আমার মহাকাশ যাত্রা

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ১৭:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

মহাকাশ

মহাকাশে যাত্রা করব ৩০ জানুয়ারি রাতে। প্রস্তুতিপর্ব শেষ করতে হবে এ মাসের মধ্যে। সবার সঙ্গে বিদায়ের পর্বও শেষ করতে হবে, জানিনে আবার দেখা হবে কিনা! মহাকাশের ওপরে যে মন স্থানান্তর (mind transfer) হয়েছে তাতে মনে হচ্ছে মঙ্গল গ্রহ থেকে এটা এসেছে। কারণ মাইন্ড কার্ডের মত দেখতে তবে যে কোড নাম্বার পেয়েছি সেটা এক অদ্ভুত প্রকৃতির।

দুইবার কানের কাছে এসে আজগুবি এক শব্দ তৈরি করল। প্রথমবার একটু ভয় পেয়েছি কারণ এ ধরণের শব্দ দুনিয়ায় এর আগে শুনিনি। কিছুক্ষণ পরেই দ্বিতীয় শব্দ, খেয়াল করে শুনতে পারলাম আমাকেই বলা হচ্ছে। ভাষাটি বোধগম্য হলো না শুধু মনে হলো “ইংসিংপিংকিং” বিষয়টি কারো সঙ্গে শেয়ার করিনি।

পরে রাতে ঘুমের ঘোরে জানতে পারলাম “ইংসিংপিংকিং” -এর মানে। সকালে উঠে ট্রাই করতেই সব বিষয় অবগতি হলাম। আমাকে মহাকাশ যাত্রার নিমন্ত্রণ পাঠিয়েছেন। তবে ফেরার ব্যপারে তেমন কিছু বলা হয়নি সেখানে। যার কারণে মনটা বেশ খারাপ যদি আর কোন দিন পৃথিবীতে ফিরে না আসি, যদি আর কারও সঙ্গে দেখা না হয়।

ব্যাংকের লেনদেন সহধর্মীনিকে আজ বুঝিয়ে দিয়েছি। ছেলে-মেয়েকে বিষয়টি জানিয়েছি, তারা বললো এমন একটি ঘটনা তোমার ভাগ্যে যখন ঘটেছে তখন তা সবাইকে জানানো উচিত। আজ সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। আমার যাত্রা কিভাবে হবে এবং কি ধরণের পোশাক এবং খাদ্য সঙ্গে যাবে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারিনি তবে একটি নতুন কোড নাম্বার পেয়েছি যার অনুবাদ সঠিকভাবে জানতে পারিনি এখনও। প্রথমে ভেবেছিলাম আলোর গতিতে আমাকে যেতে হবে পরে জানতে পেরেছি না আমি মনের গতিতে যাব। ঘটনার প্রিপারেশন বেশ চলছে আমার মধ্যে, কিন্তু এটা ঘটবে সীমিত সময়ের মধ্যে। আমার সঙ্গে দোভাষী থাকবে।

যদিও জিজ্ঞেস করেছে কোন ভাষা আমি পছন্দ করি, বললাম বাংলা হলে ভালো হয়। উত্তরে বললো না তোমাকে সুইডিশ ভাষা ব্যবহার করতে হবে। তোমার দোভাষী একজন সুইডিশ তোমার সঙ্গে থাকবে, বয়েসে সে আমার থেকে অনেক ছোট। এ এঘটনা জানার পরে আমার সহধর্মীনির একটু টেনশন কমেছে।

আমার কথা ভেবে সে একটু খুশি হয়েছে যে আমি একা থাকব না সেখানে এবং কথা বলার মত অন্তত একজন সঙ্গী থাকবে। “প্রিং ট্রিং ড্রিং” নতুন সংকেত এসেছে। আলফ্রেড নোবেল আমার সঙ্গে দেখা করবেন। আমি বললাম তিনি তো বহু বছর আগে মারা গেছেন! কোথায় এবং কিভাবে তাঁর সঙ্গে দেখা হবে? উত্তরে বললো অসুবিধা নেই মহাকাশে দেখা হবে।

ঘটনা কি, কিছুই তো বুঝতে পারছিনে? হঠাৎ টেলিফোন বেজে উঠল, হ্যালো বলতেই বন্ধু নাজমুলের ফোন। সে লন্ডন থেকে ফোন করেছে। বললাম দিলি তো ঘুমটা ভেঙ্গে? নাজমুল বললো সে তার পরিবার নিয়ে নিউইয়র্ক যাবে মে মাসে, আমি যাব কিনা! বললাম মহাকাশ যাত্রা শেষ করে আসি তারপর দেখি কি করি। নাজমুল এমনটি উত্তরে একটু অরিড হয়েছে, তাই জিজ্ঞেস করল আমি ভাল আছিতো! উত্তরে বললাম বেশ তো ছিলাম এতদিন এখন জানিনা কেমন থাকব মহকাশে।

ঘড়িতে আলার্ম দেয়া ছিল সকাল ৬.৩০ মিনিটে। ঘুম তো তার আগেই ভেঙ্গে গেল। ঘুম থেকে উঠে হাত মুখ পরিষ্কার করে নামাজের পর্ব শেষে মোনাজাতে কিছুক্ষণ রত, হঠাৎ টেলিফোন বেজে উঠল। হ্যালো বলতেই বললো সুইডিশ পেটেন্ট (A patent is an exclusive right to utilize an invention) কর্তৃপক্ষ বলছি, তোমার নতুন চিন্তার ওপর যে পেটেন্ট জমা দিয়েছ তা আমরা একটি গাড়ী কম্পানীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। তারা তোমার সঙ্গে এব্যাপারে কথা বলবে।

একটি এ্যাপস তৈরি করে তা জিপিএস-এর মত কাজে লাগাতে হবে গাড়ি পার্কিংয়ে। একটি মোটা অংকের রিওয়ার্ড দিতে পারে যদি আমার আইডিয়া তাদের মনপুত হয়। মহাকাশ যাত্রার ওপর স্বপ্নে যে জাল বুনেছিলাম তা ঘুম ভাঙ্গতেই বিলিন হয়ে গেছে। শুধু মধুর স্মৃতি হয়ে আছে হৃদয়ের মাঝ রাতের পুরো ইনোভেটিভ সময়টুকু।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ১৬৪ ৩৩ ১৭
বিশ্ব ১৪,৩১,৭০৬ ৩,০২,১৫০ ৮২,০৮০
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত