প্রাইমারী স্কুলে মধ্যাহ্নভোজন, চমৎকার

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ২২ অগাস্ট ২০১৯, ১১:৫৫:১৯ | অনলাইন সংস্করণ

দেশের সব প্রাথমিক স্কুলে দুপুরে খাবার দেয়া হবে। সরকারের এমন একটি নতুন উদ্যোগ যা দেশ নিশ্চই ভালো চোখে দেখবে। লাঞ্চ দেয়া হবে স্কুলে, এই আগ্রহে অনেকে স্কুলে যাবে। লাঞ্চ তৈরির জন্য স্কুলে নতুন কিছু কর্মী নিয়োগ করা হবে সেটাও একটা ভালো দিক।

বিক্রেতাগন নতুন ব্যবসার সুযোগ পাবে। সমস্থ শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী একসঙ্গে বসে ডাইনিং হলে লাঞ্চ করবে যেখানে থাকবে না কোন শ্রেনী ভেদাভেদ, থাকবে না কোন জড়তা। স্কুলের সবার এক সঙ্গে বসে লাঞ্চ করা মানে সমাজের মধ্যে যে ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ রয়েছে তাও কিছুটা কমবে। ভাতৃত্ববোধ, পরস্পরের ওপর রেসপেক্ট বৃদ্ধি পাবে।

ছোটবড় সবাই এক সঙ্গে মেলামেশার একটি সুযোগ পাবে। তাদের মধ্যে আলাপ আলোচনায় ছোটদের মধ্যে যেমন সাহসের (confidence) সৃষ্টি হবে, তেমনি বড়দের মধ্যে দায়িত্ববোধ বাড়বে। অতএব সরকারের এ উদ্যোগ এবং সামান্য একটি ভালো পরিকল্পনা পুরো সমাজ এবং দেশের পরিকাঠামোর একটি বিরাট পরিবর্তন ঘটাবে। এ ভাবেই একটি উদিয়মান জাতি, একটি দেশ ধাপে ধাপে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। ধন্যবাদ বাংলাদেশ শিক্ষা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী এবং উদ্যোগতাদের।

আসুন কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করি। সুইডেনের স্কুলে পড়াকালীন আমার দুই ছেলে মেয়ে লাঞ্চ করেছে। এখানকার স্কুলে পুরো সপ্তাহের লাঞ্চের মেনু নোটিশবোর্ডে, স্কুলের হোমপেজে এবং শিক্ষার্থীর সাপ্তাহিক রুটিনে লেখা থাকে। এখানকার লাঞ্চ মেনুতে দুধ, ফলের রস, পানিসহ কোন না কোন ফল থাকে। সালাদ, ব্রেড সঙ্গে বাটার এবং মেইন ডিসে যেমন সুপ, গোস্ত বা মাছের কোন একটি খাবার প্রতিদিন থাকবেই। অনেকের এলার্জি থাকতে পারে বা ধর্মীও বিধি নিষেধের কারণে ভেজিটেরিয়ান খাবারেরও ব্যবস্থা থাকে।

এখানের খাবারে মেন্যু লক্ষ্য রাখা হয় শিশুর যে পুষ্টির প্রয়োজন তার গ্রোথে, তা যেন খাবারের মধ্যে থাকে। মাসে মাসে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ নানা বিষয়ের উপর (যেমন হাইজেনিক, খাবারে ভেজাল, লেখাপড়ার পরিকাঠামো ইত্যাদি) স্কুলে এসে পরিদর্শন (audit) করে থাকে। যাতে করে কোথাও কোন ত্রুটি বা গাফিলতি না হয়।

সুইডেনে স্কুল লাঞ্চের সময়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়টা সবাই বেশ আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করে। বন্ধুবান্ধব মিলে কিছুক্ষন আড্ডা দেয়া, ক্ষনিকের তরে ভুলে যাওয়া সেই বদ্ধ ক্লাসে বসে শুধু মনযোগী হওয়া। সারাক্ষণ ক্লাসে বসে মনযোগী হওয়া একজন শিশুর জীবনকে এক ঘেঁয়ে করে তোলে। এর থেকে রেহাই পাওয়ার এক চমৎকার সময় এই যৌথ লাঞ্চ ব্যবস্থা। এখানে শিশুরা জানে যে তাদের লাঞ্চের সময় অন্যান্য ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে মেলামেশার একটি সুযোগ হবে, বিধায় ক্লাসে তারা পড়ায় বেশ মনোযোগী হয়ে থাকে।

যেহেতু কেজি, প্রাইমারী এবং হাইস্কুলের সময়টা জীবন গড়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় বিধায় উন্নত দেশগুলো এর ওপর সবসময় গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এখানকার জনগণ কখনও আপোস করে না স্কুলের উন্নতির ধাপে ব্যাঘাত ঘটলে। সচেতন জাতি শিক্ষায় গাফিলতি করে না এটাই স্বাভাবিক। জার্মানীতে যেমন তৃতীয় শ্রেনী থেকেই যাচাই বাছাই করা হয় শিশুর ভবিষ্যৎ স্কুল প্ল্যান। সে ক্ষেত্রে সেখানে স্কুলের গুরুত্ব খুবই বেশি। কারণ ভালো শিক্ষা না পেলে তারা জানে যে পরে সমাজে বা বর্হিবিশ্বে টিকে থাকা কঠিন হবে।

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সঠিক পরিপূর্ণতা পেতে হলে ধীরে ধীরে সিস্টেম থেকে শুরু করে শিক্ষার পদ্ধতি, প্রশিক্ষণের ধরণ, শিক্ষকদের প্রশিক্ষন এবং সর্বোপরি ম্যানেজমেন্টের পরিবর্তন আনতে হবে। অভিভাবক এবং রাজনৈতিকদের সক্রিয় ভূমিকা এবং অংশগ্রহণ খুবই প্রয়োজন সমৃদ্ধশীল এবং সৃজনশীল সুশিক্ষা পেতে। রপ্তানীমূলক এবং কোয়ালিটি বেইজড এডুকেশন পেতে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে দেশ এবং বহিঃবিশ্বের চাহিদা মেটানো এবং উন্নতির স্বার্থে।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত