সুখের জীবনে হয়েছে অসুখ

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ০৬ মার্চ ২০২০, ২১:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

অসুখ

হটাৎ অসুখ করেছে। সুখে থাকতে থাকতে ভুলেই গেছি অসুখকে। কিন্তু এখন তার সঙ্গে চলছে আমার ওঠাবসা। অবাক লাগছে সারা দুনিয়ার সব সুখ এখন অসুখে পরিণত হয়েছে।

নিজেকে দুর্বল, অসহায় মনে হচ্ছে, যদিও ছেলেমেয়ে এবং স্ত্রী সারাক্ষণ কাছে আসছে, জিজ্ঞাসা করছে কেমন আছি, কি দরকার ইত্যাদি। পৃথিবীতে যাদের চিনি, জানি সবাই বেশ খোঁজ খবর নিতে উঠে পড়ে লেগেছে। মনে হচ্ছে জীবনটা বেশ সুন্দর মধুময় কারণ কত শুভাকাঙ্খি রয়েছে আমার।

আমি সুস্থ থাকাকালীণ এটা ওটা চেয়েছি, কল্পনায় এবং স্বপ্নে। হটাৎ সব কিছুই এসে হাজির হয়েছে সত্বেও আমি আমার সেই পুরনো সুখকে পেতে ব্যকুল হয়েছি।

সুস্থ অবস্থায় হাজারও চাওয়া পাওয়া ছিল আর হটাৎ অসুস্থ হওয়ার কারণে শুধু একটাই চাওয়া তা হলো সুস্থ হতে চাই। জীবনে যতবার অসুস্থ হয়েছি তার চেয়ে সুস্থই ছিলাম বেশি, এতবেশি সুস্থ ছিলাম যে সুস্থতার সঙ্গকে হৃদয়, মন, প্রাণ দিয়ে কখনও বলিনি -সুখ, আমি তোমাকে ভালোবাসি।

এটাই আমাদের স্বভাব, আমরা মানুষ জাতি যা নেই তার পিছে ছুটতে ব্যস্ত যার কারণে যা আছে তার তারিফ বা উপলব্ধি করতে ভুলে যাই।

সুখ, আমি তোমাকে ভালোবাসি। কি মধুর একটি কথা যা বলতে বা শুনতে হয়ত সারা জীবন লেগে যাবে। হয়ত বলা হবে বা হবে না। করোনাভাইরাস বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে, সবাই কম বেশি ভয়ের মধ্যে আছে। সমস্যা এসেছে মানব জাতির জীবনে অথচ সমাধান নাই, এই কারণে সবাই বেশি ভিতু। আমি মাঝে মধ্যে অসুস্থ হই বিশেষ করে সর্দি-কাশি-জ্বরে। এবার করোনার কারণে হয়তোবা একটু বেশি টেনশনে আছি। যুগে যুগে মানুষ জাতি হাজারও সমস্যা মোকাবেলা করেছে, এবারও এর সমাধান হবে। দুঃখের বিষয় আমরা অতীত বা পুরনো স্মৃতিগুলোকে ভুলে যাই বেশ তাড়াতাড়ি।

যাইহোক বিছানায় শুয়ে আছি, কিছুই করার নাই তাই শেয়ার করছি এই মুহূর্তটিকে। এত বছর সুইডেনে আছি অথচ খেয়াল করিনি বাংলায় সুখ শব্দটির সুইডিশ অর্থ অসুখ। সুখ (Sjuk) জীবনের একটি মধুময় আনন্দঘন সময় আমাদের ভাষায় অথচ এখানে তার অর্থ পুরোটাই উল্টো। শুধু কি তাই আমরা যখন অসুস্থ তখন বলি অসুখ করেছে যা সুইডেনে এদের ভাষায় বলে সুখ করেছে যেমন ”jag är sjuk” আমি অসুস্থ। সুইডেনে অনেক কিছুই একটু আলাদা বাংলাদেশের সঙ্গে যদি তুলনা করি।

যেমন এখানে সবাই ব্যস্ত পুরো সপ্তাহে। তবে যখনই শুক্রবার আসে কি আনন্দ সবার মাঝে, কারণ পরের দুটো দিন ছুটি। শনি এবং রোববারে এরা পারিবারিকভাবে বেশি ব্যস্ত তা সত্বেও মনে হবে না সেই ব্যস্ত সময়টুকু, যেমনটি মনে হয় সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার অবধি।

শুক্রবার কর্ম সপ্তাহের শেষের দিন, সবাই দিনটির অপেক্ষায় থাকে। একটি শব্দ খুব আবেগের সঙ্গে ব্যবহৃত করে এখানে সেটা হলো “att längta” - ‘längta’ শব্দটি (verb) যার অর্থ কাঙ্খিত সময়ে কারও জন্য অপেক্ষা করা, স্বরণ করা বা কারো কথা মনে করা। প্রিয়/প্রিয়তমার সঙ্গে দেখা করার জন্য যেমন অপেক্ষা বা প্রতিক্ষা ঠিক তেমন শুক্রবারের জন্য সবাই অপেক্ষা করে।

শুক্রবার ডিনার শেষে যেটা হয় এখানে তা হলো শুক্রবারের এক আনন্দঘন মূহুর্ত যাকে এদের ভাষায় বলা হয় ‘ফ্রেডাগসমিস’ (fredagsmys), এই শব্দটির সরাসরি বাংলা বা ইংরেজি অনুবাদ মিলবে না।

টিভির সামনে বসে চা/কফি, ভুট্টার খই বা পপকর্ন বা নানা ধরনের ক্যান্ডি যা সুইডিশ ভাষায় বলে “গুডিছ“(godis) খাওয়া হয়ে থাকে। শনিবার সকাল থেকে ভালো কিছু করতে হবে, ভালো কিছু পরতে হবে, ভালো কিছু খেতে হবে, প্রিয়জনের জন্য ভালো কিছু উপহার দিতে হবে, রেস্টুরেন্টে যেতে হবে এবং পরে বন্ধু/বান্ধবীদের সঙ্গে আড্ডা দেয়া থেকে শুরু করে সিনেমা বা ডিস্কটেকে ডান্স করতে যেতে হবে, এসব ঘটে থাকে।

রোববারে ধর্মীয় কাজের জন্য যেমন গীর্জায় যাওয়া বা কবরস্থানে গিয়ে প্রিয়জনের কবরে গিয়ে বাতি জ্বালিয়ে একগুচ্ছ ফুল দিয়ে তাদেরকে স্বরণ করা হয়ে থাকে। শুক্র, শনি এবং রোবারের দিনগুলো এরা এভাবে পালন করে থাকে, একবার নয়, বার বার এবং প্রতি সপ্তাহে।

সবাই মিলে ভালো কিছু করা, ভালো কিছু অনুভব করা মানে জীবনকে প্রতিনিয়ত নতুন করে খুঁজে পাওয়া।

আজ শুক্রবার, আমি এই কাঙ্খিত দিনটিকে স্বরণ করছি স্রষ্টাকে, মনে করছি আমার পরিবারকে এবং আশায় আছি কখন সুস্থ হব। সেই সঙ্গে প্রতিক্ষায় আছি কখন সন্ধ্যা হবে আর সবাই একসঙ্গে ডিনার করব, তারপর সোফায় (sofa) বসে চা/কফির আড্ডা হবে।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৫১ ২৫
বিশ্ব ৮,৫৬,৯১৭১,৭৭,১৪১৪২,১০৭
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×