ভেজাল ও দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে জিরো টলারেন্স দরকার

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ৩১ আগস্ট ২০১৯, ১৬:১২ | অনলাইন সংস্করণ

ভেজাল ও দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে জিরো টলারেন্স দরকার
ভেজাল ও দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে জিরো টলারেন্স দরকার

সমাজের আইন কানুন মানুষের সুবিধার্থে করা। এখন যদি সুবিধাগুলো অসুবিধায় পরিণত হয় তখন কী করা! যেমন ধরুন অসুখ করেছে, গেলাম সুস্থ হবার জন্য ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার দিল ওষুধ, সেবনের পর দেখা গেল অসুখ কমেনি বরং বেড়েছে।

কারণ জানতে নতুন চিকিৎসকের সহায়তা নিতে জানা গেল ভেজাল ওষুধের কারণে নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে। যে ক্ষেত্রে ওষুধ আমাদের রোগমুক্ত করার মাধ্যম কিন্তু দেখা গেল ভেজালের কারণে তা হয়েছে রোগবৃদ্ধির কারণ।

আজ দেখলাম advance animal science company BANGLADESH-এর মালিক এম এম খাঁন, মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ (expire date) ছয় বছর আগে যার ব্যবহারিক মেয়াদ শেষ হওয়া স্বত্বেও বিক্রি করে চলছে সে ওষুধ। আবার গবাদিপশুর মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধও বাজারজাত করছে দিনের পর দিন।

দেখলাম মানুষ নামের দানবেরা টাকার জন্য মানুষের ভিতরে ঢুকিয়ে দিচ্ছে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ। এরা বাংলাদেশের খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত এবং সমাজের চোখে বিবেকবান নাগরিক। এরা ভালোভাবে জানে যে মেয়াদ শেষ হবার পর ওষুধ বিক্রি বা সেবন করা নিষিদ্ধ, তার পরও এ ধরনের কুকর্ম! এদের শুধু কি জেল হাজতে ঢুকালেই সমস্যার সমাধান হবে? নাকি আরও কিছু করা দরকার?

ওষুধের মত চলছে দেদারছে খাবারেও ভেজাল। যারা ভেজালের সঙ্গে জড়িত কি উদ্দেশ্য তাদের! লাভবান হওয়া, পরিবেশ নষ্ট করা, সবাইকে আস্তে আস্তে শেষ করা নাকি কাস্টমার বৃদ্ধি করা? দুধে পানি মিশিয়ে ভলিউম (volume) বাড়ানো মানে লাভবান হবার চেষ্টায় পানি মেশানো হয়েছে।

ক্রেতা পানি মেশানো পাতলা দুধ পেয়েছে, বলা যেতে পারে ক্রেতাকে ঠকিয়ে লাভবান হবার প্রবণতা। কিন্তু দুধে কোন বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশিয়ে দুধের ভলিউম বৃদ্ধি করে বিক্রি করা, শুধু ক্রেতাকে ঠকানো নয় তাকে অসুস্থ করা। শেষে তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা।

এখন দুধে এই রাসায়নিক মিশ্রণ, এটা কি জেনে শুনে বুঝে করা, নাকি না বুঝে করা? এভাবে হাজারও ভেজালের বর্ণনা এবং তার ধরণ যেমন কাপড়ের রং মিষ্টিতে মেশানো ইত্যাদি চলছে যা সারা দিন লিখলেও শেষ করা যাবে না। আমরা কি জেনে শুনে সব করছি, নাকি না জেনে সব করছি? যদি জেনে শুনে করি তবে বলব ‘We are living in hell.’ কিন্তু যদি না জেনে শুনে করি তবে আমাদের জানতে হবে, শিখতে হবে এবং পড়তে হবে।

যখনই শেখা বা জানার প্রবণতা দেখা দিবে তখনই মনে করতে পারব যে আমরা ভুলের সংশোধন করতে আগ্রহী। ভাববো ‘We still have a hope for better quality of life.’

এখন শেখা বা জানার পদ্ধতি কীভাবে হওয়া দরকার এবং কে বা কারা নেবে সেই দায়িত্ব? সরকার, পুলিশ কর্তৃপক্ষ, রাজনৈতিকবৃন্দ নাকি আমরা? আমরা সবাই জানি ‘অন্যায় যে করে, অন্যায় যে দেখে বা অন্যায় যে সহে সবাই সম অপরাধী’। সবাই যেখানে অপরাধী তখন কি উচিত হবে শুধু সরকারকে দায়ী করা? এখন সরকার যদি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয় তবে সরকার বলতে আমাদেরকেই বোঝায়। কিন্তু যদি তা না হয় তখন ‘We have big problem.’ এ ক্ষেত্রে কেউ দায়িত্ব নিতে রাজি হবে না। কারণ সবাই দায়ভার এড়িয়ে সরকারের ওপর চাপিয়ে দেবে। সেটা কিন্তু স্পষ্ট লক্ষণীয় বাংলাদেশে।

যা কিছু ভালো সব কৃতিত্ব কিন্তু সরকারকে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে যা কিছু খারাপ তাও নিয়ম অনুযায়ী সরকারকেই গ্রহণ করার কথা, কিন্তু সেগুলো সরকার বিরোধী দলের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে বা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এই কারণে সব কৃতিত্ব এবং সব সমস্যার দায়ভারগুলো মাননীয় প্রধান মন্ত্রী এবং মুষ্টিমেয় কিছু সংখ্যক লোকের ওপর পড়ছে। একটি সৃজনশীল দেশের দায়ভার সবাইকে নিতে হবে তা নাহলে আমরা যেমন আছি তেমনই থাকব।

এখন সবাইকে দায়িত্ব নিতে হলে জনগণের প্রতিনিধির ওপর বিশ্বাস আনতে হবে এবং তার জন্য দরকার গণতান্ত্রিক প্রতিনিধি নিয়োগ করা। প্রতিনিধি নিয়োগ ‘Is a democratic choice’ এবং এর জন্য দরকার ‘FAIR ELECTION.’

যদি এত বছরেও বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বেস্ট প্রাকটিস না হয়ে থাকে সময় এসেছে তা শুরু করার। শুধু সরকারের ওপর ভরসা না করে সবাইকে দেশের স্বার্থে, দেশের মানুষের স্বার্থে নৈতিকতার মান উন্নয়ন করতে হবে।

একই সঙ্গে ভেজাল এবং দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আর কম্প্রোমাইজ নয়, আইন প্রয়োগে জিরো টলারেন্স ব্যবস্থা গ্রহণ করে দেশের মানুষের জীবনের নিশ্চয়তা দিতে হবে। আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।

রহমান মৃধা, দূরপরবাস সুইডেন, [email protected]

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×