প্রভাতে সে এক মজার স্বপ্ন
jugantor
প্রভাতে সে এক মজার স্বপ্ন

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে  

২৮ আগস্ট ২০১৯, ১৭:২৮:২৫  |  অনলাইন সংস্করণ

রহমান মৃধা

সকাল তিনটায় ঘুম থেকে উঠেছি। আমার ছেলে জনাথানের ফ্লাইট খুব সকালে। তার খেলা এ সপ্তাহে ইটালিতে। ওহ সে এটিপি (Association of Tennis Professionals) টেনিস খেলোয়াড়।

তাকে এয়ারপোর্টের বাসে তুলে দিয়ে বাসায় ফিরেছি। দুই সপ্তাহ আগেও সূর্যের কিরণ দেখেছি এ সময়ে সুইডেনে। তবে আজ বেশ অন্ধকার; যদিও সকাল চারটা বাজে। ভাবলাম ঘণ্টা দুই ঘুমানো যাবে তাই ঘুমাতে গেলাম। কিন্তু ঘুম আসছে না। নানা বিষয়ের ওপর চিন্তা করতে করতে কখন ঘুমিয়ে গেছি তা জানি না।

একটি ভিন্ন ধরনের স্বপ্নের মাঝে ডুবে আছি। এ কেমন স্বপ্ন? বাইরে খোলামেলা জায়গায় বসে আছি একটি নারিকেল গাছের নিচে। জায়গাটা বাংলাদেশের কোন এক গ্রাম হবে। হঠাৎ এক কান্দি ডাব আমার সামনে পড়লো এবং কয়েকটি ডাব ফেটে গেল। তাড়াহুড়ো করে কিছুটা পানি খেলাম।

পরে দেখি দুটো ডাব বেশ বড় আকারে যা ফাটেনি। একটি কেটে পানি খেতেই মনে হলো ভেতরে কিছু একটা রয়েছে। দা দিয়ে ডাবটাকে দুই ভাগ করতেই দেখি ডাবের মধ্যে বেশ কয়েক ধরনের পাথর, তার মধ্যে সোনালী রংয়েরও কয়েকটি পাথর রয়েছে। মোট পাথরগুলোর আনুমানিক ওজন এক কেজির মত হবে।

বেশ চিন্তায় পড়লাম! সুন্দর ওয়েদার, ঝড় বৃষ্টি ছাড়া হঠাৎ এতগুলো ডাব নিচেই পড়ল! এ এক আকস্মিক ঘটনা, নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছে না, অন্যকে কীভাবে বিশ্বাস করাবো!

যাই হোক ধীরে ধীরে অনেক লোকের আগমন হলো। ছুটে এসেছে হাজারও মানুষ ঘটনা শোনার পর পাথরগুলো দেখতে। অনেকে মন্তব্য করছে নানা ভাবে। কেউ বলছে আমার ভাগ্য ভালো ইত্যাদি। ঘড়িতে অ্যালার্ম দিয়েছে মারিয়া (আমার স্ত্রী) সকাল সাতটায়। ঘুম ভেঙ্গে গেলো তাই বাকি সব অজানা রয়ে গেল। এমন কী হলো বা কী ছিল সেই পাথরগুলোর মধ্যে?

ঘুম থেকে উঠে কিছুক্ষণ পর টেলিফোনে কিছু ম্যাসেজ দেখতে চোখে পড়ে গেল একটি আনন্দের খবর। আমার সম্পর্কে এক খালাতো ভাই। দুই মাস আগে এসেছিল সুইডেনে তার আরেক বন্ধুর সঙ্গে বেড়াতে। গত সপ্তাহে তারা দুজনই ইউএস অ্যাম্বাসিতে টুরিস্ট ভিসার জন্য অ্যাপ্লাই করেছিল। একজনের ভিসা হয়নি জেনেছি গত সপ্তাহে। তার জন্য একটু খারাপ লেগেছে, বেচারার খুব সখ বিশ্ব ভ্রমণ করার। আজ আমার খালাতো ভাইয়ের ইন্টারভিউ ছিল।

গতকাল রাতে তাকে উইস করেছিলাম। সকালে ম্যাসেঞ্জারে খবর রেখেছে তাকে ইউএস অ্যাম্বাসি ভিসা দিয়েছে। খবরটা শুনে সত্যি মনটা ভাল লাগছে তার জন্য। সকালের স্বপ্নের সঙ্গে কি তার ভিসার খবরটার কোন লিংক রয়েছে? জানি না। তবে কিছু স্বপ্ন যে সত্যি হয় জীবনে সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত।

জেগে জেগে স্বপ্ন দেখা যা অনেক সময় সত্যিই বাস্তবে ঘটে। কিন্তু আজ খালাতো ভাইয়ের ইউএস ভিসা পাওয়ার সঙ্গে ঘুমের ঘোরে ডাবের মধ্যে গোল গোল পাথরের কি মিল তা আমার জানা নেই। জানার দরকারও নেই, তবে তার জন্য ‘ড্রিম কাম ট্রু’ হয়েছে। আমার সকালের স্বপ্নের শেষে ঘুম ভাঙতেই এমন একটি খবর যা আমাকে আপ্লুত করেছে তার জন্য।

গত দুই দিন আগে তার সঙ্গে কথা হতে সে বলেছিল ভাই ১০০ জন ভিসার জন্য অ্যাপ্লাই করলে মাত্র দুইজন ভিসা পেয়ে থাকে। আমি তাকে বলেছিলাম দুইজন তো পায়? সে বলেছি জ্বী, আমি বলেছিলাম ধরে নাও তুমি সেই দুইজনের মধ্যে একজন। কেন বলেছিলাম জানি না তবে বলেছিলাম। কারণ আমার মনে হয়েছিল, তাকে ইউএস অ্যাম্বাসি ভিসা দিবে।

আজ সেই কথা সত্যি হয়েছে। তবে আমার ভাবনায় ঢুকেছে কবে আসবে সেই দিন, যে দিন ১০০ জন বাংলাদেশি ইউএস ভিসার জন্য আবেদন করলে ১০০ জনই ভিসা পাবে!

রহমান মৃধা, দূরপরবাস সুইডেন থেকে, rahman.mridha@gmail.com

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

প্রভাতে সে এক মজার স্বপ্ন

 রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে 
২৮ আগস্ট ২০১৯, ০৫:২৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
রহমান মৃধা
রহমান মৃধা

সকাল তিনটায় ঘুম থেকে উঠেছি। আমার ছেলে জনাথানের ফ্লাইট খুব সকালে। তার খেলা এ সপ্তাহে ইটালিতে। ওহ সে এটিপি (Association of Tennis Professionals) টেনিস খেলোয়াড়। 

তাকে এয়ারপোর্টের বাসে তুলে দিয়ে বাসায় ফিরেছি। দুই সপ্তাহ আগেও সূর্যের কিরণ দেখেছি এ সময়ে সুইডেনে। তবে আজ বেশ অন্ধকার; যদিও সকাল চারটা বাজে। ভাবলাম ঘণ্টা দুই ঘুমানো যাবে তাই ঘুমাতে গেলাম। কিন্তু ঘুম আসছে না। নানা বিষয়ের ওপর চিন্তা করতে করতে কখন ঘুমিয়ে গেছি তা জানি না। 

একটি ভিন্ন ধরনের স্বপ্নের মাঝে ডুবে আছি। এ কেমন স্বপ্ন? বাইরে খোলামেলা জায়গায় বসে আছি একটি নারিকেল গাছের নিচে। জায়গাটা বাংলাদেশের কোন এক গ্রাম হবে। হঠাৎ এক কান্দি ডাব আমার সামনে পড়লো এবং কয়েকটি ডাব ফেটে গেল। তাড়াহুড়ো করে কিছুটা পানি খেলাম। 

পরে দেখি দুটো ডাব বেশ বড় আকারে যা ফাটেনি। একটি কেটে পানি খেতেই মনে হলো ভেতরে কিছু একটা রয়েছে। দা দিয়ে ডাবটাকে দুই ভাগ করতেই দেখি ডাবের মধ্যে বেশ কয়েক ধরনের পাথর, তার মধ্যে সোনালী রংয়েরও কয়েকটি পাথর রয়েছে। মোট পাথরগুলোর আনুমানিক ওজন এক কেজির মত হবে। 

বেশ চিন্তায় পড়লাম! সুন্দর ওয়েদার, ঝড় বৃষ্টি ছাড়া হঠাৎ এতগুলো ডাব নিচেই পড়ল! এ এক আকস্মিক ঘটনা, নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছে না, অন্যকে কীভাবে বিশ্বাস করাবো!

