করোনাভাইরাস: পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রোগ হচ্ছে ‘ভয়’

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ২০ মার্চ ২০২০, ১৬:২০:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

আমি শুধু অন্যের কথা নয় নিজের কথাও বলছি, তা হলো আমরা সবাই শুধু উপদেশ দিচ্ছি কি করতে হবে, কি না করতে হবে ইত্যাদির ওপর। সরকার তার মত করে চেষ্টা করছে। মিডিয়া নতুন পুরনো খবরে আমাদের জ্ঞানকে প্রসারিত করছে। আমরা নিজেরা চেষ্টা করছি কিভাবে একে অপরকে বিভ্রান্ত করতে পারি।

বর্তমানে করোনার চেয়েও নানা ধরনের খবরের বিস্তার হচ্ছে দ্রুততার সঙ্গে। এখন প্রশ্ন কোন খবরের গুরুত্ব কত বেশি? কোনটা শুনব, কোনটা পড়ব, কোনটা সত্য বা কোনটা সত্য নয় তা নিয়ে ভাবার সময় নেই আমাদের এখন।

চারিদিক শুধু গুজব আর গুজবের মহামারী চলছে অথচ যে কাজগুলো করনীয় তা কিন্তু আমরা সঠিকভাবে করছি না। গতকাল মাদ্রিদ থেকে একজন বাংলাদেশি ফোন করে বললেন ছোট বাচ্চার ‘হাম’ হয়েছে, তারা হাসপাতালে গিয়েছিল।

এদিকে বাংলাদেশে তার খবর ছড়িয়েছে, তার পুরো পরিবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে। এখন বাংলাদেশিদের কত জনের করোনা হয়েছে তা যেমন দেশে অজানা তেমন বিদেশেও। পৃথিবীর মানুষের করোনা ছাড়াও যে অন্যান্য রোগ ব্যাধি হতে পারে তা আমরা ভুলে গেছি।

এ পর্যন্ত পৃথিবীতে যত রোগের উৎপত্তি হয়েছে তার মধ্যে সব চেয়ে বড় রোগ হচ্ছে “ভয়” আর বাংলাদেশে বলতে গেলে ৯৯% লোকই সেই রোগটায় ভুগছে এবং আমরা নিজেরাই এর জন্য দায়ী।

লেখার লোকের সংখ্যা বেশি পড়ার লোকের বড্ড অভাব জেনেও অনুরোধ করছি ১০০% নিশ্চিত না হয়ে কোন কিছু লিখে বা ধর্মের নামে যা সত্য নয় তা লিখে মানুষের মধ্যে আতংকের সৃষ্টি করবেন না।

মানুষের বর্তমান ভয়ের মূল কারণ করোনা ভাইরাস। এটা একটি নতুন সমস্যা এর প্রতিরোধের কোন সমাধানে আমরা এখনও আসতে পারিনি তবে নানা ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে সমাধান পেতে।

যেমন চীন একভাবে কাজ করছে যা ইউরোপের সব জায়গায় প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করতে করতে আমরা ঠিকই এ সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করে ফেলব, তবে সময় এবং সাবধানতার দরকার।

আমাদের একটিই ভয় যা স্বাভাবিক তা হলো করোনা ভাইরাস একটি সমস্যা হয়ে ঢুকেছে এবং তার এখনও কোন সমাধান নেই আর এটাই এখন আতংকের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারা বিশ্ব বলছে শিশুদের মৃত্যুর হার শূন্য করোনায় বা তরুণদের ভয় নেই ইত্যাদি।

কথাটি সত্য কিন্তু তারাই কিন্তু রোগটাকে বেশি ছড়াচ্ছে। তাদের অসাবধানতাও যে এ রোগটি ছড়ানোর একটি বিশেষ কারণ সে দিকে আমাদের সচেতন হতে হবে। তারপর কি হবে বা কত দিন এ ভাবে চলবে তা আমরা কেউই নিশ্চিত নই।

সেক্ষেত্রে গোটা বিশ্বে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষ পত্রের জোগানের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। দোকানে খাবার থেকে শুরু করে ওষুধের ঘাটতি দেখা দিতে শুরু করেছে। অনেকে দরকারের চেয়ে বেশি কেনাকাটা করে তার বাসা ভর্তি করছে। ভাবছে না অন্যের কি হবে।

লন্ডনে বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং ভারতীয় দোকানগুলোর জিনিষ পত্রের দাম দ্বিগুণ করেছে। বাংলাদেশে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী এমনটি করছে, সেক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর সক্রিয় অংশগ্রহণ দরকার দেশের এই দুর্দিনে।

বিশ্ব করোনা প্রতিরোধক চিকিৎসার নিশ্চয়তা দিতে সক্ষম হবে, তবে বেশ সময় লাগবে গোটা বিশ্বের ভারসাম্য ফিরে পেতে। সেক্ষেত্রে দুষ্ট লোকেরা বরাবরের মত চেষ্টা করবে মানুষের নানা ধরনের দুর্বলতার সুযোগ নিতে।

তাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচিত হবে শুরু থেকে প্রোঅ্যাক্টিভ ভাবে দেশের এই দুর্দিনে জনগণের সাথে থাকা। যদিও ইতিমধ্যে সেনাবাহিনী ঢাকায় দুটি স্থানে করোনা ইস্যুতে সেবা দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এটা যেন অব্যাহত থাকে।

১৯৭১ সালে, বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী পাকিস্তানি অত্যাচারী ও বাংলাদেশ বিরোধী শক্তির হাত থেকে ৭৫ মিলিয়ন বাংলাদেশীদের মুক্ত করতে ভারত, তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং অন্যান্য বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলির সমর্থন নিয়ে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ করেছিল।

বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনগণের সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর সব সময় একটি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে আসছে। পদ্মা সেতু তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলছে।

আমি যথেষ্ট আশাবাদী বর্তমান কোভিড-১৯ সঙ্কটের সময়েও বাংলাদেশ সামরিক বাহিনী অবশ্যই এই করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

বাংলাদেশের হাসপাতালগুলো কঠিন অবস্থার মধ্যে ডুবে আছে। অতএব তারা করোনার রোগীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দিতে পারবে না। বিশাল সংকটের মধ্যে সরকার নিজেই গুরুতর অসুস্থ। হাসপাতালগুলো একাধিক রোগে আক্রান্ত রোগীদের সাথে প্রতিদিন পাঞ্জা লড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের একই হাসপাতালে রাখা অযৌক্তিক। এটা অন্যান্য রোগীদের বিভিন্ন উপায়ে মারাত্মক সর্বনাশ ডেকে আনবে।

সুতরাং সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে সামরিক কর্তৃপক্ষ কেবল করোনার ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য দেশের বিভিন্ন সেনানিবাসে বিশেষ যত্ন কেন্দ্র স্থাপনের কথা বিবেচনা করতে পারে। তারা সুশৃঙ্খলভাবে কাজ করতে অভ্যস্ত এবং যে কোন জরুরী অবস্থার মোকাবেলা করতে সক্ষম।

সামরিক বাহিনী প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত এবং তাৎপর্যপূর্ণভাবে সক্ষমতার সঙ্গে এ কাজ সম্পন্ন করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস। ১৭ কোটি বাঙালির এই দেশটি আবারও একাত্তরের মতো সেনাবাহিনীকে তাদের প্রয়োজনে পাশে পাবে তেমনটি আশা করি।

রহমান মৃধা, দূরপরবাস সুইডেন থেকে, [email protected]

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত