরাজয় থেকে এমনটিই হোক সবার ( lesson learned) শিক্ষনীয়।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×