খারাপ বর্জনে এবং ভালো অর্জনে খেলাধুলার বিকল্প নেই

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ০৭ অক্টোবর ২০১৯, ১২:২৫ | অনলাইন সংস্করণ

খেলাধুলা

বড় সাধ জেগেছে তাই ছুটে এসেছি হাসি আর খুশি ভরা মন নিয়ে, সবাই মিলে সোনার বাংলা গড়তে।

‘বাংলাদেশ ফুটবলার হান্ট একাডেমী’ সময়ের এক মিরাকেল। যেখানে নতুন প্রজন্ম অন্ধকারে হাবুডুব খাচ্ছে, কি করবে, কোথায় যাবে, ঠিক তখনই প্রাণের সঙ্গী হয়ে পাশে থাকতে চায় বাংলাদেশ ফুটবলার হান্ট একাডেমী।

মদ, গাজা, ক্যাসিনো, দুর্নীতি দূর করতে সরকার উঠে পড়ে লেগেছে। ভালো চিন্তা, ভালো কাজ। কিন্তু ভেবেছেন কি কিছু সরাতে বা দূর করতে হলে কিছু দিতে হয় বিনিময়ে? এবং আরও কি ভেবেছেন সেক্ষেত্রে খেলাধুলার বিকল্প অন্য কিছু নেই? খেলাধুলায় রয়েছে একমাত্র বিনোদন যা নতুন প্রজন্মের জীবনের মোর‍্যাল ভ্যালু ফিরিয়ে আনতে পারে। আমি ফুটবলার হান্ট একাডেমীর পক্ষে বিনীতভাবে খুঁজছি ফুটবলের ফেরিওয়ালাদের।

৬৮ হাজার গ্রাম থেকে ৬৮ হাজার ট্রেনার এবং কমপক্ষে ৬৮ হাজার স্পন্সরের। একই সঙ্গে খুঁজছি সেই ট্রেনারকে যে প্রতি সপ্তাহে দুইদিন করে দুই ঘণ্টার জন্য ফুটবলের ওপর প্রশিক্ষণ দিতে পারবে। বিনিময়ে তাকে একটি মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করার জন্য দরকার এক বা একাধিক স্পন্সরের।

সবাই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে এই মিশন পসিবল করতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ। ছেলে-মেয়েদের বয়স সীমা ৪-৮ বছরের মধ্যে হতে হবে। প্রত্যেকটি সন্তানের ফুটবল প্রশিক্ষণের সময় কমপক্ষে একজন গার্ডিয়ান (বাবা বা মাকে) থাকতে হবে। খেলাধুলার সঙ্গে বন্ধুবান্ধবীদের মধ্যে যেমন একটি ইন্টিমেট সম্পর্ক তৈরি হবে ঠিক তেমনিভাবে সন্তানদের সঙ্গে বাবা-মার হৃদ্যতা বৃদ্ধি পাবে এবং গার্ডিয়ানদের মধ্যে একটি চেনাজানার সুযোগ হবে। তাতে করে পরস্পর পরস্পরের ওপর নজর রাখার একটি সুযোগ সৃষ্টি হবে।

একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে কিছু সংখ্যক ভালো খেলোয়াড় খুঁজে তাদেরকে উচ্চমানের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করে বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠাতে হবে। নইলে উদীয়মান তারকার অভাব সারাক্ষণই দেশে থেকে যাবে।

ভালো খেলোয়াড় তৈরি করতে না পারলে ফুটবল খেলোয়াড়দের দেশের বাইরে বিক্রি করা কখনও সম্ভব হবে না।

বহির্বিশ্বের সঙ্গে নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বস্ততা তৈরি করতে শুরু থেকে যেমন প্রশিক্ষণের দরকার তেমনি গ্রহণযোগ্য খেলোয়াড়দের দ্রুতগতিতে ভালোমানের শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। দেশ যখন দুর্নীতি, মদ, গাজা বা আজেবাজে সমস্যায় জর্জরিত তখন এধরণের অ্যাক্টিভিটিস সময় উপযোগী একটি উদ্যোগ। একই সঙ্গে ক্ষুদে খেলোয়াড়দের খেলাধুলার একটু সুযোগ করে দেয়া যাতে করে তাদের ভেতর মোটিভেশনের সৃষ্টি হয়।

একজন নিবেদিত প্রাণ ট্রেনারের তত্ত্বাবধানে ফুটবলের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার সুযোগ যদি আমরা তৈরি করতে পারি ৬৮ হাজার গ্রামে, তাহলে আমার বিশ্বাস ২০৩৪ সালের আগেই আমরা পাবো একটি জাতীয় ফুটবল টিম যারা লাল সবুজের পতাকা উড়াতে সক্ষম হবে বিশ্বকাপ ফুটবলের মাঠে।

আমরা ফুটবলার হান্টের যাত্রা শুরু করেছি, এখন দরকার সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ। আমি এবং আমার বন্ধু সামসুদ্দিন এবং আরও কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী এই কাজ করে আসছি দুই বছর ধরে।

আমরা একটি ওয়েবসাইট(www.footballerbd.com) দাঁড় করাতে পেরেছি। আমরা কিছু সংখ্যক ছেলেকে সাহায্য করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা এখন সবার সাহায্য গ্রহণের জন্য প্রস্তুত।

আমরা কয়েকটি দেশে কান্ট্রি কোঅর্ডিনেটর নিয়োগ করেছি যারা বহির্বিশ্বের সঙ্গে ফুটবলার হান্ট একাডেমীর হয়ে একটি সম্পর্ক তৈরি করতে সাহায্য করবে। যখন আমাদের এ সব ক্ষুদে খেলোয়াড় রেডি হবে তখন বাইরের খেলোয়াড়দের সঙ্গে লড়াই করবে। বিভিন্ন দেশের নিযুক্ত প্রতিনিধিগণ টুর্নামেন্টের আয়োজন করতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে।

দেশ ও জাতির স্বার্থে স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে আসুন আমাদের সঙ্গে এই কাজে, জয়ী আমরা হবোই। আমি বিশ্বাস করি টিম ওয়ার্ক, আমি বিশ্বাস করি টিম বিল্ডিং, আমি বিশ্বাস করি টিম অ্যাচিভমেন্ট। Together, we can make it happen. You can only understand my devotion if you share my passion.

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×