সুন্দর জীবন যাপনে অবকাঠামোর ভূমিকা অপরিসীম

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ৩০ আগস্ট ২০১৯, ১০:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

সুন্দর জীবন

একটি দেশের সকল মানুষের জীবনের মান উন্নয়নের স্বার্থে দরকার সিস্টেম, প্রযুক্তি এবং সুবিধাসমূহের অবকাঠামো। যার মৌলিক উদ্দেশ্যই হলো পরিসেবা দেয়া। সরকারী এবং বেসরকারী খাতের সার্বিক উন্নয়ন যেমন রাস্তা, রেলপথ, সেতু, টানেল, পানি সরবরাহ, নর্দমা, বৈদ্যুতিক গ্রিড, টেলিযোগাযোগ এবং ইন্টারনেট সম্পর্কিত প্রকল্পে এ ধরনের অবকাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে।

যদিও একটি দেশের জন্য এ ব্যবস্থাগুলি ব্যয়বহুল বিনিয়োগ, তবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির জন্য এর গুরুত্ব অপরিসীম। শুধু অবকাঠামো থাকলেই হবে না দরকার তা রক্ষণাবেক্ষণ করা।

প্রয়োজনীয় পণ্য ও পরিষেবা সরবরাহকারী আন্তঃসম্পর্কিত সিস্টেমগুলির রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত উপাদানগুলোর দুটো দিক রয়েছে, hard এবং soft infrastructure. Hard infrastructure বলতে আধুনিক শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় নেটওয়ার্ককে বোঝায়।

এর মধ্যে রাস্তা, সেতু, রেলপথ ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। Soft infrastructure বলতে বোঝায় যা দেশের অর্থনৈতিক, স্বাস্থ্য, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক মানকে বজায় রাখে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম, অফিসিয়াল পরিসংখান, পার্ক এবং বিনোদনমূলক সুবিধা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং জরুরি পরিষেবাগুলি।

পাশ্চাত্যর দেশগুলোতে নিত্যনতুন প্রযুক্তির ঢেউ বয়ে চলেছে। উদাহরণস্বরূপ সুইডেন এবং নরওয়েকে ধরা যেতে পারে। নরওয়ের নিজস্ব তেল রয়েছে সত্বেও ইলেক্ট্রিক গাড়ির ব্যবহারে তারা উঠেপড়ে লেগেছে।

কারণ তারা বিশ্বের জলবায়ুর পরিবর্তনের কথা ভাবছে। সুইডেন এবং নরওয়ে তাদের বসতবাড়ির কাজে গ্রীন হাউজ কনসেপ্ট ব্যবহার করে নতুনত্বের ঢেউ বইয়ে দিয়েছে।

এরা পুরনো প্রথানুযায়ী নয় বরং নতুনভাবে বিল্ডিং কন্সট্রাকশনের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ করছে। পরিবেশ বান্ধব বসতবাড়ির ছোয়া, সঙ্গে খোলামেলা পরিবেশ এদের দেশে নতুন অবকাঠামোর ঢেউ তুলেছে।

কনস্ট্রাকশন কম্পানীগুলো এদের জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্মাণ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর দিকে লক্ষ্য রেখে নির্মান সংক্রান্ত কাজ করছে। কনস্ট্রাকশন কম্পানীগুলো বিশ্বাস করে যে খুব ভাল পারফরম্যান্স যুক্ত বিল্ডিংগুলি তাদের ব্যবসা এবং কৌশলগত বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে।

এই পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে বিদ্যুতের চাহিদা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, জানালাগুলোর গুণমান এবং নিরোধকের (isolation) ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বর্তমান বিশ্বে জলবায়ুর পরিবর্তনের কথা চিন্তা করে।

যার কারণে পরিবেশবান্ধব ভবনগুলি প্রচলিত বিল্ডিংয়ের চেয়ে ভালো জনপ্রিয়তা লাভ করছে। বিশ্বের অনেক দেশ থেকে সরকারী এবং বেসরকারী কর্মকতাবৃন্দ এখানে আসছে, দেখছে, শিখছে এবং শেষে তাদের দেশেও পরিবেশ বান্ধব ঘর-দুয়ার, অফিস-আদালত নির্মানের কথা ভাবছে।

বাংলাদেশের মত দেশগুলোকে ভাবতে হবে এমন ধরনের টেকনোলজি ব্যবহার করার মতো পারিপার্শ্বিক অবকাঠামোগুলো আছে কি? যদি না থাকে, তাহলে পরিবেশবান্ধব বিল্ডিং কন্সট্রাকশনে প্রচুর জটিলতা দেখা দেবে এবং রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে ব্যয়বহুল হবে।

কেন হঠাৎ অত্যাধুনিক ঘরবাড়ি নিয়ে লেখা? কারণ একটাই তা হলো দেশের অবকাঠামোকে টেকসই, মজবুত এবং কোয়ালিটি সম্পন্ন করে গড়তে হবে তাই। যেমন সবকিছু নির্মাণে ঢাকা কেন্দ্রিক চিন্তা না করে দেশর অন্যান্য শহর কেন্দ্রিক পরিকল্পনা থাকতে হবে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। সর্বোপরি ভালো মন্দের বিচার শিখতে হবে।

বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ১৭ কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন মানের উন্নয়ন করা। বেসিক দিকগুলো যা ওপরে বর্ণনা করেছি যেমন hard এবং soft infrastructure, তা যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হই, তবে আস্তে আস্তে নরওয়ে এবং সুইডেনের নতুনত্বের স্পর্শ আমরাও বাংলাদেশে অ্যাপ্লাই করতে সক্ষম হবো।

বর্তমানে দরকার দেশের জনসংখ্যাকে নানাভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া। জনসংখ্যাকে বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দিয়ে কোয়ালিটি বেজড প্রডাক্ট তৈরি করে বহিঃবিশ্বের চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে সাহায্য করা।

সেই সঙ্গে আমাদের প্রশিক্ষণকে বিশ্বের অন্যান্য দেশে ভালো মূল্যে এবং মান সম্পন্ন দামে বিক্রি করার ব্যবস্থা করা। সে ক্ষেত্রে শিক্ষার ধরণের ওপর গুরুত্ব দেয়া আশু প্রয়োজন। সরকারের কাজের টু ডু লিস্টের প্রথম কাজটি হওয়া দরকার দেশের ম্যান পাওয়ারের আত্নমর্যাদা বৃদ্ধি করা এবং কর্মসংস্হান জোগাড়ের অবকাঠামো তৈরি করা বহিঃবিশ্বের সঙ্গে, দেশ ও জাতির স্বার্থে।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×