ভালো কাজে হাত বাড়ান এবং অন্যায়ে রুখে দাঁড়ান

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৩:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ

ভালো কাজ

যদি কেও খারাপ কাজ করে এবং উপলব্ধি করে যে অন্যায় করেছে এবং শুধরানোর চেষ্টা করে তখন যদি তাকে সুযোগ দেয়া না হয় তাহলে তো কেও ভালো হওয়ার চেষ্টা করবেনা।

ধর্মীও মতেও বলা হয়েছে “যদি কেও সঠিক পথে ফিরে আসে তাকে বরণ কর”। প্রশংসা করা ভুলে গেলে চলবে কি? “শাসন করা তারই সাজে সোহাগ করে যে” এও কি আমরা ভুলে গেছি! আমি অবাক হয়েছি অনেকের নিচু মনের পরিচয় দেখে। শুধু পরনিন্দা আর পরচর্চা করলেই যদি দায়িত্ব এবং কর্তব্য পালন করা হয় তাহলে কিছু বলার নেই। এতবড় একটি জনবহুল দেশ যেখানে ভাই ভাইয়ের শত্রু সেখানে সব কিছু ঠিক মত ম্যানেজ করা যদি এতই সহজ হত তাহলে দেশের পরিস্থিতি এত খারাপ পর্যায়ে যেত না। ভুলে গেলে চলবে না দেশটির শাসন কখনও একজনের দ্বারা হয়নি। কয়েকটি দল এর আগে দেশটি চালিয়েছে।

খুব যে একটা ভালো ছিলাম তাও না। ভোট চুরি যে আগেও হয়নি তাও না, তবে এবার না হয় পুরোটাই চুরি হয়েছে। কিন্তু কাজটি যারা করেছে এরা কি পাক বাহিনীর লোক ছিল? নাকি তারা আমার আপনার কাছের লোক? কারণ উপরে বলেছি যেখানে ভাই ভাইয়ের শত্রু সেখানে এমনটিই হয়ে থাকে।

সর্বোপরি বার বার রাজনীতি দল এসেছে নানা ভাবে এবং তাদের পতন ঘটেছে, কিন্তু লক্ষ্য করেছি কি প্রশাসনের কোনো পরিবর্তন কখনও হয়নি। মুষ্টিমেও কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার রদবদল হয়েছে মাত্র। আমি মনে করি প্রশাসনে রয়েছে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম এবং দুর্নীতি। তাই সেখানে হাত দিতে হবে গোটাদেশের অবকাঠামোর পরিবর্তনের স্বার্থে। আমি দেশের বাইরে থাকি, দেশের অন্ন, অর্থ, সুযোগ সুবিধা কিছুই ভোগ করিনা বরং মাসে মাসে অর্থ সেখানে পাঠাই। আমাকেও যদি কটু কথা শুনতে হয় তখন বুঝতে বাকি থাকেনা যে আমাদের মনমানসিকতা কত নিচু পর্যায়ে পৌঁছেছে!

পরের মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে খেতে আমরা বেশি পছন্দ করি। ছোট বেলায় শুনেছি সব মাছই বিষ্ঠা খায় তবে ঘাইড়া মাছের দোষ হয়। একইভাবে পুলিশের লোকেরাই শুধু ঘুষ নেয় শুনে আসছি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা ঘুষ নিচ্ছে তাদের শিক্ষকদের কাছ থেকে।

এরা কারা? বিএনপি বা আওয়ামী লীগ যাই বলি না কেন এটা তো এদের আসল পরিচয় নয়? এদের বাবা-মার নাম আছে। এদের ঠিকানা আছে। এদের আইডেন্টিটি কার্ড আছে, এরা কারা? এরা আমার বা আপনার অতি কাছের প্রিয়জন। আমাদেরকেই আমরা ধ্বংস করতে উঠে পড়ে লেগেছি, এটাই হচ্ছে দেশ রসাতলে যাওয়ার পেছনে দায়ী। পরিবর্তন আনতে হলে ঘরে ঘরে পরিবর্তনের দুর্গ গড়তে হবে।

