মাল্টি কালচারালিজম মানে এগ্রি টু ডিজ এগ্রি

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৭:২৮ | অনলাইন সংস্করণ

মাল্টি কালচারালিজম

১৯৯৯ সালের কথা, টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে আমার প্রশিক্ষন বহু সংস্কৃতিবাদ (Multi culturalism) সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং নীতিমালার ওপর।

হয়ত প্রশ্ন আসতে পারে কাজ করি ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাট্রিতে বহু সংস্কৃতিবাদ, সম্প্রদায় ইত্যাদি জেনে কি হবে? চাকুরি করি ম্যানেজমেন্টের ওপর, নানা জাতি, নানা বর্ণ, নানা ধর্ম, নানা ভাষা এবং লিঙ্গের মানুষের সঙ্গে কাজ করতে হয়। সে ক্ষেত্রে যেমন ম্যানেজমেন্ট বাই অবজেকটিভসের গুরুত্ব অপরিসীম তেমন গুরুত্ব বহু সংস্কৃতিবাদেরও। CNN (Cable News Network)-এর একজন সাংবাদিক বলেছিল সেদিন “ they have different opinions, they talk differently, they work differently, they have different cultures, they have different backgrounds but they talk to CNN.” কথাগুলো ধরেছিল বেশ তাই মনে আছে আজও। ব্যবহারিক ক্ষেত্রে বহু সংস্কৃতিবাদের যথেষ্ট মূল্য রয়েছে সমাজে।

কারণ বহু সংস্কৃতিবাদের মূল্যবোধ আমাদের অঙ্গীকার, আমাদের প্রতিশ্রুতি।

পৃথিবীর সুযোগ্য নাগরিক হতে হলে বহু সংস্কৃতিবাদি হতে হবে। শুধু দেশে বা বিদেশে বলে কথা নয়, সমাজে অ্যাডজাস্ট করে চলতে এর গুরুত্ব অপরিসীম। ভালো আন্ডারস্টান্ডিং, মিউচুয়াল রেস্পেক্ট, টলারেন্স এসব বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে পরিবার থেকে।

অনেক পরিবার এক অন্নভুক্ত তবুও নেই কোনো যোগাযোগ, হয়না কথা বছরের পর বছর। আমার কষ্টে ব্যথিত আমি, তোমার কষ্টে তুমি। এমনকি নেই পরস্পরের প্রতি বিন্দুমাত্র ভালোবাসা। একই আশা ভালবাসা কান্না হাসির একই ভাষা, অথচ দুঃখ সুখের বুকের মাঝে একই যন্ত্রনা তা সত্বেও তারা একে অপরের সঙ্গে কথা বলিনা। এমনটি অনেক পরিবারে আছে নাকি নাই?

অতএব পরিবারই পরিবর্তনের আসল পাঠশালা, সে ক্ষেত্রে বহু সংস্কৃতিবাদ শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে সেখান থেকে।

শিশুদেরকে বিভিন্ন জাতির শিল্প, কারুশিল্প, সঙ্গীত ইত্যাদি সম্পর্কে শেখাতে হবে। তাদের মধ্যে দেশাত্মবোধ জাগিয়ে তুলতে হবে। সুইডেনে এর ওপর বেস্ট প্রাক্টিস চলছে কারণ পৃথিবীর সব দেশের লোকের বসবাস এখানে।

প্রতিটি শিশু তার মানসিক বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়ে পরিবার তথা সমাজের মূল্যবোধ, শ্রেয়বোধ (good sense) ও আদর্শ ইত্যাদি শেখে।

পরবর্তীতে মিথস্ক্রিয়ার(Interaction) মাধ্যমে নিজস্ব সংস্কৃতি লালন করার পাশাপাশি বিশ্বের অপরাপর সমাজ-সংস্কৃতি-সভ্যতার অন্তর্নিহিত মুল্যবোধ অর্জন করে।

সমাজে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের রক্ষণাবেক্ষণের একটি নীতিমালা রয়েছে। এ নীতিমালা বিভিন্ন জাতি, ধর্মীয় গোষ্ঠীর লোক কর্তৃক, নির্ধারিত গ্রুপ বা কর্তৃপক্ষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, যেমন জাতি, লিঙ্গ, ধর্ম, যৌন অভিযোজন (Sexual orientation) আর্থ-সামাজিক (Ortho-social) ব্যাকগ্রাউন্ড ইত্যাদি।

প্রতিটি ভাষাভাষী সমাজের নিজস্ব পরিচয় থাকে। যদি কোনো কারণে কোনো গোষ্ঠীর সংস্কৃতির বিকাশে বাধা আসে, তবে তারা রুখে দাঁড়ায়। গড়ে ওঠে জাতীয় সংস্কৃতি রক্ষা ও তা বিকাশের প্রবল মনোভাব। কখনো কখনো তা জাতীয় মুক্তিসংগ্রামে রূপ নেয়। তার জ্বলন্ত উদাহরণ বাংলাদেশ।

বাংলাদেশে যদিও তেমন কোনো বিদেশির বসবাস নেই তার অর্থ এই নয় যে তারা চোখ কান বন্ধ রেখে শুধু নিজেদের নিয়ে ভাববে। বড় হয়ে ব্যবসা বানিজ্য বা শিক্ষা প্রশিক্ষনের কারণে দেশের বাইরে বসবাস করতে হতে পারে সে ক্ষেত্রে বিশ্বের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলা শিখতে হবে শুরু থেকে।

ভিনদেশে অ্যাডজাস্ট করে চলতে না পারলে নানা ধরনের সমস্যার মুখামুখি হওয়ার সম্ভবনা থাকে। যেমন একটি উধাহরণ, মুসলমানদের ব্রিটিশ মূল্যবোধ মেনে চলতে হবে। ব্রিটিশ মূল্যবোধ না মানলে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ হয়ে যাবে। এটা একধরনের হুশিয়ারি। আর হুশিয়ারিটা দিয়েছিলেন কোনো এক সময় স্বয়ং প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন।

এমন ধরনের হুশিয়ারি সংকেত দিয়ে থাকেন বেশির ভাগ ধনী দেশগুলো দরিদ্র রিফুজিদের। যেমনটি বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের দেয়া হচ্ছে।

বহু সংস্কৃতিগত (Multi cultural) আদর্শ বা নীতিগুলি সমমান এবং সম্মানের হওয়া উচিত পরষ্পরের নিকট কিন্তু তার অভাব রয়েছে। বহু সংস্কৃতির শিক্ষা একটি জটিল প্রক্রিয়া যেখানে পরিবার একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে, বিশেষ করে সুইডেনে।

আমি এর আগে লিখেছি সুইডেনের একটি শহর নাম রিংকেবি(Rinkeby)। পৃথিবীর সব দেশের লোকের বসবাস রয়েছে এবং সবাই মিলেমিশে বাস করছে এই ছোট্ট শহরটিতে।

আমার এক বন্ধু অনুরোধ করেছে please write something about multi culturalism মান্টি কালচার একটি সহজ সুন্দর বিষয়, অথচ এটাকে লিখা এবং ব্যবহারিক ক্ষেত্রে জটিল করে ফেলেছে একদল পন্ডিত। কারন তারা নিজেদের নামের ওপর ডক্টরেট ডিগ্রী চাপিয়ে সহজ জিনিসটিকে জটিল করেছে। যার ফলে মাল্টি কালচার জটিল কালচারে পরিণত হয়েছে। মনে রাখতে হবে, আমারা এখন বিশ্ব নাগরিক, আমাদেরকে অ্যাডজাস্ট করে চলতে হবে এবং মনে রাখতে হবে আমাদের মতামতের ভিন্নতা থাকতে পারে।

আমরা এগ্রি টু ডিজ এগ্রি হতেই পারি। বিপদে মোরে রক্ষা কর এ নহে মোর প্রার্থনা বিপদে যেন না করি আমি ভয়। কে কালো, কে সাদা, কে ইংলিশ কে সুইডিশ, কে বড়লোক, কে গরিব, সেটা কথা নয়। কথা হলো কে মানুষ, আর কে দানব। এটা সনাক্ত করার পর অ্যাডজাস্ট করে চলতে পারার আরেক নাম multi culturalism.

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৫৬ ২৬
বিশ্ব ৯,৩৬,২০৪ ১,৯৪,৫৭৮ ৪৭,২৪৯
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×