শান্তির দেশে স্বস্তি সত্ত্বেও ঘটে মাঝেমধ্যে অঘটন

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ১১ জানুয়ারি ২০২০, ২৩:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

অঘটন

স্টকহোমের গুড ট্যু গ্রেট টেনিস একাডেমিতে এসেছি জনাথানের টেনিস প্রাক্টিসে। বেশ মনোযোগ দিয়ে খেলা দেখছি।

হঠাৎ পাশ থেকে আমাকে একজন হেই বলে খেলা দেখতে লাগল। আমি তাকিয়ে দেখি বেশ চেনা মুখ তারপরও বিশ্বাস করতে একটু সময় লেগে গেল। ঝটপট করে উঠে দাঁড়িয়ে বললাম দুঃখিত। খেলার ভেতর ডুবে থাকায় খেয়াল করিনি, আমি জনাথানের বাবা। উত্তরে বললো আমি তেমনটিই ধারণা করেছি।

শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে বেশ তাড়াহুড়ো করে চলে গেল সে প্যাডেল কোর্টে। সুইডিস রয়েল পরিবারের ক্রাউন প্রিন্সেসের স্বামী প্রিন্স ডানিয়েল।

শত ব্যস্ততার মাঝেও শরীরের যত্ন নিতে এরা ভোলে না। প্রিন্স ডানিয়েল জন্মসূত্রে প্রিন্স নয়, সে অত্যন্ত সাধারণ পরিবারের সন্তান। প্রিন্সেস ভিক্টোরিয়ার ব্যক্তিগত ফিটনেস ট্রেইনার থাকাকালীণ তাদের মধ্যে ঘটে প্রেমের সম্পর্ক আর সেই প্রেম থেকে হয় পরে পরিণয়। ভিক্টোরিয়ার পর যে সুইডেনের রানী হবে তার নাম এস্টেলা। প্রিন্স ডানিয়েল প্রিন্সেস এস্টেলার বাবা, সাধারণ মানুষ অথচ এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব।

কিছুদিন আগে হগা পার্কে হাঁটতে পথে হুট করে দেখা হয়েছিল ক্রাউন প্রিন্সেস ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে। রাজ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সিভিল পোশাকধারী নিরাপত্তা বাহিনী সব সময় থাকে, তবে সাধারণ মানুষের চোখে এটা তেমন বিশেষ কোনো ব্যাপার নয়। ১৯৮৫ সালে সুইডেনের প্রধান মন্ত্রীর আকস্মিক মৃত্যুর পর নিরাপত্তার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে তবে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় বলা যেতে পারে খুবই সামান্য। এর পেছনে যে কারণগুলো জড়িত তার মধ্যে যেমন দুর্নীতি বা অনীতি নেই এদেশে, নেই ক্ষমতার অপব্যবহার, সর্বোপরি মানুষের মাঝে নেই কোন ভেদাভেদ। গত বছর সুইডেনে নানা ধরনের ক্রিমিনাল অ্যাক্টিভিটিসের (ড্রাগ, ছিনতাই, ডাকাতি ইত্যাদি) কারণে ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সুইডেন একটি ধনী দেশ এবং এখানের লোকসংখ্যা মাত্র এক কোটি। মানুষ জাতির যে সব মৌলিক অধিকার যেমন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা এবং শিক্ষা সবই রয়েছে সত্বেও এই ৪২ জন নাগরিকের জীবন বিনাশ হয়েছে শুধু মাত্র ক্রিমিনাল এক্টিভিটিসের সঙ্গে জড়িত হওয়ার কারণে। ২০১৮ সালের সুইডেনের একটি জাতীয় সুরক্ষা জরিপে দেখলাম ২২,৫০০ জন কমপ্লেন করেছে যৌন হয়রানির ওপরে তার মধ্যে ধর্ষণের সংখ্যা ৭,৯৬০। যেহেতু সব কিছুই এখানে ডকুমেন্টেড হয় সে ক্ষেত্রে সংখ্যাগুলো নজরে পড়ার মত।

এ ভাবে যদি দুর্নীতি বা অন্যান্য খারাপ কাজগুলোর ওপর বিচার বিশ্লেষণ করা হয় দেখা যাবে সব কিছুই এখানে কমবেশি হচ্ছে। তবে কড়া নিয়ম কানুন এবং মজবুত ও টেকসই সিস্টেমের কারণে সব কিছু মনিটর করা সহজ। আর এ কারণে এ দেশের পরিকাঠামোতে শান্তি, স্বস্তি এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বেশি পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায়। একটা জিনিস পরিস্কার তা হলো স্বভাব চরিত্র গরীব বা ধনীর ওপর নির্ভর করে না। কারণ সুইডেনেও খারাপ চরিত্রের মানুষের বসবাস রয়েছে যদিও ধনী দেশ। ভালো মন্দ মিলে যদি শান্তি এবং স্বস্তির সঙ্গে বসবাস করা যায় এবং সঙ্গে মানুষ জাতির যে বেসিক চাহিদা তা যদি পূরণ করা সম্ভব হয় তবে সে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। আমরা বাংলাদেশি হিসাবে তা নিশ্চয়ই অর্জন করতে পারি এ বিশ্বাস আমার আছে।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৩৩০ ৩৩ ২১
বিশ্ব ১৬,০৪,৫৩৫ ৩,৫৬,৬৬০ ৯৫,৭৩৪
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত