একই ভুলের পুনরাবৃত্তিই হলো কুশিক্ষা

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ১৩ অক্টোবর ২০১৯, ০২:৫৫ | অনলাইন সংস্করণ

কুশিক্ষা

একই ভুলের পুনরাবৃত্তিই হলো কুশিক্ষা According to Royal Geographical Society of London, bees are the most important living being on the planet, however, scientists have also made an announcement: Bees have already entered into extinction risk. মৌমাছি বিলুপ্তির ঝুঁকির সঙ্গে মানুষের আচরণ যা মানব জীবনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ তাও ইতোমধ্যে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে প্রবেশ করেছে।

এমনটি ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী তাদের আচরণে। থুতু যখন মুখে জমা হয় তা আমরা মুখ থেকে বের করে ফেলি। ফেলানো থুতু পুনরায় মুখে তুলে নিইনা। অথচ কিছুক্ষণ আগেও এই থুতু আমার নিজের মুখের মধ্যে ছিল। বর্জ্যের ক্ষেত্রে একই অবস্থা, পেট থেকে বর্জ্য বের হলে তা কি আমরা পুনরায় পেটে ফেরত নিতে পারি? না, পারি না।

কিন্তু আমরা যখন কথা বলি তা কিন্তু ফেরত নেয়া যায় যদি তা গ্রহণযোগ্য না হয়। অনেক সময় আমাদের মুখের কথা ভয়ংকর হতে পারে এবং তা ঘৃণায় পরিণত হয়ে থাকে। নির্ভর করছে কী কথা বলা হয়েছিল তার ওপর। তাই আমাদের উচিত হবে সব সময় আমরা যা বলি তা যেন ভেবে চিন্তে বলি। বলার আগে প্রয়োজনে তিনবার যেন ভাবি। ভালো এবং মন্দ দিতে পারে মুহূর্তের মধ্যে পরিবর্তন করে আমাদের বাকি জীবনের সময়টাকে। আমরা মানুষ জাতি যা নিজেরা শুনতে পছন্দ করি সেটাই তো অন্যকে শোনানো উচিত।

কিন্তু আমরা যা নিজেরা শুনতে পছন্দ করি না ঠিক সেই কথাই অন্যকে শোনাতে চাই যখন কাউকে আমরা অপছন্দ করি। কারণ আমাদের অতীতের আচরণ এই অপছন্দের সম্পর্কের জন্য দায়ী। তার মানে আমাদের কর্মের ফল বা ব্যবহার বেশির ভাগ সময় ভালো বা মন্দের প্রতিফলন। আবার দেশের মধ্যে অভ্যন্তরীণভাবে যখন কিছু ঘটে তখন আমাদের মতামতের দ্বিমত হতে পারে। আমাদের আচরণ যদি সৃজনশীল না হয় তখন খুনখারাবী পর্যন্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে বিচারের কাঠগড়ায় ন্যায়-অন্যায়ের বিচার হয়, কেউ হয় শহীদ আর কেউ ঘৃণার পাত্র হয়ে জেলে ঢোকে।

আচরণ মানবজীবনের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাগের মাথায় যদি সহধর্মিণীর ছোটভাইকে শালা বলা হয় তা বিপদের কারণ হতে পারে। তাই যতো রাগই হোক না কেন বা যতো অজুহাতই দেখানো হোক না কেন আমাদের কর্ম এবং আচরণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সুইডিশ ভাষায় এরা বলে ’tänk före efter’ মানে ‘ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না।’ বা অনেক সময় বলি যা হবার হয়ে গেছে (ডোন্ট ক্রাই ওভার স্পিলড মিল্ক)।

বলা যতো সহজ, করা ততো সহজ নয়। কিন্তু রাগের মাথায় আমরা অনেক কিছু করি যার খেসারত দিতে হয়তো বাকি জীবনটাই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। তাই আমাদের সবারই উচিত বেশি বেশি করে ভাবা, বার বার ভাবা। এমনকি ভাবনাকে শেয়ার করা। যাতে করে মনের মধ্যের ভাবনা যদি ভয়ংকর হয় তা অগত্য শোধরানোর একটি সুযোগ পাওয়া যাবে।

খারাপ কিছু বর্জনেই কিন্তু ভালো কিছু অর্জন করা সম্ভব। তা হতে পারে যেমন পরনিন্দা থেকে বিরতি থাকা বা একজন দুষ্ট বন্ধুর থেকে দূরে থাকতে চেষ্টা করা। সমাজে যারা ভালো কিছু করে তাদেরকে অনুকরণ ও অনুসরণ করা হতে পারে দৈনিক শিক্ষার একটি অংশ। পরিবর্তনে যেমন আছি তেমন থাকলে হবে না। we must learn to do things differently. আমরা সব সময় যা জানি তাই বলি বা বলতে চেষ্টা করি। তাই উচিত অন্যের কথা শুনতে চেষ্টা করা কারণ অন্যের কথাগুলো আমাদের জন্য নতুন কিছু শিক্ষণীয় হতে পারে।

বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড দেখে অনেক কিছুই রিফ্লেক্ট করছি। যেমন কী শিক্ষণীয় রয়েছে এধরনের মর্মান্তিক ঘটনায় এবং এরপরও কি পুনরাবৃত্তি হবে একই ধরনের ভুলের? যদি পুনরাবৃত্তিই হয়, তাহলে তো কুশিক্ষা এবং কুসংস্কারকে আমরা কোনোদিনও কাটিয়ে উঠতে পারবোনা। আর তা না পারলে সুশিক্ষার ঢেউ আমাদের মন, প্রাণ ও বিবেকে কোনোদিনই বইবেনা। আমাদের কর্ম হবে ধাপে ধাপে সুশিক্ষা এবং গণতন্ত্রের মধ্যদিয়ে ইথিওপিয়ার মতো বাংলাদেশেকেও সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া। আবি আহমেদের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার অনুপ্রেরণার বন্যা বয়ে আনুক সারাবিশ্বে।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×