আমার আসল পরিচয় কী?

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ২৩ জুলাই ২০১৯, ১১:০৮ | অনলাইন সংস্করণ

সাবাস

সাবাস বাংলাদেশ। দারুণ খেলা চলছে দেশে। দু এক দিন যেতেই নতুন খবর এবং পুরো ঘটনার নতুন মোড়। ব্যাপার কি? কেন এমন হচ্ছে? কি কারণ জড়িত এসব ঘটনা প্রবাহ তৈরি করার পেছনে? প্রথমে গুজব, পরে ঘটনার সত্যতা যাচাই করার জন্য ঘটনা ঘটানো। সর্বশেষে পুরো দেশে আতংক সৃষ্টি করা।

সারা বিশ্বে সেতু তৈরি হচ্ছে কোথাও শুনিনি মানুষের দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে তার ব্যবহার কোথাও করেছে। সেতু করতে অবশ্যই মাথা দরকার তাই তো শ্রমিক, প্রকৌশলী বা যারা সেতু তৈরির কাজে কর্মরত তারা তাদের মাথা দিয়ে সেতু তৈরি করছে। শরীর থেকে মাথা কেটে তাকে কি ভাবে সেতু নির্মাণের কাজে লাগানো সম্ভব? আমার বোধগম্য হচ্ছে না এখনও।

প্রেমে ব্যর্থ চলছে মানুষ খুন, রাজনৈতিক দ্বিমত চলছে মানুষ খুন, উন্নয়নমূলক কাজ যেমন সেতু তৈরি চলছে মানুষ খুন, ধর্মে দ্বিমত চলছে মানুষ খুন। এভাবে খুন চলতে থাকলে তো দেশে ভূত পেত্নীতে ভরে যাবে। ছোট বেলায় দেশে থাকতে শুনেছি বাংলাদেশে ভূত- পেত্নী, জ্বীনপরী আরও কত কি আছে। বুঝলাম, কিন্তু প্রায় চল্লিশ বছর পার করলাম বিদেশে এখনও শুনিনি বা দেখিনি যে সুইডেনে ভূত-পেত্নী বা জ্বীনপরী আছে।

কারণ কি? তাহলে যত ভূত-পেত্নী বা জীনপরি কি শুধু বাংলাদেশে বাস করে?

এখন আবার নতুন খেলা শুরু হয়েছে ডোলান্ড ট্রাম্পের কাছে দেশের বদনাম। ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্ট, তাঁর কাজ আমেরিকার সমস্যার সমাধান করা আর পৃথিবীর শান্তির জন্য সবার সঙ্গে একত্রিত হয়ে মানুষের মঙ্গলের জন্য কাজ করা।

বাংলাদেশের ভেতরেও একই অবস্থা। অনেকে সুযোগ পাচ্ছে দৌড় দিয়ে বিদেশী কূটনৈতিকদের কাছে গিয়ে দেশের বদনাম করছে।

আবার শুরু হয়েছে তা হলো অনেকে অন্যদেশে গিয়ে নিজ দেশের বদনাম করে ব্যক্তিগত সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করছে। যেমন অনেকেই বাংলাদেশ ছেড়ে বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় নিচ্ছে এবং প্রিয়া সাহার মতো দেশের হাজারও বদনাম দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করছে।

এদিকে দেশে যারা রয়েছে তাদের অনেকেই দুর্নীতি, অনীতি, ঘুষ অথবা অর্থ পাচার করে দেশের বারোটা বাজাচ্ছে। বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করালে অনেক বিচারগণও দেখা যাবে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। দেশের প্রাক্তন বিচারপতি আমেরিকার গিয়ে হাজির হয়েছেন। এত বছর ধরে দেশের বারোটা বাজিয়েছেন, ক্ষমতায় থাকতে দেশের জন্য কিছু না করে পরে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে বিদেশে গিয়ে দেশের বদনাম বলে বেড়াচ্ছেন।

আমরা কী শুরু করেছি?

আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে বাংলাদেশের সমস্যা মানে গোটা বিশ্বের সমস্যা। বাংলাদেশেকে ছোট করা মানে পৃথিবীকে ছোট করা। আমি বাংলাদেশি, আমাকে ছোট করা মানে আমার দেশকে ছোট করা, সুইডেনকে ছোট করা কারণ আমি সুইডিশও। সুইডেনকে ছোট করা মানে ইউরোপকে ছোট করা আর ইউরোপেকে ছোট করা মানে গোটা বিশ্বকে ছোট করা।

আমিই বাংলাদেশ আমিই পৃথিবী। মনে হচ্ছে আমিই আনোয়ার, আমিই মনোয়ার, আবার আমিই জানোয়ার। আমিই মানব আবার আমিই দানব।

আমি মানুষ হয়ে অন্য মানুষের মাথা কাটছি। আমি মানুষ হয়ে অন্য মানুষের ঘর বাড়িতে আগুন দিচ্ছি। আমি মানুষ হয়ে অন্য মানুষকে ধর্ষণ করছি। আবার আমি মানুষ হয়ে অন্য মানুষকে ভালবাসছি, অন্য মানুষের বিপদে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছি। আমার অনেক চরিত্র। আমার আসল পরিচয় কী?

আমি হাসতে পারি, আমি কাঁদতে পারি। আমি হাসাতে পারি, আমি কাঁদাতে পারি। আমি পরিবর্তন হতে পারি, আমি পরিবর্তন আনতে পারি। আমি সবই পারি। আমি মানুষ আবার মাঝে মধ্যে দানব। আমি মানুষের মতো বাঁচতে চাই, সারাক্ষণ মানুষ হয়ে বাঁচতে চাই। আমি যখন সবই পারি তখন এ সিদ্ধান্তটাও নিতে পারি যে- আমি মানুষ।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×