অজানা ভবিষ্যতের আরেক নাম বিজ্ঞান
jugantor
অজানা ভবিষ্যতের আরেক নাম বিজ্ঞান

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে  

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২০:৪৫:৫৮  |  অনলাইন সংস্করণ

২০১৯ সালে রসায়নে নোবেল প্রাইজ দেয়া হয়েছে তিন বিজ্ঞানীকে। তারা হলেন জন বি গুডেনেনাফ (John B. Goodenough), এম স্ট্যানলে হুটিংহাম (M. Stanley Whittingham) এবং আকিরা ইয়োসিনো (Akira Yoshino)। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি নিয়ে গবেষণার জন্য তাদেরকে এ পুরস্কার দেয়া হয়েছে।

লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি রিচার্জেবল এবং শক্তিশালী যা মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে ল্যাপটপ এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন, সমস্ত ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এটি সূর্য এবং বাতাস থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে শক্তি সঞ্চয় করে। অ্যারনে এইচ ডাব্লু লারসন (Arne H. W. Larsson) একজন সুইডিশ ইঞ্জিনিয়ার, যার হার্টে ১৯৫৮ সালে বিশ্বের প্রথম পেসমেকার বসানো হয়েছিল। এ পেসমেকারের আবিষ্কারকের নাম রুনে এলমকুইস্ট (Dr. Rune Elmquist)। হার্ট সার্জন ডাক্তার ওকে সেনিং (Åke Senning) এবং ডাক্তার এলিমা-শোনান্দের (Elema-Schonander) পেসমেকারটি অ্যারনে লারসনের শরীরে প্রতিস্থাপন করেন। সেসময় পেসমেকারটি সম্পূর্ণরূপে মানুষের শরীরে ব্যবহারের জন্য উপযোগী হয়ে ওঠেনি। তবুও মিসেস লারসনের অনুরোধে সেটি মিস্টার লারসনের শরীরে প্রথম ব্যবহৃত হয়, সে সময় তাঁর বয়স ৪৩ বছর ( ২০০১ সালে মারা যান অ্যারনে লারসন)।

তিনি ২৮ বছর এই পেসমেকারটি শরীরে নিয়ে বেঁচে গেলেও ২৬ বার সেটি চেঞ্জ করা হয়েছে।এর কারণ তখনও লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির ব্যবহার শুরু হয়নি। ১৯৭০ এর দশকে লিথিয়াম ধাতব ব্যাটারি চালু করা হয়। এই ব্যাটারি ছিল নন-রিচার্জেবল। যুক্তরাষ্ট্রে তখন জ্বালানি তেলের ভীষণ সংকট। তেলের দাম বাড়ছিল রকেটগতিতে। উন্নত বিশ্বে যা হয় অভাব থেকে উদ্ভাবন। সেটাই হয়েছিল আমেরিকায়। তেলের অভাবে শুরু হয় বিকল্প শক্তির সন্ধান। তখনই এগিয়ে আসেন এম স্ট্যানলি হুইটিংহাম। উদ্ভাবন করেন নতুন এক ব্যাটারি, তবে সে ব্যাটারি বেশিক্ষণ ব্যবহার করলে তা বিস্ফোরিত হত।

যার কারণে এ ব্যাটারি বিশ্বে প্রভাব ফেলতে পারেনি। ১৯৮৬ সালে লিথিয়াম–আয়ন ব্যাটারির আবির্ভাব হয়। এর ফলে নতুন পেসমেকার আকারে ছোট, স্মার্ট, নিরাপদ এবং টেকসই হওয়ায় চিকিৎসকদের নিকট গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে। এসব ঘটনা জানা সত্বেও কেন এত বছর পর (২০১৯ সালে) নোবেল পুরষ্কার দেয়া হলো লিথিয়াম–আয়ন ব্যাটারির ওপর? কারণগুলো হলো জলবায়ু পরিবর্তন, কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমান বৃদ্ধি এবং গ্রেটা থুনবার্গের (Greta Thunberg) বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, সর্বোপরি বর্তমানে পৃথিবীর মানব কল্যাণে লিথিয়াম–আয়ন ব্যাটারির ব্যবহার অপরিসীম।

ভবিষ্যতে শক্তির উৎস হিসেবে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির ব্যবহার হবে বহুমাত্রিক। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য শক্তির আধারে রাখবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি বর্তমানের চেয়েও আরও চমকপ্রদ হবে, তা চোখ বুজে বলে দেয়া যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এ ব্যাটারি দাহ্য নয়, মানে আগুনে পুড়বে না এবং দামেও সস্তা। তবে এ ব্যাটারি যে দুনিয়া বদলে দেবে, তা অবশ্য শুরুতে আন্দাজ করতে পারেননি এর উদ্ভাবকেরা। গুডএনাফের বয়স এখন ৯৭।

সবচেয়ে প্রবীণ নোবেলজয়ী এ বিজ্ঞানী নিজেও জানতেন না বা ধারণাও করেননি, এ ব্যাটারি দিয়ে মুঠোফোন, ক্যামেরা বা অন্য কিছু চলবে। নোবেল পুরষ্কার পেতে আসলে আহমারি কিছু করতে হবে তা না। মানুষ জাতির অতি সাধারণ চাহিদা পূরণ করতে পারলেই it is enough to be Good enough. 2019 year's Nobel prize in Chemistry proved that one does not always need to be the best to get a Nobel prize. We found that, to get a Nobel prize, some time, it is enough to be “Nobel laureate GOODENOUGH".

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

অজানা ভবিষ্যতের আরেক নাম বিজ্ঞান

 রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে 
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৮:৪৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

২০১৯ সালে রসায়নে নোবেল প্রাইজ দেয়া হয়েছে তিন বিজ্ঞানীকে। তারা হলেন জন বি গুডেনেনাফ (John B. Goodenough), এম স্ট্যানলে হুটিংহাম (M. Stanley Whittingham) এবং আকিরা ইয়োসিনো (Akira Yoshino)। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি নিয়ে গবেষণার জন্য তাদেরকে এ পুরস্কার দেয়া হয়েছে।

লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি রিচার্জেবল এবং শক্তিশালী যা মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে ল্যাপটপ এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন, সমস্ত ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এটি সূর্য এবং বাতাস থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে শক্তি সঞ্চয় করে। অ্যারনে এইচ ডাব্লু লারসন (Arne H. W. Larsson) একজন সুইডিশ ইঞ্জিনিয়ার, যার হার্টে ১৯৫৮ সালে বিশ্বের প্রথম পেসমেকার বসানো হয়েছিল। এ পেসমেকারের আবিষ্কারকের নাম রুনে এলমকুইস্ট (Dr. Rune Elmquist)। হার্ট সার্জন ডাক্তার ওকে সেনিং (Åke Senning) এবং ডাক্তার এলিমা-শোনান্দের (Elema-Schonander) পেসমেকারটি অ্যারনে লারসনের শরীরে প্রতিস্থাপন করেন। সেসময় পেসমেকারটি সম্পূর্ণরূপে মানুষের শরীরে ব্যবহারের জন্য উপযোগী হয়ে ওঠেনি। তবুও মিসেস লারসনের অনুরোধে সেটি মিস্টার লারসনের শরীরে প্রথম ব্যবহৃত হয়, সে সময় তাঁর বয়স ৪৩ বছর ( ২০০১ সালে মারা যান অ্যারনে লারসন)।

তিনি ২৮ বছর এই পেসমেকারটি শরীরে নিয়ে বেঁচে গেলেও ২৬ বার সেটি চেঞ্জ করা হয়েছে।এর কারণ তখনও লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির ব্যবহার শুরু হয়নি। ১৯৭০ এর দশকে লিথিয়াম ধাতব ব্যাটারি চালু করা হয়। এই ব্যাটারি ছিল নন-রিচার্জেবল। যুক্তরাষ্ট্রে তখন জ্বালানি তেলের ভীষণ সংকট। তেলের দাম বাড়ছিল রকেটগতিতে। উন্নত বিশ্বে যা হয় অভাব থেকে উদ্ভাবন। সেটাই হয়েছিল আমেরিকায়। তেলের অভাবে শুরু হয় বিকল্প শক্তির সন্ধান। তখনই এগিয়ে আসেন এম স্ট্যানলি হুইটিংহাম। উদ্ভাবন করেন নতুন এক ব্যাটারি, তবে সে ব্যাটারি বেশিক্ষণ ব্যবহার করলে তা বিস্ফোরিত হত।

যার কারণে এ ব্যাটারি বিশ্বে প্রভাব ফেলতে পারেনি। ১৯৮৬ সালে লিথিয়াম–আয়ন ব্যাটারির আবির্ভাব হয়। এর ফলে নতুন পেসমেকার আকারে ছোট, স্মার্ট, নিরাপদ এবং টেকসই হওয়ায় চিকিৎসকদের নিকট গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে। এসব ঘটনা জানা সত্বেও কেন এত বছর পর (২০১৯ সালে) নোবেল পুরষ্কার দেয়া হলো লিথিয়াম–আয়ন ব্যাটারির ওপর? কারণগুলো হলো জলবায়ু পরিবর্তন, কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমান বৃদ্ধি এবং গ্রেটা থুনবার্গের (Greta Thunberg) বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, সর্বোপরি বর্তমানে পৃথিবীর মানব কল্যাণে লিথিয়াম–আয়ন ব্যাটারির ব্যবহার অপরিসীম।

ভবিষ্যতে শক্তির উৎস হিসেবে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির ব্যবহার হবে বহুমাত্রিক। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য শক্তির আধারে রাখবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি বর্তমানের চেয়েও আরও চমকপ্রদ হবে, তা চোখ বুজে বলে দেয়া যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এ ব্যাটারি দাহ্য নয়, মানে আগুনে পুড়বে না এবং দামেও সস্তা। তবে এ ব্যাটারি যে দুনিয়া বদলে দেবে, তা অবশ্য শুরুতে আন্দাজ করতে পারেননি এর উদ্ভাবকেরা। গুডএনাফের বয়স এখন ৯৭।

সবচেয়ে প্রবীণ নোবেলজয়ী এ বিজ্ঞানী নিজেও জানতেন না বা ধারণাও করেননি, এ ব্যাটারি দিয়ে মুঠোফোন, ক্যামেরা বা অন্য কিছু চলবে। নোবেল পুরষ্কার পেতে আসলে আহমারি কিছু করতে হবে তা না। মানুষ জাতির অতি সাধারণ চাহিদা পূরণ করতে পারলেই it is enough to be Good enough. 2019 year's Nobel prize in Chemistry proved that one does not always need to be the best to get a Nobel prize. We found that, to get a Nobel prize, some time, it is enough to be “Nobel laureate GOODENOUGH".

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
 

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২০