দেশকে গড়তে হবে মজবুত করে

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ১৫ মার্চ ২০২০, ০৩:৪২:২২ | অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশের সবচেয়ে অবহেলিত সেক্টর হচ্ছে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা। না আছে পর্যাপ্ত পরিমাণ চিকিৎসক, নার্স, রোগীর জন্য আধুনিক বিছানা, ইকুইপমেন্টের মেনটেন্যান্স, ভালো হাইজিনের ব্যবস্থা বা সুস্থ পরিবেশের নিশ্চয়তা।

সতের কোটি মানুষের দেশে একটি মাত্র পঙ্গু হাসপাতাল তাও রাজধানী ঢাকায়। কিভাবে সম্ভব দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া? দেশের ব্যাংকে টাকা নেই ঠিকই অন্যদিকে কারও কারও বাড়িতে বিছানা বা সিন্দুক ভরা টাকা। এই টাকাগুলোর সৎ ব্যবহারও হচ্ছে না।

দেশের সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীরা যে দেশে ডাক্তার হয় সেই দেশে চিকিৎসার সবচেয়ে করুণ অবস্থা যা ভাবতেই গা শিউরে উঠে।
দেশের প্রভাবশালী, ধনী বা সরকারী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অসুস্থ হলে দেশের চিকিৎসা ফেলে চলে যায় ইন্ডিয়া, সিঙ্গাপুর অথবা ব্যাংককে।

কি হবে যদি করোনাভাইরাসে সবাইকে ধরে? কোথায় হবে চিকিৎসা, ভেবেছেন কি? আমি আরেকটু বলি ভবিষ্যতে করোনার চেয়েও ভয়ংকর অসুখ আসবে পৃথিবীতে, এ ধরনের অচেনা অজানা অসুখ শনাক্ত করার আগ পর্যন্ত মানব জাতির বড় আকারে ক্ষতি হবে। যদি প্রত্যেকটি দেশ তার নিজ নিজ জায়গা থেকে দেশের পরিকাঠামো গড়ে না তোলে তবে জনগণ বিপাকে পড়বে সঙ্গে দেশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারও।

মানুষ দীর্ঘায়ু হচ্ছে বিধায় নানা ধরনের রোগ যা আগে হয়তবা ছিল না তা এখন দেখা দিচ্ছে, যেমন পায়ুপথের সব রোগকেই বেশির ভাগ মানুষ পাইলস বলে জানে। পায়ুপথের রোগ মানেই পাইলস নয়। পায়ুপথে ফিসার, ফিস্টুলা, হেমোরয়েড, ফোড়া, প্রোলাপস, রক্ত জমাট, পলিপ বা টিউমার হতে পারে। সবগুলো ক্ষেত্রেই কোষ্ঠকাঠিন্য এর অন্যতম কারণ।

বয়স বেশি হলে এসব রোগের আড়ৎ জমে শরীরে। তারপর প্রোস্টেট ক্যান্সার পুরুষদের অন্যতম কমন একটি রোগ। পুরুষদের একটি প্রোস্টেট গ্রন্থি আছে, যেটি দিয়ে মূত্র এবং বীর্য প্রবাহিত হয়। মুত্রথলির নিচ থেকে যেখানে মূত্রনালি বের হয়, সেটির চারপাশ জুড়ে এই গ্রন্থিটি বিদ্যমান। এই গ্রন্থির ক্যান্সারকেই প্রোস্টেট ক্যান্সার বলে। পুরুষদের মধ্যে এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার হার অনেক বেশি।

সাধারণত ৫০ এর উপরে বয়স যত বাড়ে, পুরুষদের মধ্যে এই ক্যান্সারের ঝুঁকি তত বাড়তে থাকে। বিশ্বের অনেক দেশে এই ক্যান্সার পুরুষদের সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর কারণ। তাই নিয়মিত টেস্ট করানো অত্যন্ত জরুরী। মহিলাদের নানা ধরনের অসুখ যা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শরীরে এসে হাজির হয় তখন কি সম্ভব হবে সারাক্ষণ বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করানো? সে ক্ষেত্রে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির আশু প্রয়োজন।

তা না হলে বৃদ্ধ বয়সে যখন সমস্যা হবে সম্ভব হবে কি বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করা? তখন তো ক্ষমতা থাকবে না এখনকার মত, বয়সের কারণে চলাচলের সমস্যা হবে। কি হবে ভেবেছেন কি? দেশকে যদি সুন্দর করে গড়ে তোলার প্রবণতা না থাকে তবে কি দরকার ছিল তা স্বাধীন করার? নাকি যারা দেশের দায়ভার নিয়ে দেশ পরিচালনা করছে তারা চায়নি তখন দেশ স্বাধীন হোক?

আমি মনে করি সুন্দর এবং সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার আরেক নাম জীবন। আমাদের জীবন সব সময় সুন্দর নাও হতে পারে অসুস্থতার কারণে। এখন অসুস্থতাকে দূর করতে দরকার ভাল ওষুধ, সুন্দর চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং তার জন্য দরকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিকাঠামোর উন্নতি করা।

ভেজাল মুক্ত ওষুধ আর সৃজনশীল চিকিৎসাব্যবস্থা বাংলাকে সোনার বাংলা করার একটি পরিকল্পনা, একটি অঙ্গীকার। তাকে বাস্তবে রূপ দিতে যারা আগ্রহী তাদেরকে দেশের দায়ভার নিতে হবে, যদি বর্তমান সরকার এ দায়িত্ব পালনে বার্থ হয়।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত