বসুমতী সত্যিই তুমি অকৃপণা
jugantor
বসুমতী সত্যিই তুমি অকৃপণা

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে  

১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮:৫০:১১  |  অনলাইন সংস্করণ

মাটির পৃথিবী তুমি কেমন আছ? গতমাসে তোমাকে জানিয়েছিলাম আমার মানসিক অশান্তির কারণ। নীরবতার মাঝে জানিয়েছ তুমি তোমার মতামত। তোমার নীরবতায় ইঙ্গিত পেয়েছি যে তুমি আমার কিছু সিদ্ধান্তে মনঃপুত হওনি।

বুঝতে পেরেছি কারণ তুমি সকল জটিলতার ঊর্ধ্বে, তাইতো তোমার নাম “মাটির পৃথিবী”। সহজ-সরলভাবে সব কিছু বোঝা, হৃদয় দিয়ে জড়িয়ে রাখা এবং সবাইকে সমানভাবে ভোগ করার সুযোগ দেয়াই তোমার কাজ। কিন্তু তোমাকে এখন একটু অন্যরকম করে ভাবতে হবে। ফুটবল খেলায় দুটো দল থাকে। শুধু একটি দলের খেলা দেখলে বা অর্ধেক খেলা দেখলে চলবে না, পুরো খেলাই দেখতে হবে।

আবার শুধু পরের ছবি দেখলেই হবে না নিজের ছবিও দেখার চেষ্টা করতে হবে। নিজের ছবি দেখতে হলে আয়নার সামনে আসতে হবে। আয়না নিজের চেহারাকে তুলে ধরে ‘অ্যাজ ইট ইজ।’ যদি আমরা একটি জাতি বা দেশের প্রতিচ্ছবি দেখতে চাই তাহলে কিভাবে তা দেখতে পারি?

নিজ পরিবারকে দেখে, পরিবারের সদস্যদের কাজকর্ম এবং আচরণ দেখে আমরা অতি সহজেই বড় পরিবার তথা পুরো দেশের প্রতিচ্ছবি দেখতে পারি। ঘরের অবস্থা যখন কলুষতায় ভরা তখন বাইরের অবস্থাও খুব একটা ভালো হয় না। এখন আমরা যদি দেখি আমাদের নিজ নিজ পরিবারের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারগুলো। বেশিরভাগ পরিবারে রয়েছে জটিলতা।

সে জটিলতা হতে পারে মিথ্যা প্রচারণা, ভোগ দখল, শিক্ষা এবং নৈতিকতার। রয়েছে পরশ্রীকাতরতা, হিংসা, বিদ্বেষ। ভাই ভাইকে ঘৃণা করছে, বাবা-মাকে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে বা তাদেরকে অবহেলা করে দূরে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। প্রতিবেশীর পরিচয় না দেয়া, সত্যকে গোপন করা ইত্যাদি সচারাচর নজরে পড়ছে। এই যদি নিজের পরিবারের অবস্থা হয় তাহলে ভেবে দেখ দেশের অবস্থা কি হতে পারে?

দেশে বর্তমান চলছে প্রতিহিংসাপরায়ণতার রাজনীতি। "ধরো, মারো, খাও" কনসেপ্টের মধ্যে দিয়ে পুরো অ্যাডমিনিস্ট্রেশন চলছে। শিক্ষা প্রশিক্ষণে ভণ্ডামি এবং গুন্ডামিতে ভরা। সরকার গণতন্ত্রের নামে একনায়কতন্ত্রের পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে। নীতি এখন দুর্নীতির জালে ধরা পড়েছে বিধায় বর্তমান যে দুর্নীতি না করছে তাকে আনস্মার্ট বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। খুন, ধর্ষণ, জেল-হাজত না খাটলে স্বনামধন্য রাজনীতিবিদ বা ফুলের মত পবিত্র চরিত্রের অধিকারী হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বড় লোক চলছে তাদের গতিতে এবং তারা তাদের স্বভাব পরিবর্তন করতে রাজি নয় বরং যেমন আছে তেমন থাকতে পছন্দ করছে।

গরিব তার দিন মজুরিতে বেশ খুশি আছে এখনকার পরিবেশে। বেচারা মধ্যবিত্তের হয়েছে মরণদশা। তারা না পারছে হাত পাততে, না পারছে কারো হাতে কিছু দিতে। চরম হতাশার মাঝে হাবুডুবু খাচ্ছে তারা। এমতাবস্থায় তুমিই বল আমার কি করণীয় থাকতে পারে! আপন যখন পর হতে শুরু করেছে শুধু মাত্র অর্থ আর লোভের স্বার্থে তখন তাকে একমাত্র চিরতরে ভুলে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকতে পারে না।

আর তাই আমার সিদ্ধান্তে আমি অটল রয়েছি। আমি জানি তুমি মনে কিছুটা কষ্ট পেয়েছ, একইসঙ্গে তুমি আমাকে বুঝতেও পেরেছ, তাই তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। তোমার নীরবতার মাঝে আমার জীবনের ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো তোমার সঙ্গে শেয়ার করলাম শুধু তোমার অবগতির জন্য। বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডের অসংখ্য মানুষের অন্যায় অত্যাচার দেখেও নিঃশব্দে নীরবে তুমি দিয়ে চলেছও। তুমি নৈতিকতা এবং মানবতার পতন দেখেও চুপ করে রয়েছো। বসুমতী সত্যিই তুমি বড়ই অকৃপণা। তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

বসুমতী সত্যিই তুমি অকৃপণা

 রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে 
১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৬:৫০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মাটির পৃথিবী তুমি কেমন আছ? গতমাসে তোমাকে জানিয়েছিলাম আমার মানসিক অশান্তির কারণ। নীরবতার মাঝে জানিয়েছ তুমি তোমার মতামত। তোমার নীরবতায় ইঙ্গিত পেয়েছি যে তুমি আমার কিছু সিদ্ধান্তে মনঃপুত হওনি।

বুঝতে পেরেছি কারণ তুমি সকল জটিলতার ঊর্ধ্বে, তাইতো তোমার নাম “মাটির পৃথিবী”। সহজ-সরলভাবে সব কিছু বোঝা, হৃদয় দিয়ে জড়িয়ে রাখা এবং সবাইকে সমানভাবে ভোগ করার সুযোগ দেয়াই তোমার কাজ। কিন্তু তোমাকে এখন একটু অন্যরকম করে ভাবতে হবে। ফুটবল খেলায় দুটো দল থাকে। শুধু একটি দলের খেলা দেখলে বা অর্ধেক খেলা দেখলে চলবে না, পুরো খেলাই দেখতে হবে।

আবার শুধু পরের ছবি দেখলেই হবে না নিজের ছবিও দেখার চেষ্টা করতে হবে। নিজের ছবি দেখতে হলে আয়নার সামনে আসতে হবে। আয়না নিজের চেহারাকে তুলে ধরে ‘অ্যাজ ইট ইজ।’ যদি আমরা একটি জাতি বা দেশের প্রতিচ্ছবি দেখতে চাই তাহলে কিভাবে তা দেখতে পারি?

নিজ পরিবারকে দেখে, পরিবারের সদস্যদের কাজকর্ম এবং আচরণ দেখে আমরা অতি সহজেই বড় পরিবার তথা পুরো দেশের প্রতিচ্ছবি দেখতে পারি। ঘরের অবস্থা যখন কলুষতায় ভরা তখন বাইরের অবস্থাও খুব একটা ভালো হয় না। এখন আমরা যদি দেখি আমাদের নিজ নিজ পরিবারের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারগুলো। বেশিরভাগ পরিবারে রয়েছে জটিলতা।

সে জটিলতা হতে পারে মিথ্যা প্রচারণা, ভোগ দখল, শিক্ষা এবং নৈতিকতার। রয়েছে পরশ্রীকাতরতা, হিংসা, বিদ্বেষ। ভাই ভাইকে ঘৃণা করছে, বাবা-মাকে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে বা তাদেরকে অবহেলা করে দূরে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। প্রতিবেশীর পরিচয় না দেয়া, সত্যকে গোপন করা ইত্যাদি সচারাচর নজরে পড়ছে। এই যদি নিজের পরিবারের অবস্থা হয় তাহলে ভেবে দেখ দেশের অবস্থা কি হতে পারে?

দেশে বর্তমান চলছে প্রতিহিংসাপরায়ণতার রাজনীতি। "ধরো, মারো, খাও" কনসেপ্টের মধ্যে দিয়ে পুরো অ্যাডমিনিস্ট্রেশন চলছে। শিক্ষা প্রশিক্ষণে ভণ্ডামি এবং গুন্ডামিতে ভরা। সরকার গণতন্ত্রের নামে একনায়কতন্ত্রের পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে। নীতি এখন দুর্নীতির জালে ধরা পড়েছে বিধায় বর্তমান যে দুর্নীতি না করছে তাকে আনস্মার্ট বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। খুন, ধর্ষণ, জেল-হাজত না খাটলে স্বনামধন্য রাজনীতিবিদ বা ফুলের মত পবিত্র চরিত্রের অধিকারী হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বড় লোক চলছে তাদের গতিতে এবং তারা তাদের স্বভাব পরিবর্তন করতে রাজি নয় বরং যেমন আছে তেমন থাকতে পছন্দ করছে।

গরিব তার দিন মজুরিতে বেশ খুশি আছে এখনকার পরিবেশে। বেচারা মধ্যবিত্তের হয়েছে মরণদশা। তারা না পারছে হাত পাততে, না পারছে কারো হাতে কিছু দিতে। চরম হতাশার মাঝে হাবুডুবু খাচ্ছে তারা। এমতাবস্থায় তুমিই বল আমার কি করণীয় থাকতে পারে! আপন যখন পর হতে শুরু করেছে শুধু মাত্র অর্থ আর লোভের স্বার্থে তখন তাকে একমাত্র চিরতরে ভুলে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকতে পারে না।

আর তাই আমার সিদ্ধান্তে আমি অটল রয়েছি। আমি জানি তুমি মনে কিছুটা কষ্ট পেয়েছ, একইসঙ্গে তুমি আমাকে বুঝতেও পেরেছ, তাই তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। তোমার নীরবতার মাঝে আমার জীবনের ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো তোমার সঙ্গে শেয়ার করলাম শুধু তোমার অবগতির জন্য। বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডের অসংখ্য মানুষের অন্যায় অত্যাচার দেখেও নিঃশব্দে নীরবে তুমি দিয়ে চলেছও। তুমি নৈতিকতা এবং মানবতার পতন দেখেও চুপ করে রয়েছো। বসুমতী সত্যিই তুমি বড়ই অকৃপণা। তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
 

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২০
আরও খবর