জীবনযুদ্ধে জয়ী হতে দ্বন্দ্ব নয় দরকার প্রতিযোগিতার

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ০৫ আগস্ট ২০১৯, ১৩:৫০ | অনলাইন সংস্করণ

প্রতিযোগিতা

আচ্ছা বলো তো একটি ইলিশ মাছের পেটে কতগুলো ডিম থাকে? দশ থেকে পনের লাখ ডিম থাকে। ইলিশ মাছের পেটের লাখ লাখ ডিমের সবগুলোই মাছে পরিণত হয়, যার কারণে ইলিশের সংখ্যা লাখ লাখ গুন বেশি মানুষের চেয়ে।

বলো তো আকাশে কি পরিমাণ তারা রয়েছে? লক্ষ কোটির বেশি হবে!

ভাবো তো একজন পুরুষের একবার যৌন সহবাসে যে পরিমাণ বীর্য নির্গত হয় তাতে কতগুলো শুক্রাণু থাকে? যদি বলি পুরুষের বীর্যে ৪০ কোটি শুক্রাণু থাকে, তাহলে সে অনুযায়ী মেয়েদের গর্ভে যদি সমপরিমাণ শুক্রাণু স্থান পেতো তাহলে কোটি কোটি বাচ্চার জন্ম হতো।

কিন্তু এই কোটি কোটি শুক্রাণু মায়ের জরায়ুর দিকে দ্রুততার সঙ্গে ছুটে গিয়ে মাত্র একটি শুক্রাণু ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হয় এবং সে মহা শক্তিশালী শুক্রাণু যে ডিম্বাণুকে ফার্টিলাইজ করে বা ডিম্বাণুতে আসন গ্রহণ করে।

জানিনা এ শুক্রাণু ভাগ্যবান, নাকি জীবন যুদ্ধে জয়ী! যাই হোক না কেনো তাদের মধ্যে মাত্র সেই ভাগ্যবান শুক্রাণুটি আমি, তুমি এবং সে মানে আমরা।

কোটি কোটি শুক্রাণুর মধ্যে মাত্র একজন মানুষের সৃষ্টি যা বিষ্ময়কর ব্যাপার। সে শুক্রাণুর জন্মের শুরু থেকে মায়ের গর্ভ হতে বের হওয়া, তারপর তিলে তিলে বড় হওয়া, জীবনযুদ্ধে প্রতিযোগিতার মাঝে টিকে থাকা এক বিশাল ব্যাপার, যা ভাবতেই গা শিউরে উঠে। এত বড় দায়িত্ব নিয়ে আমাদের আগমন, আমরা সত্যিই বিশাল ভাগ্যবান মানুষ জাতি। তাইতো আমাদের জন্ম হয়েছে পৃথিবীর দায়িত্ব নেয়ার জন্য।

এত বড় ভাগ্য নিয়ে যাদের জন্ম তাদের জীবনের আত্মবিশ্বাস বিশাল সাগরের মতো হওয়ার কথা। অথচ অল্পতেই কেন যেন আমাদের মধ্যে ভেঙ্গে পড়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। কেন এত হতাশা আর কেনই বা নিরাশা? যদি প্রশ্ন করি কি আছে জীবনে বা কি নেই জীবনে? জানিনা কি হবে উত্তর! হয়তো শুধু নেই, নেই আর নেই। মনে হবে আমি নেই, আমার কিছু নেই শেষে আমি নিজেই নেই, আমি হারিয়ে গেছি নেইয়ের মাঝে।

আমি হারবো, আমি হার মানবো। আমি জিতবো, জিতের উল্লাসে উল্লাসিত হবো। কিন্তু হঠাৎ যদি জীবন চলার পথে বাঁধা আসে আর সে বাঁধার কারণে যদি ভেঙে পড়ি বা বাঁচতে না চাই, তাহলে তো চলবে না।

আমাদের জীবনে মাঝে মধ্যে এমন ধরনের ক্রাইসিস দেখা দেয় বা দিতে পারে। ঠিক তখন ভাবতে হবে সেই কোটি কোটি শুক্রাণুর মধ্যে আমি ছিলাম সেই শক্তিশালী, যে ডিম্বাণুকে ফার্টিলাইজ করে জিতেছিল। আমাদের চিন্তায় সবসময় রাখতে হবে যে আমি শুরুতে জিতেছি, আমি মাঝপথেও জিতব, আমি শেষেও জিতব।

আমি আমার মনকে মাঝে মধ্যে প্রশ্ন করি, কি প্রতিভা আছে আমার মধ্যে? আমি আমার মনের চাওয়াকে সব সময় মূল্য দিই, সব সময় স্রস্টাকে স্বরণ করি। তাতে দেখা যাচ্ছে আমি বেশ ভালোই আছি। মনের জোর নিয়ে যুদ্ধ করতে করতে দেখা যাচ্ছে আমি জিতেই চলেছি।

আচ্ছা এত গেল আমার কথা, কিন্তু নতুন প্রজন্মদের অবস্থা কি? তাদের তো জীবন চলার পথ শুরুই হয়নি। তবে তারা কেন নিরাশ আর হতাশ? তারা কেন পরাজিত? তারা তো সেই শক্তিশালী শুক্রাণু যারা যুদ্ধে জয়ী হয়ে ফার্টিলাইজেশনে জিতে পৃথিবীতে এসেছে।

তাদের কাজ এখন পৃথিবীকে সুন্দর করে গড়ে তোলা। যেখানে সুশিক্ষা এবং সুপরিবেশে থাকবে ভরপুর এবং তাদের কাজ হবে শুধু নিজের দেশ নয় পুরো পৃথিবীকে স্বাধীন রাখা।

ওগো হে নতুন প্রজন্ম; মনে রেখো তোমরা পরাজিত সৈনিক নও তোমরা বিজয়ী। বিজয়ের পতাকা তোমাদের হাতে থাকার কথা। অথচ ইয়াবা, ছুরি বন্দুক নিয়ে তোমরা অন্ধকারে কি করছো? তোমরা না সেই বীর সৈনিক, যারা জয়ী হয়েছিলে ৪০ কোটি শুক্রাণুর মধ্যে! ইয়াবা, ছুরি, বন্দুক মানায় কি তোমাদের হাতে? ওসব ছাড়ো, ভয়কে জয় করতে দরকার আত্মবিশ্বাসের, তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরতে শেখো, জয় তোমাদের হবেই।

মনে রেখো জীবন যুদ্ধে জয়ী হতে দ্বন্দ্ব নয় দরকার প্রতিযোগিতার কারণ,

‘You are the world

You are the children

You are the ones who make a brighter day, so let's start giving

There's a choice you're making...’।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×