বাংলাদেশের চিকিৎসার ক্লান্তিময় লগ্নে

প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে

বাংলাদেশে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা ও আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকার পরেও ভুল চিকিৎসার সংখ্যা এত বেশি হওয়ার পেছনে যে কারণগুলো জড়িত তার মধ্যে রয়েছে গবেষকদের ভুল রোগ নির্ণয়, কম্পিউটার সিস্টেমে ভুল, যন্ত্রপাতির ত্রুটি, সঠিক নিয়মে ওষুধ গ্রহণ না করা ইত্যাদি।

তা সত্ত্বেও জনসাধারণ কিন্তু চিকিৎসকদের ভুলকেই দায়ী করছেন। বিভিন্ন দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্যে তুলনা করার জন্য হেলথ কেয়ার ইনডেক্স নামে একটি জরিপের ব্যবস্থা রয়েছে। এতে কোনো দেশের সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থা যেমন চিকিৎসার মান, হাসপাতাল, ডাক্তার, যন্ত্রপাতির পেছনে খরচাদি ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা ব্যবস্থার তুলনা করা হয়ে থাকে।

এ জরিপ অনুযায়ী, চিকিৎসা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায় তা কি আমরা জানি? প্রশ্ন উঠতে পারে, চিকিৎসা খাতে এত অর্থ ব্যয় করার পরও দেশ পিছিয়ে আছে কেন? চিকিৎসা খাতে ব্যয় করা অর্থ শুধু যে জনসাধারণের চিকিৎসার পেছনে ব্যয় করা হচ্ছে এমন নয়। চিকিৎসার পেছনে বিভিন্ন আনুসঙ্গিক জিনিসেই বেশি ব্যয় করা হয়। যেমন অর্থের অর্ধেকেরও বেশি ব্যয় করা হয় হাসপাতাল নির্মাণ, হাসপাতাল উন্নয়ন, ডাক্তার, নার্স ও চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের বেতন পরিশোধে।

তা ছাড়া বিভিন্ন ওষুধের দাম বাড়ার কারণেও এ খাতে খরচ বাড়ে। এত অর্থ ব্যয় করার পরেও বাংলাদেশ চিকিৎসার ক্ষেত্রটি এখনও জনসাধারণের আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ। আমি যে বিষয়টির উপর আলোকপাত করতে চাই তাহলো একজন রোগীর জীবনের শেষ সময়ে পরিবারের ওপর জুলুম করার পরিবেশ সৃষ্টি হয় যখন কোনো মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়।

পরিবারের লোকেরা মুমূর্ষু রোগীর চিন্তা করবে নাকি চিন্তা করবে প্রতিদিনের বিলের কথা। লাইফ সাপোর্টের বিল সারাদেশে এক নয়, নির্ভর করছে কোন ক্লিনিক বা হাসপাতাল তার ওপর। লাইফ সাপোর্টের খরচ প্রতিদিন ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৪০ হাজার টাকা। যদি রুগীর তিনদিনের বেশি সময় লাইফ সাপোর্টের দরকার পড়ে তবে বিল হবে এক লক্ষ টাকা। তিনদিনের বেশি থাকার প্রয়োজন হলে খরচও বাড়বে। এ ব্যাপারে একটি নীতিমালা থাকা উচিৎ নয় কি? বড় লোকের ক্ষেত্রে না হয় ঠিক আছে কিন্তু কী হবে যাদের আদৌ কোনো সামর্থ্য নেই? লাইফ সাপোর্টের বিল পরিশোধ করতে অনেকে সর্বহারা হচ্ছে তা কি সরকার জানে? কিছুই কি করার নেই অভাগা দেশের চিকিৎসা পদ্ধতির? আমি মনে করি এই লাইফ সাপোর্টের খরচের ভার কমাতে হাইকোর্টে একটা রিট করা প্রয়োজন যাতে করে এর একটা সুষ্ঠু সমাধান হয়। কিছু দিন আগে যেমন হাইকোর্টের আদেশক্রমে হার্ট ব্লকের রিং দেড় লক্ষ টাকা থেকে নেমে নির্ধারিত দামে বিক্রি শুরু হয়েছে।

আছে কি দেশে এমন কোনো হৃদয়বান মানুষ যে বিষয়টি তুলে ধরতে পারে হাইকোর্টে? সামান্য একটি রিট দিতে পারে কোটি কোটি মানুষের জীবন রক্ষার নিশ্চয়তা। উপকার সাধিত হবে সাধারণ মানুষের। হাসপাতাল ও প্রাইভেট ক্লিনিকগুলো একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে দাম বাড়ানো থেকে বিরত থাকবে। কেউ কি নেই বাংলাদেশে যে পারে হাইকোর্টে তুলে ধরতে বিষয়টি? দেশের চিকিৎসার মান এবং একটি স্থিতিশীল পরিকল্পনা বজায় রাখতে দরকার সুব্যবস্থা যাতে করে হাসপাতাল বা ক্লিনিক ইচ্ছে মতো যা খুশি তা করতে না পারে।