কাতারে ‘কাফালা’ বাতিল, উপকৃত হবেন প্রবাসীরা

  মো. শরিফুল ইসলাম আবুল, কাতার থেকে ২১ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:১০ | অনলাইন সংস্করণ

কাফালা

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে নতুন শ্রমনীতি সংস্কারের কথা ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আইএলও-এর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১৬ অক্টোবর কাতারের মন্ত্রিসভায় সর্বসম্মতভাবে নতুন শ্রমনীতির আইনটির নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়।

২০২০ সালের জানুয়ারি থেকেই নতুন এ শ্রম আইন কার্যকর হবে। ফলে বাংলাদেশিসহ সব অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ আইন সংস্কার কার্যক্রমের আওতায় সাত দশকের পুরোনো কাফালা পদ্ধতির অবসান ঘটছে।

ফলে অভিবাসী শ্রমিকরা নিজেদের পছন্দমতো চাকরি পরিবর্তনের স্বাধীনতা পাবেন। দেশে ফেরা বা বেড়াতে যেতে অনুমতির কড়াকড়ি কমবে। ন্যূনতম মজুরির বৈষম্যতাও বিপুল অংশে দূর হবে।

কাফালা বা স্পন্সরশিপ ব্যবস্থাটি কাতারে শুরু হয়েছিল ১৯৫০ সালে।

দেশটির অর্থনৈতিক বিকাশের ওই সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত শ্রমিক সরবরাহ এবং প্রয়োজন ফুরালে দ্রুত ফেরত পাঠানোর সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছিল এই ব্যবস্থায়। গালফ সহযোগিতা কাউন্সিল বা জিসিসি সদস্যভুক্ত দেশগুলোর পাশাপাশি জর্ডান ও লেবাননে এখনও এ ব্যবস্থাটি কার্যকর রয়েছে।

কাফালা ব্যবস্থায় অভিবাসী শ্রমিকদের চাকরি পরিবর্তনের জন্য নিয়োগকর্তার কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) বাধ্যতামূলক ছিল। সামরিক বাহিনী বাদে অন্য কর্মস্থলের শ্রমিকদের চাকরি পরিবর্তন ও বহির্গমনের জন্য অনাপত্তিপত্র বাধ্যতামূলক নয় মর্মে কাতারের মন্ত্রিসভায় একটি ডিক্রিও অনুমোদন করেছে।

এ ছাড়াও মন্ত্রিসভার বৈঠকে বৈষম্যহীন ন্যূনতম মজুরি কাঠামো প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন নীতিমালাও অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে কাতারেই প্রথম এ ধরনের আইন কার্যকর হতে যাচ্ছে।

শ্রমিকদের সুরক্ষা ও অধিকার নিয়ে বিশ্বজুড়ে কাজ করে আসা জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাপরিচালক গাই রাইডার কাতার সরকারের শ্রমনীতি সংস্কারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিবৃতিতে বলেন, ‘এসব পদক্ষেপ অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার যেমন নিশ্চিত করবে, তেমনি তাদের মাধ্যমে কাতারের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতাও বাড়বে, অর্থনীতিও সুসংহত হবে।

আইএলও বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি টুওমো পোটিয়াইনেন বলেন, ‘কাতারে যে ৪ লাখ বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিক আছেন, তাদের ৭৫ শতাংশই নির্মাণশিল্পে জড়িত। নতুন সংস্কারের কারণে তারা সরাসরি উপকৃত হবেন। এর ফলে বৈষম্যআইন মজুরি ও শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×