আমার নাম পরিবর্তন

প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ১৯:৩০ | অনলাইন সংস্করণ

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে

সারাবিশ্বে পরিবর্তনের বন্যা বয়ে চলেছে। দেহের পরিবর্তন, রূপের পরিবর্তন, খাবারের পরিবর্তন, বাসস্থানের পরিবর্তন, পোশাকের পরিবর্তন, শিক্ষার পরিবর্তন, জীবনের পরিবর্তন। পরিবর্তন আর পরিবর্তন।

কেউ নিজে পরিবর্তন হচ্ছি আর কেউ সারাক্ষণ অন্যকে পরিবর্তিত হতে বলছি। আমি নিজেও বেশ পরিবর্তিত হয়েছি এবং প্রতিনিয়ত চেষ্টা করি ভালো কিছু দেখলে, জানলে বা শুনলে সেটা করার।

পৃথিবীর কোথাও দেখিনি শুধু বাংলাদেশ ছাড়া যেখানে সারাক্ষণ বলা হচ্ছে পরিবর্তিত হতে।

টকশোতে চলছে পরিবর্তন নিয়ে কথা, লেখালেখি হচ্ছে পরিবর্তন নিয়ে, কথা হচ্ছে পরিবর্তন নিয়ে, ধর্মীও আলোচনায় চলছে পরিবর্তন নিয়ে কথা, সংসদে চলছে পরিবর্তনের মেলা। বলতে গেলে সব জায়গাতেই শুধু পরিবর্তনের ঢেউ বয়ে চলেছে। ফেসবুকে ঢুকলে প্রথম জিনিসটি চোখে পড়বে পরিবর্তনের ওপর কিছু কমেন্টস। মোটকথা আমরা সবাই সবাইকে পরিবর্তন হতে বা করতে উঠে পড়ে লেগেছি।

দুঃখের বিষয় তা হলো নিজেরা কিন্তু খুব একটা পরিবর্তন হচ্ছিনা। আমরা সবাই চিন্তিত অন্যকে নিয়ে। তাহলে কি আমরা পৃথিবীর শ্রেষ্ট জাতি যারা শুধু অন্যের কথা ভাবি! এ বিষয়টি নিয়ে আমি কিছু তথ্য তুলে ধরতে চাই। জন্মের শুরুতে বাবা-মা বলেছেন এটা নয় ওটা কর। স্কুলের শিক্ষক বলেছেন এভাবে নয় ঐ ভাবে করবে।

আবার কিছু কিছু মৌলভীরা বলেছেন, আমরা যা করি তা নয়, যা বলি তাই করবে। কর্মজীবনে বস বলছে যেটা, সেটাই করতে হবে। সমাজে প্রশাসন যা বলে সেটাই মানতে হবে। এখন নিজেরা বাবা হয়েছি সন্তানদেরকে ঠিক একইভাবে বলে যাচ্ছি এটা নয় ওটা কর। কেউ কেউ বস, শিক্ষক, প্রশাসনের দায়িত্বে আছি বিধায় একইভাবে অন্যকে বলছি কি করতে হবে বা হবে না। লক্ষ্য করে কি কখনও দেখেছি, বেশির ভাগ কাজ, ব্যবহার বা যা কিছুই আমরা “বানী” হিসাবে বলছি অন্যকে, সবই কিন্তু ভালো কথা। এটা কর, ওটা কর, সেটা কর ইত্যাদি।

কিন্তু আমরা নিজেরা ৭৫% এরও বেশি সেই কাজগুলো করিনা যা অন্যকে করতে বলি। আমরা উপদেশ দিতে শিখেছি কিন্তু তার প্রতিফলন ঘটাতে শিখিনি। এর পেছনে কি কারণ রয়েছে? কারণ একটাই তা হলো আমরা সেই জন্ম থেকে শুধু শুনে আসছি এটা কর, সেটা কর, ওটা কর। যেহেতু লেখার শুরুতে বলেছি পরিবর্তনের ঢেউ বা বন্যা বয়ে চলেছে তাই আমি মনে করি এটা, সেটা এবং ওটা কর নয় বরং সময় এসেছে পরিবর্তনের তাই এখন থেকে কর”-কে “করি”-তে পরিবর্তন করতে হবে।

আমাদের নিজেদের চরকায় তেল দিতে হবে এখন। আমাদের জাতিগত মুদ্রাদোষ তা হলো পরের পিছনে লেগে থাকা। আমাদের দৈনিক শিক্ষায় এটা রয়েছে। যতদিন আমরা এই কুশিক্ষার (এটা, সেটা এবং ওটা “কর”) পরিবর্তন না আনতে পারব ততদিন আমাদের সুশিক্ষা হবে না।

আমি পরিবর্তনে বিশ্বাসী এবং সারাক্ষণ নিজেকে চেষ্টা করি পরিবর্তন করতে। কারণ যে দেশে ( সুইডেন) আমি বসবাস করি সেখানে দেখছি ৭৫%-এর বেশি ভাগ লোক নিজেরা যা করে সেটাই বলে অন্যকে করতে। বাবা হয়েছি, কখনও চেষ্টা করিনি ছেলে-মেয়েকে ম্যানুপুলেট করতে, তবে তারা যেটা করতে পছন্দ করে তার জন্য ১০০% মোটিভেটেড হয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছি।

এখন প্রশ্ন হতে পারে তারা তো ভুল কিছু পছন্দ করতে পারে? যেনে শুনে ভুলকে সাপর্ট দেয়া কি ঠিক হবে? আমাদের মনে রাখতে হবে সুশিক্ষায় ভারসাম্য বলে একটি কথা আছে। অনেক সময় উচিত সন্তানকে সুযোগ দেয়া ভুল কিছু করতে যদি এমন পরিস্থিতির উদয় হয়। কারণ তারা নিজেরা যখন ভালো মন্দের পার্থক্য জানবে তখন সারাজীবন তাদের পিছে লেগে থাকার দরকার হবে না।

আমি প্রতিনিয়ত লক্ষ্য করছি একটি জিনিস, তাহলো কিছুই থেমে নেই, থেমে থাকবে না। আমি না থাকলেও পৃথিবী চলবে, আমার সন্তানরা ম্যানেজ করে চলবে। আমার দুর্বলতা এবং কুশিক্ষার কারনে আমি মনে করি আমার ছেলে মেয়ের আমাকে দরকার ২৪-৭ সময়। আসলে আমার ধারণা ঠিক নয়, তাদের সাহায্যর প্রয়োজন এবং দরকারে তারা তা বলবে, যেমনটি বলেছিল জন্মের শুরুতে তারা তাদের মাকে; কখন বুকের দুধ পান করবে। কখন মলমূত্র পরিস্কার করতে হবে ইত্যাদি। তখন যখন পেরেছিল এখন কেন পারবে না!