পর্তুগাল প্রবাসী উদ্যমী তরুণ উদ্যোক্তা জিয়াউর রহমান নিপু

  মো. রাসেল আহম্মেদ, পর্তুগাল থেকে ২৪ আগস্ট ২০১৯, ১৪:৩৩ | অনলাইন সংস্করণ

জিয়াউর রহমান নিপু

জিয়াউর রহমান নিপু বাংলাদেশের অনগ্রসর একটি গ্রামে বেড়ে ওঠা ছেলে। যার শৈশবকাল, শিক্ষা জীবন, পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার সংগ্রাম, ক্যারিয়ার গঠনের অদম্য স্পৃহা, পরিবার, ধর্ম, সাংসারিক জীবনসহ বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে পর্তুগালের জনপ্রিয় অভিবাসন বান্ধব পত্রিকা 'জার্নাল দা মুরারিয়া' তে তাদের ১১ তম সংখ্যায় তার ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার, ক্যারিয়ার এবং অভিবাসন জীবনের নানান দিক নিয়ে কভার স্টোরি করেছে যা প্রকাশ হয়েছে ১০ আগস্ট।

২০০৪ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা দেয়ার পরপরই একজন বিক্রয় প্রতিনিধি হিসাবে মাত্র ১৮০০ টাকার বেসিক সেলারি নিয়ে প্রাণ কোম্পানিতে কাজ শুরু করেন। একাগ্রতার সঙ্গে এই কোম্পানিতে ১৫ মাস করার পর জোনাল ম্যানেজার হিসাবে পদোন্নতি পান এবং পরবর্তীতে ১৮ মাস জোনাল ম্যানেজার হিসাবে কর্মরত অবস্থায় "এক্সপোর্ট মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার" হিসাবে পদোন্নতি পেয়ে আফ্রিকা মহাদেশে প্রান - আরএফএল পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করার দায়িত্ব পান। এর মাঝে চাকুরী চলাকালীন অবস্থায় কিছুটা অনিয়মিতভাবে একাডেমিক ক্লাস না করেই ২০০৭ সালে মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হন।

সেই থেকে সেপ্টেম্বর ২০১৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তিনি আফ্রিকা, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশে উৎপাদিত খাদ্য পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আফ্রিকার দেশগুলো রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে অবস্থান করলেও আজ বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য বিপণনের কারণে আফ্রিকান জনগণের কাছে বাংলাদেশ একটি খুবই পরিচিত দেশের নাম সেখানে।

বর্তমানে বাংলাদেশ আরেকটি অন্যতম বৃহৎ খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সজীব গ্রুপ এ আফ্রিকা এবং ইউরোপ মহাদেশের দেশগুলোতে বাজার সম্প্রসারণে সহকারী মহাব্যবস্থাপক হিসাবে কাজ করছেন।

ইতিমধ্যে বিশ্বের ৩৮ টি দেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন কোম্পানির পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের কাজে ভ্রমণ করেছেন। ইংলিশ, ফ্রেঞ্চ, পর্তুগিজসহ ৬ টি ভাষাতে কথা বলতে পারদর্শী তিনি। বর্তমানে পর্তুগালে অফিসিয়াল হেড কোয়ার্টার করে আফ্রিকা এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর বাজার সম্প্রসারণের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের খাদ্য পণ্যের উপস্থিতি এবং এর সম্ভাবনাময় বাজার সম্পর্কে রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশে উৎপাদিত খাদ্য পণ্যের উপস্থিতি বা বর্তমান মার্কেট শেয়ার খুবই কম। সাধারণত বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশি প্রবাসী অধ্যুষিত দেশগুলোতেই বেশি রপ্তানি করে থাকেন এবং সেখানে বাংলাদেশি মালিকানাধীন গ্রোসারি শপ বা সুপার মার্কেটগুলোতেই দেশীয় পণ্যের বেশি উপস্থিতি দেখা যায়। সেই হিসাবে মূলধারার মার্কেট শেয়ার থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি।

তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশে উৎপাদিত খাদ্যপণ্য বাজারজাতকরণের একটি অপার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশের রফতানি আয় বৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগও রয়েছে। এর জন্য বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগগুলোকে আরো তৎপর হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে বৈদেশিক বাজারের ধরণ, তাদের খাদ্যাভ্যাস, প্রতিদ্বন্দ্বী রপ্তানিকারক দেশগুলোর বিক্রয় নীতি বা কর্মপন্থা সম্পর্কে ধারণা নিয়ে আমাদের রফতানি নীতি বা কর্মপন্থা তৈরি করতে হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশি তরুণ এ উদ্যোক্তা লিসবনে বসবাস করছেন। দাম্পত্য জীবনে দুই কন্যা সন্তানের পিতা এবং স্বপরিবারে লিসবনে বসবাস করছেন। এপ্রসঙ্গ কথা হলে তিনি উল্লেখ করেন কাজের সুবাদে আমার তিন ডজনের বেশি দেশ ভ্রমণের সুযোগ হয়েছে। কিন্তু পর্তুগাল আমার কাছে এবং আমার পরিবারের কাছে ভাল লেগেছে। বিশেষ করে এখানকার আবহাওয়া, মানুষজন এবং সহজ অভিবাসন নীতি।

পর্তুগাল বিশ্বের সম্ভবত একমাত্র দেশ যেখানে মাত্র পাঁচ বছর বৈধভাবে বসবাস করলে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। এখানে বৈধভাবে প্রবেশ করে কিছু নিয়ম কানুন মেনে সহজেই বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায়। তাছাড়া ইউরোপ তথা বহির্বিশ্বের তুলনায় এখানে বর্ণবৈষম্য একেবারে নেই বললেই চলে। তাই এখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।

উল্লেখ্য, জিয়াউর রহমান নিপুর জন্ম বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া। অদূর ভবিষ্যতে একটি অনলাইন ভিত্তিক আইটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশীয় পানীয় ও খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইউরোপ, আফ্রিকাসহ আন্তর্জাতিক বাজারের বিভিন্ন আমদানিকারক এবং বণিক সম্প্রদায়গুলোর সঙ্গে একটা সেতুবন্ধন তৈরি করতে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×