ক্রস ফাংশনাল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ দেখতে চাই

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ২৭ অক্টোবর ২০১৯, ০১:২৩ | অনলাইন সংস্করণ

ক্রস ফাংশনাল

আমার এ লেখার মূল উদ্দেশ্য ব্রেইন স্টর্মিং পদ্ধতি চালু করা নতুন প্রজন্মের মাঝে।

কারণ আমরা যেমন আছি তেমন থাকলে চলবে না। আমাদের পারস্পারিক গভীর চিন্তার মাধ্যমে জটিল সমস্যা সমাধানে ব্রেইন স্টর্মিং পদ্ধতি চালু করতে হবে। এ পদ্ধতিতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অভিজ্ঞতার ও বুদ্ধিমত্তার বিনিময় ঘটবে এবং সমস্যার সুষ্ঠ সমাধান সম্ভব হবে।

ব্রেইন স্টর্মিং পদ্ধতি পারস্পারিক মতবিনিময় ঘটায়, অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করে। জাতীয় সংসদ শুধুমাত্র কাগজে কলমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইনসভা এবং এ আইনসভার সদস্য সংখ্যা ৩৫০ জন।

দুর্ভাগ্যবশত এই আইনসভায় আইনের ওপর কোন বেস্ট প্রাক্টিস হয়না। যে কাজে এতগুলো লোকের বেতন দেয়া হয় জনগণের টাক্সের অর্থ থেকে, সেই কাজ সঠিকভাবে পরিচালিত না হওয়ার কারণে বর্তমানে দেশের এই অন্ধকারময় পরিস্থিতি।

সংসদ সদস্যদের কাজকর্ম এবং তাদের দক্ষতা দেখে যতটুকু জ্ঞান অর্জন করেছি তাতে মনে করি জাতীয় সংসদকে ভেঙ্গে ক্রস ফাংশনাল (A cross-functional team is a group of people with different functional expertise working toward a common goal) গণপ্রজাতন্ত্রীক বাংলাদেশ গঠন করা হোক সঙ্গে ভেঙ্গে দেয়া হোক সংসদ এবং গডফাদারদের মেরুদন্ড। সংসদ সদস্যদের কাজ দেশের অবকাঠামোর উন্নয়নে আইন কানুন তৈরি করা কিন্তু অনেকেই বেসিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। এমনকি ইদানীং এও জানা গেছে কেউ কেউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে অন্যের সাহায্যে সার্টিফিকেট অর্জন করে সংসদে ঢুকেছে।

যে কাজে সংসদ সদস্যদের ভোট দেয়া হয়েছে তাদের সে কাজ করার যেমন দক্ষতার অভাব রয়েছে ঠিক তেমন অভাব রয়েছে আদর্শের এবং সততার (ব্যতিক্রম রয়েছে কিছু সংখ্যক সদস্যদের মধ্যে)।

এখন দেশের বৃহত্তর স্বার্থে নতুন করে দক্ষ এবং দুর্নীতিমুক্ত সরকারের সাহায্যে গ্রাম, ইউনিয়ন এবং উপজেলার মত জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে জনগণের সক্রিয় ভোটে মেম্বার, চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হোক।

জেলা এবং বিভাগীয় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব এবং কর্তব্যের সীমাবদ্ধতা শুধু সিটির মধ্যে নয়, তা যেনো পুরো জেলা এবং বিভাগীয় ক্রস ফাংশনাল গণপ্রজাতান্ত্রীক হয় তারও ব্যবস্থা করা হোক। জনগণের সুবিধার্তে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হোক গ্রাম থেকে শুরু করে বিভাগীয় পর্যায়ে। বর্তমান দেশের পরিকাঠামোতে শুধুমাত্র উপজেলা পর্যায়ের চেয়ারম্যানদের ক্রস ফাংশনাল টিম ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থা রয়েছে। ইউ এনও থেকে শুরু করে প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা যারা উপজেলা চেয়ারম্যানের টিমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশের পরিকাঠামোকে মজবুত করতে পারে।

কিন্তু জাতীয় সংসদ সদস্যদের কর্তৃত্বের কারনে তার সঠিক প্রাক্টিস সেখানেও হচ্ছে না। উপজেলার মত দরকার প্রতিটি জেলা এবং বিভাগে জনগণের নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের।

