যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসীদের নিয়ে ইউটিউবে নতুন আয়োজন ‘ম্যান মেড’

  সেলিনা রহমান ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:৩৭ | অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রে সফল উদ্যোক্তা সেলিনা রহমান
যুক্তরাষ্ট্রে সফল উদ্যোক্তা সেলিনা রহমান

অনেকগুলো বিষয় মাথায় রেখে চ্যানেলটি খুলি ২০১২ সালে। ২০০৭ সালে আমেরিকায় স্বামীর কাছে চলে আসার পর রান্না-বান্না করতে গিয়ে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। বিশেষ করে রান্নার উপকরণ নিয়ে। দেশে যেসব রান্না করতাম সেই একই রেসিপি ফলো করে এখানে অখাদ্য তৈরি হতো।

ঠেকতে ঠেকতে আর ট্রাই করতে করতে একটা সময় বুঝলাম যে রান্নার টেকনিক এবং টাইমিংটা বদলাতে হবে; তাহলেই এখানেও দেশীয় স্বাদ পাওয়া সম্ভব। ২০১২ সালে চ্যানেল খোলার পেছনে ২টা কারণ কাজ করে। আমার এক বিদেশী জ্বা আমার রান্না খুবই পছন্দ করতো এবং আমার রেসিপি ফলো করে সে বাসায় রান্না করতো।

কিছু কিছু রেসিপিতে সে ফেইল হতো বিশেষ করে পোলাও জাতীয় খাবার রান্না করার সময়। তখন আমি বেশ কয়েকবার তাকে ফোনে আমার রান্না ভিডিও করে স্কাইপেতে পাঠাতাম। ভিডিও একটু বড় হয়ে গেলেই ঝামেলা হতো পাঠাতে। যার ফলে সিদ্ধান্ত নেই যে ইউটিউবে আপলোড করে তাকে লিংক দিলে সে যখন খুশি দেখতে পাবে।

দ্বিতীয় কারণ হলো রেসিপি মনে রাখা। এমন অনেক রেসিপি আছে যা আমরা বছরে একবারই করে থাকি এবং একবার সেটা মজা হলে বছর ঘুরে পরেরবার আর সেইটা সেইম লাগে না। কারণ আমরা এতোখানি সময়ের গ্যাপে নিজেরাই ভুলে যাই কীভাবে করেছিলাম। চ্যানেল খোলা হলেও সেভাবে রেগুলার আপলোড করা হতো না।

রান্নার অনুষ্ঠানে সেলিনা রহমান

২০১৫ সালে আমার মা মারা গেলে তখন চ্যানেলটার প্রতি আগ্রহটা বেড়ে যায়। আমার আম্মা খুব ভালো রাঁধতেন। অথচ তার অনেক রেসিপিই আমি করতে পারি না। আমার বিদেশের মাটিতে বড় হওয়া তিনটা মেয়ে যেন তার মায়ের রান্নার কৌশল তাদের মতো করে পায় সেই উদ্দেশ্যেই রেসিপি আপলোডের পরিমাণ বাড়িয়ে দেই।

প্রমিত ভাষায় নয়, আমার রেসিপি বর্ণনা শুরুটাই ঠিক আমি দৈনন্দিন জীবনে বাংলা-ইংরেজি মিলিয়ে যেভাবে কথা বলি সেভাবে। যাতে করে আমার মেয়েরা বা তাদের বয়সী মেয়েরা বুঝতে পারে সহজেই। মূলত প্রবাসী বাংলাদেশি এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মদের সাংসারিক জীবনের শুরুতে কিচেন হেল্প হিসেবে কাজ করেছি আমার চ্যানেলের পেছনে।

আমি সবসময় চেষ্টা করি রেসিপি যেমনই হোক টিচিংটা যেন ইজি হয়। কারণ, “রান্না তো সহজই হওয়া উচিত, তাই না?” এই স্লোগানে আমার চ্যানেল প্রতিনিয়ত কুকিং এবং লাইফস্টাইল নিয়ে চমকপ্রদ এবং ভিন্ন আয়োজন হয়ে থাকে।

যেমন বাংলাদেশি রান্নার চ্যানেলগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম দর্শকদের জন্য উপহারের ট্রেন্ড শুরু হয় আমার চ্যানেলে। রান্নার পাশাপাশি আমি হোম গার্ডেনিংয়ের প্রতিও সিজনাল সিরিজ করে থাকি। আরও আছে বিভিন্ন স্থানে ট্রাভেল ভ্লগ।

কিছুদিন আগে আমার চ্যানেলে ‘বান্ধবীর রান্নাঘরে’ নামক ১১ পর্বের একটি সিরিজ প্রচারিত হয়, যেখানে পরিচিত-অপরিচিত ১১ জন প্রবাসী নারীর রান্নাঘরে তাদের রেসিপি ভিডিও করা হয়। যা অসম্ভব সাড়া পাই।

সম্প্রতি চ্যানেলে চলছে ‘ম্যান মেড’ নামে নতুন একটি সেগমেন্ট। যার প্রথম দুটি পর্ব ইতিমধ্যেই প্রচার হয়ে গেছে। এর এক একটি পর্বে প্রবাসী বাংলাদেশি পুরুষদের রান্নাঘর তারা নিজেদের একটি রেসিপি শেয়ার করেন।

পুরো রান্নার ভিডিওতে রান্না ছাড়াও তাদের বিভিন্ন প্রতিভা সামনে উঠে আসছে, যা খুবই মুগ্ধ করবে দর্শকদের। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এরা কেউই পেশায় রন্ধনশিল্পী নন। এ ধরনের সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠান বাংলাদেশি কোনও ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেলে এই প্রথম।

যেই ধরনের এক একজন ট্যালেন্টের দেখা মিলছে তা সত্যিই অবাক করার মতো এবং আমার মনে হয় এই ট্যালেন্টেড মানুষগুলোর খবর সাড়া বিশ্বের বাংলাদেশিদের মধ্যে ছড়িয়ে পরা উচিত। সামনে আরও অনেক বৈচিত্রতা নিয়ে ভাবছি। আমি ক্রিয়েটিভ কাজ ভালোবাসি; তাই ফলাফল কী পেলাম তা নিয়ে ভাবিনি কখনই। নিজের আত্মতৃপ্তির জন্য এই চ্যানেল আমার ভালোবাসা।

সম্প্রতি আয়োজন করা একটি পর্ব দেখুন এখানে-

সেলিনা রহমান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×