যাই হোক ধীরে ধীরে অনেক লোকের আগমন হলো। ছুটে এসেছে হাজারও মানুষ ঘটনা শোনার পর পাথরগুলো দেখতে। অনেকে মন্তব্য করছে নানা ভাবে। কেউ বলছে আমার ভাগ্য ভালো ইত্যাদি। ঘড়িতে অ্যালার্ম দিয়েছে মারিয়া (আমার স্ত্রী) সকাল সাতটায়। ঘুম ভেঙ্গে গেলো তাই বাকি সব অজানা রয়ে গেল। এমন কী হলো বা কী ছিল সেই পাথরগুলোর মধ্যে?

ঘুম থেকে উঠে কিছুক্ষণ পর টেলিফোনে কিছু ম্যাসেজ দেখতে চোখে পড়ে গেল একটি আনন্দের খবর। আমার সম্পর্কে এক খালাতো ভাই। দুই মাস আগে এসেছিল সুইডেনে তার আরেক বন্ধুর সঙ্গে বেড়াতে। গত সপ্তাহে তারা দুজনই ইউএস অ্যাম্বাসিতে টুরিস্ট ভিসার জন্য অ্যাপ্লাই করেছিল। একজনের ভিসা হয়নি জেনেছি গত সপ্তাহে। তার জন্য একটু খারাপ লেগেছে, বেচারার খুব সখ বিশ্ব ভ্রমণ করার। আজ আমার খালাতো ভাইয়ের ইন্টারভিউ ছিল। 

গতকাল রাতে তাকে উইস করেছিলাম। সকালে ম্যাসেঞ্জারে খবর রেখেছে তাকে ইউএস অ্যাম্বাসি ভিসা দিয়েছে। খবরটা শুনে সত্যি মনটা ভাল লাগছে তার জন্য। সকালের স্বপ্নের সঙ্গে কি তার ভিসার খবরটার কোন লিংক রয়েছে? জানি না। তবে কিছু স্বপ্ন যে সত্যি হয় জীবনে সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত। 

জেগে জেগে স্বপ্ন দেখা যা অনেক সময় সত্যিই বাস্তবে ঘটে। কিন্তু আজ খালাতো ভাইয়ের ইউএস ভিসা পাওয়ার সঙ্গে ঘুমের ঘোরে ডাবের মধ্যে গোল গোল পাথরের কি মিল তা আমার জানা নেই। জানার দরকারও নেই, তবে তার জন্য ‘ড্রিম কাম ট্রু’ হয়েছে। আমার সকালের স্বপ্নের শেষে ঘুম ভাঙতেই এমন একটি খবর যা আমাকে আপ্লুত করেছে তার জন্য। 

গত দুই দিন আগে তার সঙ্গে কথা হতে সে বলেছিল ভাই ১০০ জন ভিসার জন্য অ্যাপ্লাই করলে মাত্র দুইজন ভিসা পেয়ে থাকে। আমি তাকে বলেছিলাম দুইজন তো পায়? সে বলেছি জ্বী, আমি বলেছিলাম ধরে নাও তুমি সেই দুইজনের মধ্যে একজন। কেন বলেছিলাম জানি না তবে বলেছিলাম। কারণ আমার মনে হয়েছিল, তাকে ইউএস অ্যাম্বাসি ভিসা দিবে। 

আজ সেই কথা সত্যি হয়েছে। তবে আমার ভাবনায় ঢুকেছে কবে আসবে সেই দিন, যে দিন ১০০ জন বাংলাদেশি ইউএস ভিসার জন্য আবেদন করলে ১০০ জনই ভিসা পাবে!

রহমান মৃধা, দূরপরবাস সুইডেন থেকে, rahman.mridha@gmail.com

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
 

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম