ভয়কে জয় করার আরেক নাম সার্থকতা

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ১১ মার্চ ২০২০, ১৯:২৮ | অনলাইন সংস্করণ

সার্থকতা

ফ্লার্টি (flirty) শব্দের অর্থ কাউকে নানা কৌশলে মুগ্ধকরা বা পটানো। Flirty dancing, flirty party বর্তমান নতুন প্রজন্মের পরস্পরের মধ্যে চেনাজানার এক নতুন পদ্ধতি।

অতীতের প্রেম, প্রীতি ভালোবাসার গল্প ছিল যেমন চন্ডীদাস ১২ বছর বরশী পেতে বসে ছিল তার রজকিনীকে পাওয়ার জন্য। দুই তরুণ তরুণী রোমিও এবং জুলিয়েটের মধ্যে মনের মিলন হয়েছিল। এটা আজীবনের ভালোবাসার এক কাহিনী।

ভেরোনা সৈকতে রোমিওর সঙ্গে দেখা হয়েছিল জুলিয়েটের, যেখানে প্রথম দেখায় তাদের মধ্যে প্রেম হয়ে যায়। কিন্তু পারিবারিক শত্রুতা এই প্রেমের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। তারপর কত কথা, কত ব্যথা, যা শেক্সপিয়ারের (Shakespeare) বর্ণনায় পড়েছে ধরা। আবার পারুর জন্য দেবদাসের বিরহ কাতর চিরায়ত প্রেমিকের ধ্রুপদী নিদর্শন হিসেবে হয়েছে গণ্য।

আমার ছেলেবেলার প্রেমে চিঠি লেখা, দূর হতে দেখা আর এখনকার যুগে নেট প্রেম বা ফ্লার্টি প্রেম। তবে ঘটকের মাধ্যমে বা অ্যারেঞ্জ প্রেম এখনও প্রচলিত রয়েছে। প্রেম ভালোবাসা প্রথম দেখায় হতে পারে, চেনা জানার মাধ্যমে হতে পারে, কারও কর্মে বা আচরণে মুগ্ধ এবং পরে ভালোবাসা হতে পারে। তবে জোর করে ভালোবাসা বা প্রেম হয় না। প্রেম দেয়া নেয়ার এক মিলনায়তন। যৌনমিলনের পূর্ব শর্ত প্রেম বা ভালোবাসা। ভালোবাসার মধ্যে রয়েছে শুধু ভালোবাসা। ভালোবাসা জিনিসটা আসলে কি? আন্ডারস্ট্যান্ডিং, টলারেন্স, কোঅপারেশন, ফিলিংস এসব প্যারামিটারসহ রোমান্টিক এবং এট্টাকশন থাকতে হবে ভালোবাসায়।

সেক্ষেত্রে জোর করে কারও মন জয় করা সম্ভব নয়। এটা গেল ব্যক্তিগত রিলেশনের ব্যাপার। এখন দেখা যাক কি অবস্থা কর্মজীবনে। ডেডিকেশন, মোটিভেশন, প্যাশান, একশান, ক্রিয়েটিভ, মডেস্টি এসব গুনের কর্মীকে সবাই চাকুরী দিতে আগ্রহী। নানাভাবে লিখিত, মৌখিক, রেফারেন্সসহ সাইকোলজির ওপর পরীক্ষা নিরীক্ষার পর একজন দক্ষ কর্মীকে চাকুরীতে নিযুক্ত করার পরও দেখা যায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই কর্মী অনেকটা ‘গুড ফর নাথিং’ হয়ে যায়। সে কর্মের দক্ষতায় মনমত ফলাফল দেখাতে ব্যর্থ। কি কারণ জড়িত এর পেছনে? আমি গোটা বিশ্বের পার্সপেক্টিভ (perspective) লক্ষ্য করেছি, বিবেচনা করেছি এবং যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি তা হলো দক্ষ পরিচালনা এবং দক্ষ লিডার ছাড়া বেস্ট পারফরমেন্স পাওয়া সম্ভব নয়।

এবার আসুন একটি মর্ডান হাসপাতাল নিয়ে আলোচনা করি যেখানে দেশের সেরা ডাক্তার নিয়োগ করা হয়েছে। মর্ডান যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। উচ্চ মানের হাইজিন এবং কোয়ালিটি রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কর্মচারীদের ভালো বেতনের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা স্বত্বেও সেখানে আশানুপাত ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। সবাই তার কর্ম করছে তবে এনগেজমেন্টের অভাব, মোটিভেশন নেই, সবাই উদাসীন।

সব আছে তারপরও কিছু নেই মনে হয় দেহ আছে প্রাণ নেই। মানবিক আচরণ বলে একটি কথা আছে যা শুধু ব্যক্তি সম্পর্কে নয় কর্মের সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ। যখন এ জিনিসটির অভাব দেখা যায় বা সঠিকভাবে তার ফলোআপ/ফিডব্যাক দেয়া না হয় তখন সব কিছু হাজার গুন ভালো হওয়া স্বত্বেও ফলাফল দাঁড়ায় নেগেটিভ। মনে হয় যেন এক ফোঁটা গোচোনা এক কলস দুধের মধ্যে পড়েছে। দক্ষ ম্যানেজার বা লিডার নিজে কাজ করে না, করায়।

দক্ষ নেতা সব সিদ্ধান্তে নিজে কৃতিত্ব নেয় না অন্যকে তৈরি করে যাতে করে তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শেখে। মানবিক সুস্থতার অবক্ষয়ে এবং নেতৃত্বের একনায়কতন্ত্রের কারণে কর্মীদের কাজে মোটিভেশনের বিলুপ্তি ঘটে। এবার আসা যাক আমার নিজের কথায়। আমি আমার ছেলেমেয়েকে শাসনের মধ্যে রাখতে চেষ্টা করেছি তাদের বয়স ১৮ বছর হওয়া অবধি। তাদের এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল নয়। কারণ পাশ্চাত্যে সন্তানের ব্যক্তিগত জীবনে বাবা-মার হস্তক্ষেপ সচারচর দেখা যায় না। আমার অরিজিন (origin) যদি দেখি তবে পরিষ্কার যে আমার বাবা-মা আমার ওপর কড়া নজর দিয়ে ছোটবেলায় আমাকে গড়ে তুলেছেন পারিপার্শ্বিকতার ওপর বিবেচনা করে।

সুইডেনের যে সমস্ত দিকগুলো আমার মনমত নয় সে দিকে একটু বেশি নজর দিয়েছি। এটা তাদের কাছে আমার অস্বাভাবিক আচরণ। ব্যক্তিগত জীবনে আমি এতটুকু বুঝেছি তা হলো, চেঞ্জ বা পরিবর্তনের উদ্দেশ্য কি? উদ্দেশ্য ছেলেমেয়েকে সুন্দর করে গড়তে সাহায্য করা, তাদের ভালোর জন্য। এখন সে ভালো করার পদ্ধতি যদি মনমত না হয় সেক্ষেত্রে পরিবর্তন দরকার। আর সে পরিবর্তন হতে পারে আমার ব্যবহার, আচরণ বা ম্যানেজমেন্ট স্টাইল।

তার জন্য দরকার সবাইকে যুক্ত করা, সবাইকে সমানভাবে এনগেজ করা। সর্বোপরি রেসপেক্ট ফর ইনডিভিজ্যুয়াল এবং ইনডিভিজ্যুয়াল মতামতের ওপর গুরুত্ব দেয়া খুবই জরুরী একটি হলিস্টিক ভিউ অব ৩৬০ ডিগ্রী পরিবেশ তৈরি করার জন্য। আমি আমার ব্যক্তিগত কর্ম এবং পারিবারিক জীবনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে দেখেছি একজন ভালো স্বামী, ম্যানেজার এবং বাবা হতে যে জিনিসটির সবচেয়ে বেশি দরকার তা হলো ম্যানেজ করে চলতে শেখা।

সব কিছু শতভাগ মনমত না হলেও নিজেকে অ্যাডজাস্ট করে চলা, যাতে করে আমার চারপাশের সবাই বোঝে যে আমি তাদেরই একজন। সর্বোপরি একজন ভালো লিডার বিনয়ী, মার্জিত এবং মানসিক আচরণ প্রয়োগ করে, মানবতা ও মনুষ্যত্বের পরিচয়ের মাধ্যমে তার ভুলের সংশোধন করে। ক্ষমতা হারানোর ভয়ে বা প্রেস্টিজের কারণে অজুহাত খোঁজে না, বরং খোঁজে সমাধান।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৫১ ২৫
বিশ্ব ৮,৫৬,৯১৭১,৭৭,১৪১৪২,১০৭
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×