রাস্তায় নেমে অন্যকে গালিগালাজ না করে ঘরের লোকদের ঠিক করলেই সমস্যার সমাধান হবে। সরকার এতদিন বিরোধীদলদের জ্বালাতন করেছে, সবাই বলেছি সরকার খারাপ। এখন নিজের দলকে জ্বালাতন করতেই শুরু হয়েছে নানা ঝামেলা। সবাই অন্যায় করবে বা যার যা খুশি করার করবে কিন্তু কিছু বলা যাবে না। বলতে গেলেই সব ঝামেলা। দুর্নীতিগ্রস্ত ধনীলোক ছাড় পাচ্ছে টাকা দিয়ে, ক্ষমতাবান ছাড় দিচ্ছে টাকা নিয়ে। গরীব পঁচে মরছে জেল হাজতে ঢুকে। এটাই তো চলছে দেশে এখন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোটি কোটি টাকা নিচ্ছে শিক্ষকদের কাছ থেকে এবং বলছে আমরা অত শত বুঝিনা, আমাদের উপহার দিয়েছেন ভিসি মহোদয়, তাই আমরা নিয়েছি। এটি একটি গ্রহণযোগ্য কথা হলো? তারা কি এও ভুলে গেছে শফিক, রফিক এবং বরকতের মত বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া ছেলেরা শহিদ হয়েছিলেন এই বাংলা ভাষার জন্য।

অথচ সেই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হয়ে যখন বাংলাভাষায় বলছে তারা কোটি কোটি টাকা প্রেজেন্ট বা সালামী নিয়েছে, আমি ঘৃণা করি বর্তমানের এই ধরনের শিক্ষার্থীদের এবং তাদের যারা শিক্ষা প্রদান করছে তাদেরকে। পৃথিবীর সব জায়গায় একটি জিনিস কমন তাহলো ছাত্র সমাজ অন্যায়ের প্রতিবাদ করে বরাবর। এখন দেখছি বাংলাদেশই প্রথম দেশ যেখানে ছাত্র এবং শিক্ষকরাই দুর্নীতির প্রথম সারিতে। ছি ছি ছি বললেও মনের ঘৃণা দূর হবে না। ডেঙ্গু একদিনে তৈরি হয়নি, ডেঙ্গু অপরিষ্কার এবং অপরিচ্ছন্নতার দীর্ঘসময়ের ফল।

দেশের এই দুরবস্থা একদিনে, এক মাসে, এক বছরে বা দশ বছরের ফল নয়, গোটা পঞ্চাশ বছরের প্রতিফলন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন “পাকিস্তান সব নিয়ে গেছে শুধু চোরগুলো রেখে গেছে”। বর্তমানে তাদের সংখ্যা কমে নাই বরং বেড়েছে। সবাই শুনেছেন বঙ্গবন্ধুর ভাষণ কিন্তু কি করেছেন চোর দমনের জন্য? কিছুই না। এখন উপায় একটিই তা হলো পুরো সমাজকে পরিষ্কার করা।

কেও না কেও শুরু করবে, তাই মনে করি বর্তমান সরকারের হাতে যেহেতু সব ক্ষমতা রয়েছে অতএব এই সরকারই সব ধুয়ে মুছে সাফ করুক। সাধারণ জনগণের উচিত হবে সরকারকে সাহায্য করা। কথা উঠছে জনগণের ভোটে পাশ করেনি যে সরকার তার সঙ্গে আমরা নেই।

এখন এই অভিমানে বসে বসে বুড়ো আঙ্গুল চুষে কোন লাভ হবে না। রাগ বা ঘৃণা মনের ভেতর জমা না রেখে, বা ক্যাসিনোয় ঢুকে মদ-গাজা না খেয়ে বরং সবাই সবাইকে উৎসাহিত করুন। দেশে একটি সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হলে কিছু না হলেও সারাদিন কাজ কর্মের পর রাতে ভালো ঘুম হবে এবং শরীর এবং মন ভালো থাকবে। সব শেষে নতুন প্রজন্মের মধ্যে যদি সত্যিকারে চেতনা এসে থাকে সোনার বাংলা গড়ার তবে মনে রেখো সুশিক্ষার বিকল্প নেই। সুশিক্ষা অর্জনে লাল সবুজের পতাকাকে বিশ্ব সম্মান পেতে সাহায্য করা সম্ভব যা কখনও বা কোনদিনও সম্ভব হবে না দুর্নীতি করে।

তাই দুর্নীতি এবং অনীতি ছেড়ে, সত্যের সঙ্গে মিথ্যার বা সাদার সঙ্গে কালোর মিশ্রণ না ঘটিয়ে বর্তমান সরকারের ভালো কাজে সাহায্যর হাত বাড়িয়ে দাও। সোনার বাংলা গড়তে শুধু মুখে নয় হৃদয়ে দরদ থাকতে হবে এবং তার জন্য দরকার দুর্নীতির বর্জন এবং সৃজনশীলতা অর্জন।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×