এবার লড়াইয়ের পালা

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ২৯ অক্টোবর ২০১৯, ১৫:২৫ | অনলাইন সংস্করণ

রহমান মৃধা

আজ আমার বড় ভাই প্রফেসর ড. মান্নান মৃধা বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে স্টকহোম ত্যাগ করলেন। KTH (Royal Institute of Technology) এবং BUET (Bangladesh university of engineering and technology)-এর যৌথ শিক্ষা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা তাঁর দেশে যাবার কারণ।

তাঁকে অনুরোধ করেছিলাম কিছু ফুটবল নিয়ে যেতে বাংলাদেশ ফুটবলার হান্ট একাডেমির জন্য। এ সপ্তাহের শেষের দিকে মাগুরা জেলায় প্রথম আমাদের একাডেমির উদ্বোধন হবে। বন্ধু সামসুদ্দিন ঢাকা থেকে গিয়ে তাঁর নিজের উপস্থিতিতে উদ্বোধনের কাজ সম্পন্ন করবে।

ব্যাংকের লেন দেনের কাজে সুদ জড়িত। শেয়ার বাজারে গ্যাম্বলিং জড়িত। ব্যবসায় স্টক বা মজুদ পদ্ধতি জড়িত। লেখাপড়ায় টিউশনি থেকে শুরু করে প্রশ্নপত্র ফাঁস বা নকল জড়িত। কেউ কেউ আরবি লাইনে ধর্মের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণে জড়িত। প্রশাসনে দুর্নীতি বা ঘুষ জড়িত। ওষুধ এবং খাবারে ভেজাল জড়িত। অনেকের দুর্নীতির অর্থ ক্যাসিনোতে জড়িত।

এদিকে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ খেলাধুলায় বাজি ধরায় জড়িত। আমরা সবাই ভালো মন্দে জড়িত। সব কিছু জেনে শুনে আমি সারা দেশের মানুষকে খেলাধুলায় অনুপ্রাণিত করার কাজে জড়িত।

খেলাধুলায় প্রতিযোগিতা আছে, শারীরিক পরিশ্রম আছে যা সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন। আমি কোন অন্যায়কে সাপোর্ট দিই না। তবুও যদি দুর্নীতির সঙ্গে ক্যাসিনোর তুলনা করি তবে এতটুকু বলতে পারি যে গরীবের সামর্থ্য নেই সেখানে অর্থ ব্যয় করার।

তবে দুর্নীতিবাজরা যে অর্থ ক্যাসিনোতে ব্যয় করে, নিশ্চিত তা গরীবের পেটে লাথি মেরে সেই অর্থ দিয়ে তারা ক্যাসিনো খেলে। যা সত্যিই অন্যায় এবং এ অন্যায়কে আমি ঘৃণা করি। এখন খেলাধুলায় বাজি জড়িত রয়েছে সারা বিশ্বে। এটাও তো একধরনের অন্যায়। এ অন্যায় কি ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে যেখানে গোটা বিশ্ব এ কাজের সঙ্গে জড়িত!

সব কিছু জেনেশুনেই আমরা খেলাধুলার উন্নতির জন্য উঠে পড়ে লেগেছি। কারণ একটাই তা হলো লাল সবুজের পতাকার সঙ্গে যাদের হৃদয় জড়িত তাদের এবার প্রমাণ করতে হবে যে সবই যখন আমরা পারি তখন ফুটবলকে কেন গোলে ঢুকাতে পারবো না?

ফুটবল খেলার নির্দিষ্ট সময় শেষ অব্দি যখন কোন ভাবেই গোল দেয়া সম্ভব না হয় তখন আসে পেনাল্টির পালা। পেনাল্টি মিস করার কারণে প্রতিপক্ষ জিতে যাবে, বা আমার পেনাল্টি মিস না করার কারণে সতীর্থদের (টিমমেটস) দর্শক এবং সারা দেশের মানুষ বিজয়ের উল্লাসে উল্লাসিত হবে।

এমনটি ভাবনার উদয় হয় খেলোয়াড়দের মাঝে। গোল হয়ে গেলো আর মূহুর্তের মধ্যে কেউ হলো হিরো আবার কেউ হলো জিরো। বলা যেতে পারে উইনার টেকস ইট অল। খেলাধুলার মধ্যে এ ধরনের চিন্তাচেতনার বিকাশ ঘটে। এছাড়াও একধরনের দায়িত্ববোধ, টিম বিল্ডিং এবং জয় পরাজয়ের অনুভূতির সৃষ্টি হয়।

তাই বড় হয়ে যখন তারা দেশের দায়িত্ব নিবে তখন ভাববে “আমার একটি ভুলের বা দুর্নীতির কারণে কোটি কোটি মানুষের মনে হতাশা বয়ে আনবে! এমন কাজ আমি করব না।”

বাঙ্গালী পারেনি এমন কিছু নেই পৃথিবীতে। তাই আমার বিশ্বাস খেলাধুলায় আমরা পারব বিশ্ব সেরাদের তালিকায় থাকতে। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা যখন পেরেছে তখন কেন আমরা পারব না? পারতে যে আমাদের হবেই।

প্যারিস, লন্ডন, স্টকহোম সিটি গড়ে উঠেছে। গড়ে উঠেছে হাজারও শহর। নানাভাবে তারা পৃথিবীতে তাদের কৃতিত্ব এবং অবদান রাখছে। আমরা ধনে দরিদ্র কিন্তু মনে দরিদ্র নই। আমাদের ৬৮ হাজার গ্রাম রয়েছে। আমাদের যে মানব সম্পদ রয়েছে তা পৃথিবীর খুব কম দেশে আছে।

বাংলাদেশ দুর্নীতিতে পারদর্শী হয়েছে যা প্রশংসার বিষয় নয়। নিজের আপনজনকে বা দেশের মানুষকে ঠকিয়ে বড় লোক হওয়া বিশাল কোন ব্যাপার না। যা হবার হয়েছে, এখন আমাদের ভালো কিছু করার জন্য সমন্বয় ঘটাতে হবে।

এবার আসুন ৬৮ হাজার গ্রামে ফুটবল খেলার ওপর প্রতিযোগিতার বন্যা বইয়ে দেই। তৈরি করি একটি টিম, যে টিম লড়বে বিশ্ব কাপের জন্য। আমরা এ বিজয়ের সঙ্গে থাকতে চাই। তাই আসুন আর দেরি নয় শুরু হয়েছে খেলা, এবার লড়াইয়ের পালা।

রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে, [email protected]

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×