সর্বজনীন সাফল্যে দরকার সুশিক্ষা এবং ঐক্যবদ্ধতা

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ২০ জুলাই ২০১৯, ১২:২২ | অনলাইন সংস্করণ

সুশিক্ষা

জীবনে বাঁধার সম্মুখীন হলে ধাক্কার প্রয়োজন। যেকোনো কাজে বাঁধা আসতে পারে। শুধু সামনে থেকেই না, বাঁধা পেছন থেকেও আসতে পারে। বাঁধা কি? বাঁধা হতে পারে বিঘ্ন, প্রতিবন্ধকতা, নিষেধ, আটকানো, অপ্রীতিকর কিছু ঘটা, বিরুদ্ধাচরণ ইত্যাদি।

জীবন গড়ায় বাঁধা, বেঁচে থাকায় বাঁধা, সুশিক্ষায় বাঁধা, প্রেমে বাঁধা, হতে পারে নানা রকমের বাঁধা। বাঁধা জীবনে আসতেই পারে। আবার বাঁধার মতো জীবনে যদি কুশিক্ষার আগমন ঘটে কীভাবে তার মোকাবেলা করতে হবে? জীবনের বাঁধায় শিক্ষার ভূমিকা কী সমাধান নাকি সমস্যা? ধরি শিক্ষা হতে পারে বাঁধার সমাধান কিন্তু শিক্ষাই যদি জীবনের গতিতে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় তবে কিভাবে সম্ভব তার মোকাবেলা করা!

জীবন চলার পথে আসতে পারে নানা ধরণের সমস্যা বা বড় ধরণের বাঁধা। কিছু কিছু বাঁধা জীবনের সবকিছু ভেঙেচুরে শেষ করে দিতে পারে। তখন সেই বাঁধাকে সামলাতে জীবন চলার গতিতে নতুন বাঁধার মোকাবেলা করতে হতে পারে। তাই বাঁধার কারণে থেমে গেলে চলবে না আমাদের। যতো বাঁধাই আসুক না কেন জীবনে, তার মোকাবেলা করা শিখতে হবে আমাদের।

আমরা বর্তমান সময়ে কুশিক্ষার বেড়াজালে ধরা পড়েছি। এ বাঁধাকে কিভাবে ধাক্কা দিয়ে বাঁধামুক্ত হবো? এ প্রশ্নের উত্তর অনেকে অনেকভাবে দেবে সমাধান ছাড়া। যেমন কেউ বলবে বর্তমান সময়ের দোষ। কেউ বলবে শিক্ষার দোষ। কেউ বলবে দুর্নীতি বা অনীতির দোষ। আমি বলব দারিদ্রতা, দুর্বল সমাজ, আইন এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থা, দুর্বল শিক্ষা, রাষ্ট্রের দুর্বল পরিকাঠামো এবং সর্বোপরি তার সমন্বয়ের অভাব।

দ্রুত বর্ধমান প্রযুক্তির যুগে সবকিছু এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জ্ঞানবুদ্ধিও খুব দ্রুত এগিয়েছে। বিজ্ঞান, সমাজবিদ্যা, দর্শন, ইতিহাস শাস্ত্র ইত্যাদির অভূতপূর্ব অগ্রগতি হয়েছে। সেটা খারাপ কিছু নয়। খারাপ যেটা, সেটা হচ্ছে অনেক ক্ষেত্রেই আমরা দ্রুতবর্ধমান প্রযুক্তি, সময় এবং শিক্ষার সঙ্গে তাল রেখে এগুতে পারছিনা।

এখনকার বিজ্ঞান বিবর্তনবাদে বিশ্বাসী, এখনকার দর্শন বলে প্রকৃতিই সব, এখনকার ইতিহাসে অলৌকিক উপাখ্যানের ঠাঁই নেই। এক কথায়, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন দিক থেকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে, যেগুলোর মোকাবেলায় এখনো আমরা অতোটা দক্ষতার পরিচয় দিতে পারছিনা। যার কারণে এখন আমাদের জীবনে একটু জ্ঞানের ভাটা চলছে এবং সাধারণ মানুষের জন্য সমস্যা বা বাঁধাকে ধাক্কা দিয়ে সমাধান খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমান জীবনের এই দ্রুতবর্ধমান প্রযুক্তির চলমান গতিতে অনেকেই সত্যিকার অর্থে সব বাঁধাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে শিখেছে। তাই সন্দেহ বা কুশিক্ষার কাছে দমে গেলে সমস্যার সমাধান হবে না। বাঁধার সমাধান খুঁজতে হবে, সন্দেহ এবং কুশিক্ষাকে ধাক্কা দিয়ে সরাতে শিখতে হবে। একই সঙ্গে জানতে হবে যেকোনো বাঁধার সমাধানের প্রথম স্টেপ হচ্ছে বাঁধা যে আদৌ আছে সে স্বীকৃতি দেয়া। বলতে গেলে এ স্বীকারোক্তিই হয়তো জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে এবং যা হতে পারে বাঁধার সমাধান।

এখন আমাদের বাঁধাগুলো যেমন শিক্ষার অবনতি, দুর্বল আইন এবং সমাজ ব্যবস্থা, রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতা এসবের স্বীকারোক্তির সঙ্গে সবার একাত্ববোধ থাকতে হবে। সন্দেহ নয়, মনে প্রাণে সম্মিলিতভাবে বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে।

বর্তমান দ্রুতবর্ধমান পরিস্থিতিতে (দুর্নীতি, প্রশাসন এবং আইনের অবনতি) দেশের অনেকেই চিন্তিত। চিন্তার কারণ যে নেই তাও নয়। একই সঙ্গে বর্তমান দ্রুত বর্ধমান প্রযুক্তির সময়ে আমাদের সামনে বেশ কিছু নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ এসেছে, যার কারণে চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করা কঠিন বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই বলে আমাদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই, নতুন চ্যালেঞ্জ এসেছে বলেই সমাধানের জন্য দরকার জীবনে ধাক্কার।

গতিশীল চলমান জীবনের বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক চ্যালেঞ্জগুলো যেমন সন্দেহ, বাঁধা, দুর্নীতি, অনীতি, অরাজকতা এবং কুশিক্ষা। এ গুলোকে দূর করার জন্য প্রকৃত অর্থে সুশিক্ষার বিকল্প নেই। তাই এ ম্যাস কমিউনিকেশনের যুগে সুশিক্ষার আসল এবং সঠিক রূপ বের করে সমাধানের পথে আমাদের সবাইকে এগোতে হবে।

যদিও সঠিক তথ্য পাওয়া এখন কঠিন বাঁধা, তবুও সুশিক্ষার মধ্য দিয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্র চিহ্নিত করার ব্যাপারে কিছু সাধারণ নির্দেশনা থাকতে হবে। যেমন কোন কোন জায়গা থেকে সুশিক্ষা গ্রহণ করা যেতে পারে কিংবা কোথা থেকে সে শিক্ষা পাওয়া সম্ভব ইত্যাদি।

দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে শিক্ষা প্রশিক্ষণ লাভ করে যাঁরা দেশের সংসদ ভবন, শিক্ষাভবন, প্রশাসন, সচিবালয়, প্রকৌশল, আইন, হাসপাতাল প্রভৃতি ক্ষেত্রে উচ্চপদে কর্মরত তাঁদেরকে সামনে রেখে যদি দুর্নীতি, অনীতি, শিক্ষা এবং কর্মের মান যাচাইবাছাই করি তাহলে বিবেকে বাঁধার সৃষ্টি হতেই পারে এই ভেবে যে, কী শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে দেশের এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে?

মানব জীবনে সন্দেহ আসবে, আসবে বাঁধা। এগুলো দূর করার জন্য দরকার সুশিক্ষার। আবার সুশিক্ষা গ্রহণ করার পর কাগজে কলমে উত্তর পেলেও মনে শান্তি নাও পাওয়া যেতে পারে সমাজ এবং মনের দুর্বল পরিকাঠামোর কারণে। সেক্ষেত্রে দরকার মনের দুর্বল পরিকাঠামোকে ধাক্কা মারা। জীবন চলার পথে বাঁধা আসবে, রাষ্ট্র চালানোর পথে বাঁধা আসবে। বাঁধার সমাধানে - What theories do we want to apply, management by notorious, management by objectives or management by threats! আমি মনে করি সর্বজনীন সাফল্যে দরকার বিশ্বস্ত নেত্রীত্বের আর বাঁধাকে ধাক্কা মেরে দূরে সরাতে যে ঐক্যবদ্ধতা এবং শিক্ষার দরকার তার নাম সুশিক্ষা।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×