ঘুষ দিয়ে নয়, জ্ঞানের মাধ্যমে নিজেকে বিক্রি করো

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৭:৩৭ | অনলাইন সংস্করণ

জ্ঞান

২ ফেব্রুয়ারি আমার জন্মদিন। গত ১০০ বছরে এ বছরের রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) এমন ওয়েদার স্টকহোমে কেও দেখেছে বলে জানা যায়নি। যদি ১০০ বছর আগে কেও দেখে থাকে তাদের সঙ্গে আমার দেখা মেলেনি আজও।

আমার শাশুড়ীর বয়স ৮৮ বছর, তার সঙ্গে কথা বললাম তিনি এমন দিনটি এর আগে দেখেছেন কিনা। উত্তরে বললেন না, কারণ এ সময় স্টকহোমসহ সারা সুইডেন বরফে ঢাকা থাকে। সূর্যের আলোর সচরাচর দেখা মেলেনা।

যদি কখনও দেখা মেলে সেই আলোক রশ্মি, তার ঝিলিক মারা সৌন্দর্য্য দ্বিগুণ উত্তপ্ত হয়ে প্রকৃতিতে রিফলেক্ট করে। শীতের দেশে সত্যি এটি একটি উপভোগ করার মত মুহূর্ত। রবিবার তুষার ছাড়া সূর্যের কিরণ সকাল সাতটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ছিল যা সুইডিশ জাতির জন্য এক নতুন ঘটনা। এ ঘটনা ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়ে থাকবে।

আমার মা-বাবা মারা গেছেন অনেক আগে (২০০৬-২০০৭)। মাকে অনেকবার জিজ্ঞেস করেছি আমার সঠিক জন্ম তারিখ কোন সালে। উত্তরে তিনি সব সময়ই বলেছেন সেদিন ছিল শুক্রবার ফজরের আজানের পর পরই আমার জন্ম হয়। মার সব ঘটনা মনে ছিল, এমনকি আমি আমার সেজো ভাইয়ের থেকে আড়াই বছরের ছোট তাও তিনি জানতেন শুধু সালটি তিনি মনে করতে পারেননি।

আমাদের সবারই জন্ম গ্রামে হয়েছে। তখন গ্রামের দাইমার সাহায্যে সন্তানের জন্ম হতো, কোন রকম সমস্যা ছাড়া। একি আল্লাহর অশেষ রহমত নয়? নিশ্চয়। অথচ বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে বা গ্রামে সন্তান প্রসব করা অনেকের কাছে স্বপ্ন। তা স্বত্বেও নানা ধরনের জটিলতার কথা যখন শুনি তখন গা শিউরে উঠে। ঘটনার শেষ এখানেই নয়, বরং সবে শুরু। আমার বাবা-মা বাংলাদেশের পরিকাঠামো যেমন শিক্ষা, প্রশিক্ষণের ধরণ এবং চাকুরীর নিশ্চয়তা ইত্যাদি বিচার বিবেচনা করে ৫-৭ বছর সঠিক বয়সের থেকে কমিয়ে মেট্রিক পরীক্ষার আগে জন্ম তারিখ রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন। কারণ সরকারি চাকুরীতে ঢোকার একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমা রয়েছে। যদি লেখাপড়া সঠিক সময় শেষ করতে না পারি, ভালো চাকুরি পেতে ঝামেলা হবে। তারা একজন বাংলাদেশি নাগরিকের পরিপেক্ষিত বিচার বিবেচনা করে এমনটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁরা তখন জানতেন না একদিন আমি উচ্চ শিক্ষার্থে বিদেশ পাড়ি দিব এবং বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করব, যা তাদের জ্ঞানের ভাণ্ডারে জায়গা করে নিতে পারেনি তখন। আমি সুইডেনে লেখাপড়া শেষ করে চাকুরি করে ট্যাক্স পে করছি। যেহেতু এখানকার বাসিন্দা, সেক্ষেত্রে এখানকার নিয়মানুযায়ী বয়স ৬৫ না হওয়া পর্যন্ত রিটায়ারমেন্টে যাওয়া এবং পেনশন পাওয়া যাবে না। এখন যেহেতু বয়সসীমা ৬৫ তাই আমার ক্ষেত্রে ৭০ প্লাস না হওয়া পর্যন্ত পেনশন পাওয়া সম্ভব নয়। সুইডেন উন্নত দেশ, এখানকার জনগণ ছোটবেলা থেকে ভালো সুযোগ সুবিধার মধ্যদিয়ে বড় হয়। এরা ৬৫ বছর অবধি কাজ করে অবসরে যাবে। অবসর জীবনে দেশ বিদেশ ঘুরে মজা করবে সুস্থ শরীরে। অন্যদিকে আমাকেও কাগজে কলমে ৬৫ বছর কাজ করতে হবে যার সঠিক অর্থ ৭০-৭২ বছর। তারপর যদি বেঁচে থাকি তবে হবে আমার পেনশন। এখন প্রশ্ন ৭০ প্লাস বছর বয়সে পারব কি সঠিকভাবে চলাফেরা করতে বা দেশ বিদেশ ঘুরতে? জানিনা।

আমি বিষয়টি নিয়ে ভেবেছি এবং শিখেছি আমার মত যেন কারো জীবনে এমনটি আর না হয়, তাই (lesson learned, local concern global solution) অনেকবার নতুন প্রজন্মদের জন্য লিখেছি বিশ্ব নাগরিক হতে হবে এবং তার জন্য সুশিক্ষার দরকার, দরকার ভালো পরিকল্পনার। কিন্তু যদি সারাজীবন বাংলাদেশে থাকতে চাও, তবে পরিবর্তনের দরকার নেই। যেমন আছো তেমন থাকলেই হবে। যখনই বিশ্বের শিক্ষার সঙ্গে নিজেকে গড়ে তুলতে চাইবে ঠিক তখন থেকেই সমস্ত প্যারামিটার পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলতে হবে। সীমিত সময়ের শিক্ষা বা অভিজ্ঞতায় যদি বাকি জীবন চালিয়ে দিতে চাও তাহলে দেশের বাইরে যাবার স্বপ্ন ছেড়ে দাও।

বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনে আজীবন চাকুরী বলে একটি প্রথা রয়েছে যেমন স্কুল, কলেজ বা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক থেকে শুরু করে অধ্যক্ষ অবধি বেশির ভাগ সময় ২০-৫০ লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়ে প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদটি আজীবন দখল করে বসে আছে। বিনিময়ে যে অর্থ দিয়ে চাকুরীতে ঢুকেছে সেই অর্থ বাকি জীবন ধরে উঠাতে হবে যার কারণে শিক্ষাঙ্গনে সব ধরনের দুর্নীতি অনিতি চলছে দেদার্সে।

যতদিন যোগ্যতার মূল্যায়ন ছাড়া এসব উচ্চ পদস্থ কর্মী নিয়োগ দেয়া হবে শুধু অর্থের বিনিময়ে, যতদিন মন্ত্রী, এমপিরা এদের থেকে ঘুষ নিয়ে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে নন কোয়ালিফাইড শিক্ষকদের নিয়োগ বন্ধ না করবে, ততদিন হাজার চেষ্টা করলেও দেশে সুশিক্ষা আসবে না, আসতে পারে না।

বর্তমানে পৃথিবীর কোথাও আজীবন চাকুরি বলে কোন পদ নেই, চাকুরি আছে ততদিন ডিমান্ড আছে যতদিন। বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখানে আশানুরূপ ফলাফল না থাকা স্বত্বেও দিব্যি চাকুরি মিলছে। সব জেনে শুনেও সবাই এ ধরনের অন্যায় কাজে সহায়তা করছে বছরের পর বছর। অপ্রিয় সত্যকে তুলে ধরলাম। জানি অনেকেই আমার এ সত্য মেনে নিতে পারবে না কারণ ট্রুথ হার্টস।

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালন হবে আজ থেকে ৪২ দিন পর। একদিন এই শতবার্ষিকী পালন শেষ হবে। সময় তার গতিতে বয়ে যাবে কি হবে দুর্নীতির?

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৬১ ২৬
বিশ্ব ১০,১৫,৮৫০ ২,১২,৯৯১ ৫৩,২১৬
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×