শিক্ষা প্রশিক্ষণে শিক্ষার্থীদের ঋণ এবং অনুদান দেয়া হোক

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ১৩ জানুয়ারি ২০২০, ১৮:৩৭ | অনলাইন সংস্করণ

শিক্ষা

শিক্ষার শুরু হোক দায়ভার নিয়ে। দায়ভার কি? দায়িত্ব এবং কর্তব্য পালন করাকে দায়ভার বলা যেতে পারে। জ্ঞানের আরেক নাম সচেতনতা। সচেতনতা অর্জন করতে বর্জন করতে হবে অসচেতনাকে। অসচেতনাকে বর্জন করতে হলে প্রশিক্ষণের শুরুতে কিছু norms and values থাকতে হবে।

দেশে প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হচ্ছে দেখে ভাল লেগেছে। এখন দরকার প্রশিক্ষণ এবং পরীক্ষার ধরণ পাল্টানো যাতে করে দেশে ভাল, সৃজনশীল এবং সুশিক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়। কারণ শিক্ষা এমন একটি বিষয় যা বিক্রি করতে না পারলে হতাশা এবং গুদামজাত হবে এবং পরে তা অকেজো হয়ে সমাজে অশান্তির সৃষ্টি করবে।

পাশ্চাত্যে শিশুর জন্মের শুরুতে তাদেরকে পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সুন্দর পরিকাঠামোর মধ্য দিয়ে সুশিক্ষার ব্যবস্থা এবং সেই সঙ্গে একটি মাসিক ভাতা দেয়া হয়। এই ভাতার কিছু অংশ অনুদান হিসাবে এবং বাকি অংশ ধার হিসাবে দেয়া হয় খুব কম সুদে। শিক্ষাজীবন শেষে যখন তারা কর্মজীবন শুরু করে তখন ধারের অংশ আস্তে আস্তে পরিশোধ করে থাকে। পাশ্চাত্যের শিক্ষা মডেলকে বিবেচনা করে বাংলাদেশের প্রশিক্ষণের কিছুটা রদবদল করতে পারলে দেশের শিক্ষার মান বাড়বে বই কমবে না। সে ক্ষেত্রে যেমন যারা অষ্টম শ্রেণী শেষ করেছে, পড়ার প্রতি আগ্রহ কম বা কর্মে জড়িত হতে চায়, তাদেরকে সেভাবে সুযোগ করে দেয়া যেতে পারে যেমন কাজের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা (one the job training)।

সুইডেনের স্কুলে যেমন নবম শ্রেণী অবধি শিক্ষার্থীদের সব কিছুই ফ্রি। দশম শ্রেণী থেকে তাদের মাসিক ভাতা দেয়া হয় যার এক তৃতীয়াংশ অনুদান, বাকিটা ধার হিসাবে। প্রতি টার্মে শিক্ষার্থীদেরকে তাদের সিলেবাস অনুযায়ী পড়াশুনো করতে হয়। যদি কোনো শিক্ষার্থী তার শিক্ষার ফলাফল আশানুরূপ পর্যায়ে উপনীত হতে ব্যর্থ হয়, তখন এর কারণ কর্তৃপক্ষকে জানাতে হয়। এই কারণ দর্শানো যদি কর্তৃপক্ষের মনঃপুত না হয় তখন তাদের মাসিক ভাতা বন্ধ করে দেয়া হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো তারা যেন লেখাপড়ায় অধিক মনোযোগী হয়।

শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ধরণ তৈরি করে নাগরিকের হাতে দেশের দায়ভার তুলে দেয়া হতে পারে সাফল্যের এক চমৎকার পরিকল্পনা (plan for success)। মনে রাখতে হবে শিক্ষার্থীদের সাফল্য মানেই দেশের সাফল্য। একটি সচেতন জাতির নৈতিক মূল্যবোধের (moral values) উন্নতি এ ভাবেই হয়ে থাকে।

সুইডেনের শিক্ষা প্রশিক্ষণে শিক্ষার্থীদের সরকার ধার দেয় যার ফলে এরা বাবা-মার ঘাড়ে চেপে বসে থাকে না। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন ঘটে। একারণে চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি বা অসৎ কাজকর্ম থেকে তারা বিরত থাকে। ফলে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের প্রশিক্ষণ শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করে।

কর্মের শুরুতেই এরা সরকার থেকে যে ধার নিয়েছিল তা মাসে মাসে ফেরত দিতে শুরু করে। এ ধার শোধ দেয়ার সময়সীমা কর্মজীবনের ব্যপ্তি অর্থাৎ ৬৫ বছর অবধি। ৬৫ বছর কর্মের পর এরা অবসর জীবনে চলে যায় এবং সিনিয়র নাগরিক হিসেবে সব ধরণের সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকে। সুইডেনের শিক্ষা প্রশিক্ষণের মত সুযোগ সুবিধা যদি বাংলাদেশে চালু করা যায় তবে শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষণের শুরুতেই খুঁজে পাবে এর গুরুত্ব। যা তাদেরকে মোটিভেট করবে এবং জানার জন্য শিখবে বলে আমি মনে করি। প্রশিক্ষণের ধরণ পাল্টানো মানে শুধু শিক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন বা নকল নিয়ন্ত্রণ করা নয়। অর্থনৈতিক সুযোগ সুবিধাসহ মনিটরিং পদ্ধতি চালু করাও আশু প্রয়োজন।

সরকার বেশ উঠেপড়ে লেগেছে শিক্ষার পরিবর্তনে কিন্তু যদি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাপনা দুর্বল হয়, সে ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে উপনীত হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। কারণ পরিবর্তনের পিছে যদি যুক্তি সম্পন্ন প্লান না থাকে তবে সৃজনশীল বা স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব নয়। তাই দরকার একটি ভালো লং রেঞ্জ প্লান তৈরি করা দেশের প্রশিক্ষণের পুরো পরিকাঠামোর ওপর।

হুমকির দ্বারা পরিচালিত না হয়ে উদ্দেশ্যমূলক শিক্ষা ব্যবস্থাপনার ওপর নজর দেয়া দরকার।

সকল শিক্ষার্থীকে স্টাডি লোন দেয়া এবং জ্ঞান অর্জনে সাহায্য করা হোক সরকারের নতুন উদ্যোগ। শুধু বর্তমানে কেমন চলছে তা দেখলে হবে না। আগামী দশ বছর পর কেমন চলবে সে বিষয়ের ওপর গুরুত্ব প্রদান করা দরকার। আজ আগামী কাল হবে গতকাল, একথা মনে রেখে দেশের শিক্ষা প্রশিক্ষণ পরিকাঠামোর ওপর কাজ করা দরকার। সৃজনশীল শিক্ষা পেতে এবং প্রশিক্ষণের মান উন্নত করতে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ করা আশু প্রয়োজন।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×