জেলা এবং বিভাগীয় চেয়ারম্যানদের পরিপূর্ণ দায়ভার দিতে হবে যাতে করে তারা ক্রস ফাংশনাল টিম তৈরি করে তার বিভাগকে নতুন করে গড়ে তুলতে পারে। দেশের আটটি বিভাগের চেয়ারম্যানদের সমন্বয়ে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করা হোক। সকল বিভাগীয় চেয়ারম্যানদের রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেয়ার সুযোগ দেয়া হোক এবং বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র করা হোক আটটি বিভাগের সমন্বয়ে। কেউ যেন দু’বারের বেশি ক্ষমতায় না আসতে পারে সেটাও নিশ্চিত করা হোক। পরাজিত প্রতিদ্বন্দ্বী দ্বিতীয়বার ইলেকশনে যোগ না দিতে পারে তার ব্যবস্থাও করা হোক। প্রতিটি বিভাগে সকল স্তরের গুরুত্বপূর্ণ কর্মজীবীদের সমন্বয়ে ক্রস ফাংশনাল টিম তৈরি করা হোক। দেশে মজবুত এবং টেকসই অবকাঠামো তৈরি করতে রাজধানী থেকে সমস্ত ক্ষমতার ডিসেন্ট্রালাইজেশন করে পুরো দেশের শাসনতন্ত্রের ভারসাম্য আনা হোক। আট বিভাগের চেয়ারম্যানসহ প্রধানমন্ত্রী এবং তার পলিসিমেকার হিসাবে কিছু সংখ্যক উপদেষ্টা নিয়োগ করা হোক যারা দেশের পরিকাঠামো উন্নয়নে কাজ করবেন।

পররাষ্ট্র বিভাগ বা মন্ত্রণালয়কে সেন্ট্রাল সরকারের অর্ন্তভুক্ত করা হোক বহিঃবিশ্বের সঙ্গে কুটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন প্রতিষ্ঠান নিপাত করা হোক। একটি দেশে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান থাকা মানে দুর্নীতিকে স্থায়ীভাবে সমর্থন দেয়া।

দুর্নীতি দমন কমিশন আছে বিধায় দেশে দুর্নীতি এবং অনিতি আছে এবং থাকবে। বর্তমান সরকারের জিরোটলারেন্স দুর্নীতি মিশন সাফল্য হবে না যতদিন পর্যন্ত দুর্নীতি দমন প্রতিষ্ঠান থাকবে এবং জাতির মাইন্ডসেটের পরিবর্তন হবে।

একটি দরিদ্র এবং দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের পরিকাঠামোতে মন্ত্রীপরিষদ শাসিত সরকার “গুড ফর নাথিং” তাই সত্তর তার অ্যালিমিনেশন কাম্য। একই সঙ্গে লক্ষনীয় যে, দেশের প্রধানমন্ত্রী একনায়কতান্ত্রিক শাসনতন্ত্রের ওপর কাজ করছেন বিধায় জাতীয় সংসদ এবং মন্ত্রীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বিলুপ্তির পথে বললেই চলে।

সেক্ষেত্রে সংসদভবনকে জাতীয় সংসদের কাজে ব্যবহার না করে দেশের অবকাঠামোর উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা হোক যা ক্রিয়েট সাম ভ্যালু ফর বাংলাদেশ।

দেশকে নতুন করে গড়তে পরিবর্তনের রাজনীতির আশু প্রয়োজন। পৃথিবীর অন্যান্য দেশ যেভাবে চলছে ঠিক সে ভাবেই যে বাংলাদেশকে চলতে হবে তার কোন কথা নেই। পরিবর্তনের যুগে নতুনত্বের আবির্ভাব ঘটাতে হবে। বাংলাদেশ হতে পারে পৃথিবীর প্রথম দেশ যেখানে দুর্নীতিগ্রস্ত গডফাদারদের পতন ঘটানো সম্ভব ক্রস ফাংশনাল ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে। নতুন প্রজন্মের চ্যালেঞ্জ হোক ভিন্ন ধরণের চিন্তাচেতনা।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×